ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

সংবাদকর্মীদের রক্তের দাগ শুকানোর আগেই আবারও রক্তক্ষরণ। এগুলো কি হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। নির্যাতন বন্ধ করুন। আজ যদি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা না থাকে তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়। চোখ বুঁজে থাকবেন না মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। অনেক কষ্টে এ লেখাটি লিখতে হচ্ছে। আমি অফিস থেকে ফিরে পড়া-লেখায় মনোযোগ দিয়েছি। এমন সময় আমার সহকর্মী রেডিও টুডের রিপোর্টার আমাকে ফোন করে বিডি নিউজের সংবাদকর্মীদের উপর সন্ত্রাসী হামলার কথা জানালেন। এমন খবর শুনে মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেলো। এখন আমাদের হাতে কিছু নেই। তাই লিখছি। এ লেখার কথাগুলো আপনার কাছে পৌঁছাবে কি না জানি না মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এরপরও লিখছি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কার্যালয়ের সামনে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কর্মীরা। সোমবার রাতে মহাখালীর আমতলী এলাকায় এই হামলা হয়। সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে আহত সহসম্পাদক রিফাত নওয়াজ, প্রতিবেদক সালাউদ্দিন ওয়াহিদ প্রীতম এবং অফিস সহকারী রুহুল আমিনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলায় আহত রিফাত ও প্রীতমের পায়ে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে। তাদের নিচ তলা থেকে পঞ্চম তলায় আনার পরও পা থেকে রক্ত ঝরছিল।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এরআগে এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনী এবং তার স্বামী মাছরাঙা টেলিভিশনের নিউজ এডিটর সাগর সারওয়ারকে নিজ বাসায় খুন করে সন্ত্রাসীরা। দীর্ঘ দিন পার হলেও এর কোনও ক্লু বের করতে পারেনি পুলিশ।

গত ৭ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। এর পরও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা-নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ১০ মে ভোরের ডাক-এর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক তুহিন সানজিদকে র‌্যাব তুলে নিয়ে নির্যাতন করে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ১৪ মে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করায় কালের কণ্ঠ-এর পাবনার আঞ্চলিক প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল মামুনকে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী আক্রমণ করে আহত করে। পরদিন সমকাল ও এনটিভির পাবনা প্রতিনিধি এ বি এম ফজলুর রহমানের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হয়।

গত শনিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ঢাকা মহিলা পলিটেকনিকের ছাত্রীদের বিক্ষোভের ছবি তুলতে গিয়ে পুলিশের নির্মমতার শিকার হন প্রথম আলোর তিনজন আলোকচিত্র সাংবাদিক। তাঁরা হলেন খালেদ সরকার, জাহিদুল করিম ও সাজিদ হোসেন।

এই তিন আলোকচিত্রীর রক্ত শুকানোর আগেই আজ রাতে বিডি নিউজের তিন সহকর্মীকে কুপিয়েছে সন্ত্রাসীরা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক নির্যাতনের শেষ কোথায়। সাংবাদিকরাও মানুষ। তারাও জীবনের ও পেশাগত নিরাপত্তার অধিকার রাখেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী————।

সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা ও হত্যার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। গত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল এই চার মাসে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যাকান্ডসহ ১১০ জন গণমাধ্যমকর্মী পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েছেন।

মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান মহাজোট সরকারের গত তিন বছরে সাংবাদিক দলন ও নির্যাতনের ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, ২০০৯ সালে সারা দেশে বিভিন্ন ঘটনায় ১৪৫ জন সাংবাদিক পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। ২০১০ ও ২০১১ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ১৭৮ ও ২০৬ জনে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের সাড়ে তিন বছরে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী, ফরহাদ খাঁ দম্পতি, এনটিভির ভিডিও এডিটর আতিকুল ইসলামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৪ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন।

১৬ মে ঢাকার সিএমএম আদালতে বিএনপির নেতারা জামিন নিতে গেলে সেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশের লাঠিপেটায় পাঁচজন সাংবাদিক আহত হন। এর মধ্যে দিগন্ত টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান খলিলুর রহমানের ডান হাতের কবজি ভেঙে যায়। চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদক সাজিদ হক, এটিএন নিউজের কবিরুল ইসলাম, একুশে টেলিভিশনের আনিসুর রহমান খান পুলিশের লাঠিপেটায় মারাত্মকভাবে জখম হন।

মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের এপ্রিল মাসে ১৬ জন সাংবাদিক আহত, একজন হুমকির সম্মুখীন এবং একজন আক্রমণের শিকার হয়েছেন। জানুয়ারি থেকে মার্চ এই তিন মাসে দুজন সাংবাদিক নিহত, ৩০ জন আহত, ৩৫ জন হুমকির সম্মুখীন, দুজন আক্রমণের শিকার এবং ২৩ জন লাঞ্ছিত হয়েছেন।