ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

প্রিয় সাংবাদিক নেতারা, আপনাদের একটু শোনার অনুরোধ করছি। আমরা যারা সংবাদকর্মী তারা সবাই জানি আপনারা আমাদের রুটি-রুজি এবং পেশাগত মানোন্নয়নের জন্য নিবেদিত প্রাণ। গত কয়েকদিনে সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচিতে এর প্রমাণও রেখে চলেছেন।

কিন্তু চারদিকে অত্যাচারে আজ আমরা অতিষ্ঠ। এ নির্যাতন থেকে মুক্তির জন্য আপনাদেরই এগিয়ে আসতে হবে। মনটা খুব খারাপ হলো- ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেখে, ওই স্ট্যাটাসটি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের একটি ব্যানারকে তুলে ধরা হয়েছে। তাতে লেখা আছে, ‘সাংবাদিকরা আইনের ঊর্ধ্বে নয়-’। ব্যানারটি টাঙ্গিয়েছেন সচেতন সাংবাদিক সমাজ নামে। আমার কাছে মনে হয়েছে এটি একটি ভুয়া সংগঠন। এটি দিয়ে তারা কী বার্তা দিতে চাচ্ছেন তারা।

আজ সংবাদকর্মীরা যখন, বেড রুমে নিরাপদ নয়, রাস্তায় এমনকী নিজ অফিসেও নিরাপদ নয়। সেই সময় নিজেদের নিরাপত্তা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের নিরাপত্তা চেয়ে আপনাদের সঙ্গে আন্দোলন করছি। ঠিক সেই সময় সাংবাদিক নির্মূলের জন্য উস্কানিমূলক ব্যানার কিভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে টাঙ্গায়, এরা কারা তাদের চিহ্নিত করুন। তা না হলে হয়ত এক সময়, ওই উস্কানিদাতারাই আপনাদের আসন দখল করে নেবে।

আর দেশের সংবাদকর্মীদের উপর যখন পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা নির্যাতন করছেন, ঠিক তখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পরিবর্তে পুলিশ ও সন্ত্রাসীকে উসকে দিচ্ছেন আমাদের মন্ত্রীরা। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের পুলিশ থেকে দূরে থাকার কথা বলেছেন। কেনো? যে পুলিশ সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা দেবেন, তাদের অভিবাক কেনো তাদের থেকে দূরে থাকার কথা বললেন, মূল কারণ খুঁজে বের করেন মাননীয় সাংবাদিক নেতারা।

আজ মনে হচ্ছে সাংবাদিকরা মানুষ নয়, অন্য কোন প্রাণী, প্লিজ সাংবাদিক নেতারা আপনারা আমরা যারা সাধারণ সংবাদকর্মী তাদের জন্য না হয় নাই করলেন, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য অন্য সব পেশার মানুষের মতো নিরাপত্তাটুকু নিশ্চিত করতে কাজ করুন। আজ কোথাও যেতে পারছি না, যেখানেই যাচ্ছি, সেখানে সবাই বলেন, সাংবাদিক সাহেব পুলিশ থেকে নিরাপদ দূরে থাকুন।

মাননীয় সাংবাদিক নেতারা, আজ কিছু লোকের জন্য পুরো সাংবাদিক মহলের ভাবমূর্তি নষ্ট করবেন না। আমার প্রশ্ন দুই ধারায় বিভক্ত না হয়ে, সাংবাদিকদের এক হওয়ার সময় এসেছে। তা না হলে সাধারণ সাংবাদিকদের সঙ্গে আপনারাও নির্যাতনের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা, পুলিশ বা সন্ত্রাসীরা যারাই দেখবে, সাংবাদিকের পেটালে কিছু হয় না, তখন তারা বড় সাংবাদিকদেরও পেটাতে দ্বিধা করবে না। এজন্য নিজেদের স্বার্থেই আজ ঐক্যবদ্ধভাবে নির্যাতনের বিরুদ্ধে জেগে উঠুন, সাংবাদিক সমাজকে বাঁচান।