ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের সংবাদমাধ্যমে নিয়মিতই খবর বের হচ্ছে সাংবাদিক নির্যাতন ও খুনের। অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আজ শনিবার গণভবনে কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে বলছেন, ‘আমরা সরকারে আসার পর মিডিয়া সম্পূর্ণ স্বাধীনতা পাচ্ছে।’

আসলেই কী ঠিক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী? পত্রিকার রিপোর্টাররা আপনার মন্ত্রীর বিরুদ্ধে লিখলে, তাদের নির্যাতন করা হয়। এর নজির আমরা পাবনায় দেখালাম। গত ১৪ মে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করায় কালের কণ্ঠের পাবনার আঞ্চলিক প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল মামুনকে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী আক্রমণ করে আহত করে। পরদিন সমকাল ও এনটিভির পাবনা প্রতিনিধি এ বি এম ফজলুর রহমানের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হয়। এটাই কী সংবাদপত্রের স্বাধীনতা?

এর আগে সাগর-রুনি এবং ফরহাদ খাঁ দম্পত্তি নিজ নিজ বাসায় খুন হন। সাগর-রুনিকে কারা, কেনো খুন করেছে জানতে চায় সাংবাদিক সমাজ। বিনা কারণে কেনো নিজ বাসায় সাংবাদিক দম্পত্তি খুন হওয়া মানেই কী সাংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী?

এরপর ১৬ মে সিএমএম আদালতে দায়িত্বপালনকালে ৫ জন সংবাদকর্মী আহত হন। এরপর প্রথম আলোর তিন আলোকচিত্রীকে বেধরক মারপিট করে পুলিশ। এরপর পুলিশের হাতে সিএমএম আদালতে প্রথম আলো, কালের কন্ঠ ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের কোর্ট রিপোর্টারকে পুলিশ মারধর করে। শুধু পথে-ঘাটেই নয়, সন্ত্রাসীরা বিডি অফিসে গিয়ে হামলা চালায়।

এরপরও কী বলবেন, মিডিয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন। আর আপনার মন্ত্রীদের কথাও মনে হয় না, মিডিয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা আছে, পুলিশ থেকে সাংবাদিকদের দূরে থাকতে বলেছেন স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী। অথচ পুলিশের দেওয়া উচিৎ ছিল সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা। মন্ত্রীর এ ধরণের বক্তব্যে পর পুলিশ কী সংবাদকর্মীদের সহায়তা করবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী?

প্রতিদিন খুন, গুম ও নির্যাতিত হচ্ছে মানুষ, এরপর আপনার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা যে কোনও সময়ের চেয়ে ভালো। আইনমন্ত্রী সফিক আহমেদ বলেন, সাংবাদিক নির্যাতন-খুন সব দেশেই হয়। তার কথায় মনে হয় সাংবাদিক নির্যাতন স্বাভাবিক ঘটনা।

এরপর আপনার বক্তব্যেও শোনার পর আপনার মন্ত্রীদের মতোই মনে হয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। প্লিজ আপনার মন্ত্রীদের মুখ সামলান। আর আপনাকে মনে রাখতে হবে, আপনি দেশের প্রধানমন্ত্রী। আপনি কোনও দলের প্রধানমন্ত্রী নয়। তাই আপনার উচিৎ হবে, আগের সরকারের তুলনা দেওয়া। আপনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা। আপনি অনেক বড় ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। আপনার প্রতি আমাদের অনেক প্রত্যাশা। তাই আপনি সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ করুন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার বর্তমান সময়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তবে বেশ কিছু খাতে উন্নয়ন নয় আরও পেছনের দিকে যাচ্ছে। অথচ ওই সব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী উল্টাপাল্টা বক্তব্য দেওয়ার কারণে আপনার সমালোচনা শুনতে হয়। আর একটি কথা স্মরণ করে দেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সেটি হলো, সংবাদপত্র আপনার সরকারের সমালোচনা করে। এটি আপনা জন্য ভালো। সেই ভুলগুলো সংশোধন করে দেশ চালালে আপনারই উপকার।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছেও এ নির্যাতনের চিত্র আছে, তারপরও স্মরণ করে দেওয়ার জন্য লিখছি। একটি মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য অনুসারে সাংবাদিক নির্যাতন:- ২০০৯ সালে ১৯২ জন সাংবাদিক নির্যাতন, হামলা-মামলা, ও হুমকির সম্মুখীন হন। নিহত হন ৩ জন এবং তাদের প্রতি আক্রমন করা হয় ১৪৫টি। ২০১০ সালে ৪ জন সাংবাদিক নিহত হন। নির্যাতনের শিকার হন ২০৬ জন এবং তাদের প্রতি আক্রমন করা হয় ১৭৮টি। ২০১১ সালে সরকার দলীয় নেতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ৩০৫জন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং তাদের প্রতি আক্রমন করা হয় ২০৬টি। চলতি বছরে জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ২ জন সাংবাদিক খুন হন, এছাড়াও পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও পুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার হন ৩০ জন, হুমকির সম্মুখীন হন ৩২ জন এবং লাঞ্চিত হন ২২ জন সাংবাদিক। এপ্রিল মাসে ১৬ জন সাংবাদিক আহত, ১ জন হুমকির সম্মুখীন এবং ১ জন আক্রমনের শিকার হন।

সাংবাদিকরা আপনার দেশেরই নাগরিক। তাই তাদের পেশা ও জীবনের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব আপনারই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী…