ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

আগামী অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদে আজ বৃহস্পতিবার ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করছেন। এরমধ্যে ৫২ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট প্রস্তাব করেছেন তিনি। মুল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা, বৈদেশিক খাতের ভারসাম্যহীনতা দূর করতে বড় বাজেট দেওয়া ঠিকই আছে। কিন্তু বাজেটটি বাস্তব সম্মত হতে হবে। কিন্তু ঘাটতি বাজেটের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই মাননীয় অর্থমন্ত্রী।

আমরা জানি মাননীয় অর্থমন্ত্রী নির্বাচনকে সামনে রেখেই এটিই আপনাদের সরকারের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট। এজন্য রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। অপরদিকে দাতাগোষ্ঠীদের নানা চাপের মধ্যে আপনাকে তৈরি করতে হয়েছে বাজেট প্রস্তাবনা। এজন্য অনেক অপ্রিয় সিদ্ধান্তও আপনাকে নিতে হয়েছে। এটি ঠিক তাই বলে কী বাস্তবতা সঙ্গে মিল রাখবেন না মাননীয় অর্থমন্ত্রী?

বাজেট ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক উৎস থেকে ১৮ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এ বিষয়ে দেশের প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বললেন, চলতি অর্থবছরে যে পরিমাণ বৈদেশিক উৎস থেকে আয় হয়েছে, সে তুলনায় আগামী অর্থবছরের আয় করা সম্ভব নয়। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ খাত থেকে বাজেট ঘাটতি মেটাতে অর্থমন্ত্রী ব্যাংক বহির্ভূত খাত সঞ্চয়পত্র থেকে ৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা নেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র হচ্ছে-চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত ৩০০ কোটি টাকা আয় করেছে সরকার। দেশের অর্থনৈতিক চিত্র হঠাৎ করে কি পরিবর্তন হয়েছে, যে ৩০০ কোটি থেকে একবছরে ৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে সরকার?

মাননীয় অর্থমন্ত্রী আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে, তারল্য সংকটে দেশের অর্থনীতিতে দাবানল বয়ে গেলো। তা কি আপনার মনে নেই। কলমানি রেটে লাগল আগুন। টাকার সংকট শেয়ারবাজারে নামলো ধ্বস। এগুলো কী আপনার মনে নেই মাননীয় অর্থমন্ত্রী।

এজন্য আপনার উচিৎ ছিলো- বাস্তবসম্মত বাজেট ঘাটতির নির্দেশনা। আর মনে রাখবেন, ব্যাংক থেকে টাকা নিলে দেশের অর্থনীতিতে নামবে কালো আধার। কেননা মুল্যস্ফীতি বাড়বে। মুল্যস্ফীতি বাড়লে সাধারণ জনগণের কষ্ট বাড়বে। এজন্য বাজেট পাসের সময় বিষয়টি নজরে আনুন মাননীয় অর্থমন্ত্রী।

এ বিষয়ে কথা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ স্যারের সঙ্গে। তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে লোকের আয় বাড়েনি। তিনি মনে করেন, প্রকল্প বাস্তাবায়নে দুর্বলতা দূর করতে হবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকের উপর নির্ভরশীল হলে মুল্যস্ফীতি বাড়বে। এতে স্বল্প আয়ের মানুষের উপর কষ্ট বাড়বে। মাননীয় অর্থমন্ত্রী আমার এ প্রস্তাবটি কী একটু ভেবে দেখবে?