ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

বিভিন্ন পত্রিকার রেফারেন্সে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে চাকরি করে ভারতের নাগরিকরা ৩শ’৭১ কোটি মার্কিন ডলার বা ৩০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে। এই হিসেব প্রতি বছরের গড় একটি হিসেব মাত্র নাকি!
যে পনেরটি দেশ থেকে ভারত সর্বোচ্চ রেমিটেন্স আয় করে তার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৫ম। বিদেশী রেমিট্যান্স নিয়ে সিলিকন ইন্ডিয়ার যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তা পড়ে চমকে যেতে হয় আমাদের। বাংলাদেশে কর্মরত ৫ লাখ প্রবাসী ভারতীয় বছরে ৩৭১৬ মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাঠিয়ে থাকে।  পোশাক খাত, বিভিন্ন এনজিও, বীমা, বিজ্ঞাপনী সংস্থা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে তারা কর্মরত। বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্ট থেকে জানা যায়, কয়েক লাখ ভারতীয় ভিসা ও ওয়ার্কপারমিট ছাড়াই বছরের পর বছর এদেশে অবৈধভাবে বসবাস করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন । তারা শুধু চাকরিই করছেন না। নিজস্ব প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলেছেন। তাদের সেই সব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারিই ভারতীয়। তারা কোটি কোটি টাকা রোজগার করছেন, কিন্তু বিভিন্ন কায়দায় ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে আর্থিকভাবে  বাংলাদেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। তাদের একটি বড় অংশ এদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সাথে জড়িত। তারা উচ্চ বেতনে বড় বড় পদে কাজ করছেন। কিন্তু ট্যাক্স ফাঁকি দিতে ভিন্ন পদবি ব্যবহার করে প্রকৃত বেতন ভাতার পরিমাণ গোপন করছেন। তাদের সমান যোগ্যতা সম্পন্ন এদেশের নাগরিকদের মাসিক বেতন ৪০-৫০ হাজার টাকা হলেও বিদেশী বিশেষজ্ঞ দেখিয়ে ভারতীদের দেয়া হচ্ছে ২ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত। এতে দেশের বঞ্চিত নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হচ্ছে। হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে টাকা “পাচার” করছেন তারা।

শুধু ভারত নয় বাংলাদেশে প্রচুর শ্রীলংকানও অনেক উঁচু পদে কাজ করছেন, যারাও হুন্ডির মাধ্যমে টাকা নিয়ে যাচ্ছেন দেশ থেকে।

বাংলাদেশ থেকে চাকরি করে ভারতের নাগরিকরা ৩শ’৭১ কোটি মার্কিন ডলার বা ৩০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে চাকরি করে ভারতের নাগরিকরা ৩শ’৭১ কোটি মার্কিন ডলার বা ৩০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়, রাজস্ব বোর্ডসহ কারই যেন মাথা ব্যাথা নেই। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে বাড়ি ভাড়া নিয়ে বায়িং হাউজের রমরমা ব্যবসা করছেন তারা। বিভিন্ন সময় পর্যটক হিসেবে এরা বাংলাদেশে এলেও আর ফিরে যান না। বিভিন্ন হোটেল, এমএনসি, টেলিকমের উঁচুপদে প্রধান নির্বাহীসহ শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ভারতীয় নাগরিকরা। এছাড়াও ভারতীয়রা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানেও শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভারতীয়রা শিক্ষক, ইনস্ট্রাকটর পদে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছে।

এদেশের নাগরিকদের মাসিক বেতন ৪০-৫০ হাজার টাকা হলেও বিদেশী বিশেষজ্ঞ দেখিয়ে ভারতীদের দেয়া হচ্ছে ২ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত।

এদেশের নাগরিকদের মাসিক বেতন ৪০-৫০ হাজার টাকা হলেও বিদেশী বিশেষজ্ঞ দেখিয়ে ভারতীদের দেয়া হচ্ছে ২ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত।
বিজেএমই’র হিসেবে, বর্তমানে প্রায় পাঁচ হাজার তৈরি পোশাক কারখানায় ২২ হাজারের মতো বিদেশী কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত রয়েছে। এদের মধ্যে দেড় হাজারের বেশি ভারতীয় নাগরিক। ভারতীয়দের অধিকাংশেরই ওয়ার্কপারমিট এমন কি ভিসাও নেই।

এ দেশ থেকে কেউ বাইরের দেশে যেতে চাইলে তাকে আগে ওয়ার্ক পারমিট নিতে হয়, তারপর সেই ওয়ার্ক পারমিট দেখিয়ে ভিসার আবেদন করতে হয়। যে কাজের ওয়ার্ক পারমিট তিনি সংগ্রহ করেছেন সেই কাজের যোগ্যতার প্রমাণ দেখাতে না পারলে তাকে ভিসা দেয়া হয় না। কিন্তু এদেশে বিদেশীদের ভিসা দেয়ার সময় অনেক ক্ষেত্রেই এ নিয়ম মানা হচ্ছে না। ভারতীয়রা বিশেষ সুযোগ নিচ্ছে তা নিয়ে কথা বলার যেন কেউ নেই।

বিভিন্ন কারণে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ প্রতিবছরই আমাদের বাড়ছে। হাজার কোটি ডলারের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কের ৯০০ কোটি ডলারের বেশি যাচ্ছে ভারতে। আর ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছে ৬০ কোটি ডলারেরও কম।

বণিক বার্তা পত্রিকা থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য হয় বছরে ৬০০-৬৫০ কোটি ডলারের। এর মধ্যে ভারত থেকে বাংলাদেশ আমদানি করে ৫৫০-৬০০ কোটি ডলারের পণ্য। আর দেশটিতে রফতানি করে ৫০-৫৬ কোটি ডলারের পণ্য। ভারত গত বছর বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছে ৬ কোটি ডলার। আর বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় জনশক্তি পারিশ্রমিক হিসেবে দেশে নিয়ে যাচ্ছে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি।

আমি নিজে সম্প্রতি ফেসবুকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভারতীয় প্রশিক্ষকদের নিয়ে ট্রেনিং সেশন আয়োজনের স্পন্সরড পোস্ট দেখি। আমাদের দেশের প্রশিক্ষকদের মান খারাপ তাই বিদেশী প্রশিক্ষক? বিদেশী ভারতীয় প্রশিক্ষকদের ট্রেনিংয়ের নামে আমাদের কষ্টের টাকা তারা কি ভাবে ভারতে নিয়ে যাচ্ছে তার উত্তর কে জানে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-র শিক্ষক সাইফ নোমান খান সম্প্রতি এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সাইফ নোমান তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ” This is so unacceptable. The responsibility also lies with the Organizations who are employing illegal foreigners. They MUST ensure the actual service providers (whether directly employed or taking short term service through an agency) have a valid work permit. Organizations are surely taking a double standard when they take service from a foreigner through agencies and pay the agencies knowing very well the law is being broken. That way the organizations are getting themselves involved in serious crimes like money laundering. Hope they come to their senses. I hope this also is a wake up call for our regulators who are doing a good job now a days to combat Tax/VAT evasion.

The responsibility does not lie with the government only. The Corrupt organizations are the real culprits. They are helping this illegal activity by looking away and paying the agencies knowing fully well the actual service providers are foreigners and they have no work permit and involved in Money Laundering.

This is a particular case where I see the organizations taking the service as bigger culprits.”

এই বৈষম্য কেন মেনে নিব আমরা?

অর্থমন্ত্রী বা অর্থমন্ত্রণালয়ের কর্তারা বা রাজস্ব বোর্ড ভারতীয়রা বা বিদেশীরা হুন্ডির মাধ্যমে টাকা নিয়ে যেতে যেন না পারে সেদিকে একটু কি নজরদারি বাড়াতে পারে না?