ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

কয়েক মাস আগের কথা। ভার্সিটি থেকে ফেরার পথে লুবলিয়ানার (স্লোভেনিয়া) এক পার্কের বেঞ্চিতে বসে আকাশের দিকে তাকাতেই মজার একটি দৃশ্যে চোখ আটকে গেল। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তিনটি বিমান এমনভাবে উড়ে গেছে যে সেগুলোর ধোঁয়া থেকে প্রায় সমকোণী একটি ত্রিভূজের সৃষ্টি হয়েছে। ইউরোপের দেশগুলোর আকাশে ঢাকা শহরের মতো ধুলা, ধোঁয়া আর বিষাক্ত সীসা না থাকায় আকাশ খুব পরিস্কার থাকে; ফলে মাঝে মধ্যেই বিমান উড়তে দেখা যায় তবে সেই দৃশ্যটি ছিল সত্যিই বিরল।

চাকচিক্যময় শহরে বসেও ক্ষণিকের জন্য ফিরে গেলাম গ্রামের সেই মেঠোপথ, ছোট্ট খেলার মাঠে। মনে পড়ল ছোটবেলা দূর আকাশে মোটা রশির মতো দীর্ঘ সাদা ধোঁয়া মাঝে মধ্যে আমাদের নজর কাড়ত। ধোঁয়ার সামনের ছোট্ট বিমানটি দেখে ভাবতাম যারা ওসব দূরপাল্লার বিমানে চড়তে পারে তারা কতোই না ভাগ্যবান! আমার জীবনে কখনো বিমানে চড়া হবে কি না সেটা নিয়ে মাঝে মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব হতো; তবে ‘না’ এর পাল্লাটাই ভারী হতো। যদি কখনো সত্যি সত্যিই হয় তবে তা কতোটা রোমাঞ্চকর হবে সেটা ভেবে শেষ করতে পারতাম না। কিন্তু কেন যেন আমার শৈশব-কৈশরের অনেকগুলো ভাবনাই ইতোমধ্যে বাস্তবে পরিণত হয়েছে; ভাবনার বাইরেও পেয়েছি অনেক কিছু। হয়তো আমার স্ত্রীর ভাষায় আমি একটু বেশিই ‘প্রিভিলেজড্’ বলে!

পর্যটক শব্দের প্রাচীনরূপ ‘পরিব্রাজক’ শব্দটি শুনলেই স্কুলের ইতিহাস বইয়ে পড়া ইবনে বতুতা ও হিউয়েন সাঙদের কথা মনে পড়ত। সত্যি বলতে কী… তাদেরকে সাধারণ মানুষ বলে মনে হতো না; ভাবতাম মহামানবেরাই বুঝি পর্যটক হয়। তাছাড়া দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে হজ্জ্ব করা, তীর্থযাত্রা করা, সেই যুগে পাহাড়পুর (সোমপুর) বিহারে বিদেশী শিক্ষার্থীদের পড়তে আসা, কিংবা জ্ঞানার্জনের জন্য চীন দেশে যাবার উপদেশ ইত্যাদি বিষয়গুলোর মধ্যে কেমন যেন এক ধরণের পর্যটন বিষয়ক সংশ্লিষ্টতা অনুভব করতাম। সময় দ্রুত বদলে যাচ্ছে; যোগাযোগ ও প্রযুক্তির ঈর্ষণীয় সাফল্য আমাদের প্রজন্মের জন্য অনেক কিছুই সহজ করেছে। ফলে শুধু গুণীজনেরাই ঘর সংসার ছেড়ে পর্যটক হবার ধারণাও আমূল বদলে গেছে।

আমার মতো অতি সাধারণ একজন মানুষও খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে ডজন খানেক দেশের দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণের সুযোগ পেয়েছি। পড়াশোনাও করছি ইউরোপীয়ান ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে। তাই ভাবলাম প্রবাসের পথে পথে চলার সময় মনে দাগকাটার মতো বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত লিখতে চেষ্টা করব। তাতে যারা বাস্তবে এখনো সে সকল স্থানে যেতে পারেননি তারা যেমন ধারণা পাবেন তেমনি দর্শনীয় স্থানগুলির বর্ণনার পাশাপাশি পারিপার্শ্বিক চিত্রও তুলে ধরা যাবে। আগামী দিন থেকে শুরু করার প্রত্যায়ে আজ এখানেই শেষ করছি। এতক্ষণ লেখাটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ…