ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

বিশ্বের মিডিয়াগুলো ফলাও করে প্রচার করছে বর্তমান সরকারের দুর্নীতির গুন কিত্তন এবং একগুয়েমির হালচাল। একে তো বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে বহু আগে থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে সরকারের কঠোর সমালোচনা তার উপর বাড়তি যোগ হলো পদ্মা সেতুর দুর্নিতির হাতিয়ার। অন্দর মহলে কি হয় তাহাতো আর দুনিয়ার কোন মিডিয়ার জানার কথা নয় তাই বিরোধীদলের হাজার হৈ চৈ’র দিকে কেউ কান দিচ্ছেন না। যেই দুর্নীতিগুলো বিশ্ব ব্যাংক প্রমান সহ সরকারকে চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন, সরকার সেই ব্যপারে না জানার ভান করে ঘাপটি মেরে আছে। আচ্ছা বলুন এটা কি দেশের জনগন যে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন থাকার কারনে দেশের জনগনের কোন ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে তোয়াক্কা না করা? বিশ্বের সংস্থাগুলোকে তো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অধীনে না যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর দুর্নিতির ব্যাপারে খতিয়ে দেখবে কি দেখবে না তার দিকে তাকিয়ে থাকবে? তারা অনেক লম্বা সময় অপেক্ষা করে সরকারের কোন পজিটিভ ফলাফল না পেয়ে স্থায়ীভাবে পদ্মা সেতুর সাহায্য তহবিল বন্ধ করে দিয়েছে। যাহা শিরোনাম আকারে গতকাল ফলাও করে প্রচার করেছে বিশ্বের প্রভাবশালী গনমাধ্যমগুলো। খবরে বলা হয়, পদ্মা সেতুর ঠেন্ডার নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য সরবরাহ করার পরও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ।এমনকি ঐ দুর্নীতিবাজদের সরকারের উচ্চ পদে বহাল তবিয়তে রাখাতে শাস্তিস্বরুপ ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করে বহুজাতিক ঋণদানকারী সংস্থা বিশ্বব্যাংক।

সরকারের দুর্নীতির কারণে ঋণচুক্তি বাতিল করার খবরটি বিশ্বের প্রভাবশালী ২ শতাধিক এর ও বেশি গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম বিবিসি, কাতারভিত্তিক জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল আল জাজিরা, ভারতীয় টিভি স্টেশন এনডিটিভি ও আইবিএন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল, মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় সংবাদপত্র গালফ টাইমস, টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ বিশ্বের প্রায় সব গণমাধ্যমেই বর্তমান সরকারের দুর্নীতির খবর গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়।

এসব গণমাধ্যম ছাড়াও বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তিনটি সংবাদ সংস্থা রয়টার্স, এএফপি ও এপিও গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে দেশ বিদেশে বহুল আলোচিত এই দুর্নীতির সংবাদটি।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ব্যাপক দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক ঋণচুক্তি বাতিল করেছে। ওয়াল স্ট্রীট জার্নালের খবরে বলা হয়, দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য তথ্য রয়েছে অভিযোগ করে বিশ্বব্যাংক ঋণ চুক্তি থেকে সরে গিয়েছে। আল জাজিরা জানায়, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতির তদন্তে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পায়নি বলে ঋণচুক্তি বাতিল করেছে বিশ্বের প্রধান ঋণদাতা সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির তথ্য সরকারকে দিয়েছিল। কিন্তু সরকার কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। যার কারনে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ সরকারের কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করে এই কঠিন ব্যাবস্থা নিয়েছে।

***
মোহাম্মদ আব্দুল মতিন মুন্সি দাম্মাম সোদি আরব abdulmatin73