ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

পর্যবেক্ষক মহলের মতে মারাত্বক অবক্ষয়ের কবলে পড়েছে আমাদের বাংলাদেশ। আমরা দেখেছি এবং পড়েছি যে, গনতান্ত্রিক রাজনীতির কর্তব্য হেলো সমাজের মতামতের ভিক্তিতে পারস্সপরিক সমঝোতার ভিক্তিতে দেশেরে জন্য গুরুত্বপুর্ন বিষয়গুলির ব্যাপারে একমত প্রতিষ্ঠা করা।

এর মধ্যে রয়েছে আইনের শাসন, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সহিংস অপরাধ দমন, সবার জন্য সুবিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা বিধান করা।এছাড়া রয়েছে সকলের জন্য কর্মসংস্থান ও নিরাপদে ব্যাবসা বানিজ্য করার প্রসংগ।কিন্তু আলোচিত বিষয়গুলিতে জনসংখ্যাকে পূরনের কোন রোডম্যাপ সরকারের কর্মসুচিতে নাই। বরং দেখা যাচ্ছে তার উল্টা চাল-চিত্র ,যেমন দলবাজি, দুর্নীতি ও পেশিশক্তির অপশাসন । এ জন্যই পর্যবেক্ষকরা বলাবলি শুরু করেচেন ,যে সরকার নির্বাচিত হলেই গনতান্ত্রিক হয়ে যায় না। গনতান্ত্রিক হতে হলে সরকাররের রীতিনীতি এবং আদর্শ চর্চার কোন বিকল্প নাই। বর্তমানে সরকারি দল আওয়ামি লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতা-নেত্রী এবং যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডারদের সীমাহীন লোভ-লালসা, আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা ,দেশজুড়ে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ,ব্যাবসা দখল ,জমি দখল, বিশ্ববিদ্যালয় হল দখল ,প্রশাসন দখলের মধ্যদিয়ে দেশে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তাতে সরকারের প্রতিশ্রুতি রক্ষিত হচ্ছে না।বরং বলা যায় সরকার ওয়াদা পুরনে ব্যার্থ হওয়ায় দেশ ভুল পথে চলছে।

বর্তমানে দেশে যে অস্তিতিশীল পরিস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে তার বড় কারন হলো ছাত্রলীগ।ছাত্রলীগের তান্ডবে শুধু শিক্ষাংগনই নয় সামাজিক পরিবেশও হয়ে উঠেছে অশান্ত।হত্যা ,সহিংসতা ,টেন্ডারবাজি,শিক্ষক লান্চিত করা ,ছাত্রী উত্তক্ত করাসহ নানা অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে ছাত্রলীগ।প্রধানমন্ত্রী ,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আওয়ামিলিগের শীর্ষনেতাদের হুশিয়ারের পরও ছাত্রলীগের তান্ডব থামছেনা।ছাত্রলীগ ক্যাডারদের কাছে আজ পুলিশ -বাহিনীও অসহায় হয়ে পড়েছে।প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন স্থানে পুলিশ সহ আইনশৃংখলাবাহিনীর সদস্যরা নাজেহাল হচ্ছেন ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীদের হাতে। পরিস্তিতি এখন এমন পর্যায়ে উপনিত হয়েছে যে ছাত্রলীগের এককালের সভাপতি এবং বর্তমানে আওয়ামি লিগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদের পর্যন্ত বলতে বাধ্য হয়েছেন যে বেপরোয়া ছাত্রলীগকে দ্রুতবিচার ট্রাইবুনালে নেওয়া প্রয়োজন।বর্তমান সরকার দিনবদলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চেয়েছিলেন , এখন প্রতিশ্রুতি পালন তাদের দায়িত্ব , কিন্তু সরকার সেই দায়িত্ব পালনে ব্যার্থ হচ্ছে বলেই দেশে সৃষ্টি হয়েছে এক নৈরাজ্যের পরিস্থিতি।

এখন জনমনে প্রশ্ন জাগছে ,বিদ্যুত, পানি ,গ্যাস ও বেকারত্ব সমস্যা দুরীকরনে সরকারের হয়তো কিছুটা সময়ের প্রয়োজন -কিন্তু নিজেদের আয়ত্বাধীন ছাত্রলীগ-যুবলীগের তান্ডব নিয়ন্ত্রনে সরকার ব্যার্থ হচ্ছে কেন? এ ক্ষেত্রে তো প্রশাসন এবং প্রতিরক্ষা বিভাগের সদিচ্ছাই যথেষ্ট।পর্যবেক্ষক মহলের প্রশ্ন ,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন ছাত্র হত্যার ঘটনায় শুধু অভিযোগের ভিক্তিতে অন্য একটি ছাত্র-সংগঠনের বিরুদ্ধে সরকার যে কঠোর ভুমিকা নিয়েছিল এবং পুলিশ যেভাবে সারাদেশ চিরুনি অভিযান চালিয়েছিল , তার শতভাগের একভাগ ভুমিকা পালনেও কি সরকার অক্ষম ? আসলে কথা কি শুধু মুখের কথায় চিড়ে ভিজে না । আমরা মনে করি ,কথামালার সংস্কৃতি পরিত্যাগ করে কার্যকর ভুমিকা পালনে এখন সরকারকে আন্তরিক হতে হবে।আর তাহলে ছাত্রলীগ-যুবলীগের তান্ডব অবশ্যই নিয়ন্ত্রনে আসবে