ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

সেকুলারিজম বা ধর্মনিরেপক্ষতাবাদ বর্তমান বিশ্বে বহুল প্রচলিত বিতর্কিত একটি মতবাদ। এই মতবাদের মুল কথা হলো ,পরিবার ,সমাজ ও রাষ্ট ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানগুলো হবে ধর্মের বিধিবিধান মুক্ত। ধর্মের ব্যাবহার শুধু ব্যাক্তিগত জীবনে সীমাবদ্ধ থাকবে। সমাজ বা রাষ্ট্রপরিচালনায় ধর্মের ব্যাবহার নিষেধ থাকবে। বিশ্বমানবতার জন্য অভিশাপ স্বরুপ এই দর্শনটির উৎপত্তি ঘটেছিল , ইউরোপের ধর্মযাজকদের জুলুম নির্যাতনের খড়গহস্তকে নিষ্ক্রিয় করার জন্য মজলুম জনতা এই মতবাদের আবিস্কার করেছিলেন।বাংলাদেশের সংবিধানের ৪র্থ সংশোধনীতে যে ৪টি মুলনীতি সন্নিবেশ করা হয় তার মধ্যে ধর্মনিরেপেক্ষতা হলো অন্যতম। ৫ম সংশোধনীর মাধ্যমে আমাদের সংবিধানকে ততকালিন সরকার পুর্নাংগ ধর্মনিরেপক্ষ মুক্ত করেছিল।ধর্মনিরপেক্ষতা মুসলমান রাষ্ট্রের জনগনের আকিদা বিশ্বাসের সাথে ছিল সাংঘর্ষিক , যার কারনে তখনকার সরকার প্রধানের নজরে সর্বপ্রথম এই বিষয়টি প্রধান্য পেয়েছিল।ধর্মনিরেপক্ষতাবাদ হলো ইহলোকিক, ইহজাগতিক ,পার্থিব এবং পরকারল বিমুখতা। ধর্মনিরপেক্ষতার সংগায় বলা হয়েছে এটি এমন এক দর্শন যা সকল প্রকার ধর্মদর্শনকে নাকচ করে দেয়। আরা বলা হয়েছে এটা এমন এক মতবাদ যার মতে ,রাষ্ট্র,নৈতিকতা ,শিক্ষা ইত্যাদি সবকিছু ধর্মমুক্ত থাকবে।

সর্বপ্রথম খৃস্টপূর্ব ৫ম শতকে গ্রিকরা দর্শনচ্চা করতে গিয়ে ধর্মনিরেপক্ষতার আবির্ভাব ঘটায় ,যারা এসময় গ্রিসে দর্শনচ্চা করত তাদেরকে বলা হয় হয় সোফিস্ট ,আর এই সোফিসদের নেতা ছিল সক্রেটিস।সক্রেটিসের চিন্তাধারাতে ধর্মনিরেপক্ষতার প্রভাব লক্ষ্য করা গিয়েছিল ।পরবর্তিতে রোমান সম্রাজ্যেও এর প্রভাব লক্ষ করা যায়।ধর্মনিরেপক্ষতার আধুনিক বিকাশ ঘটে মধ্যযুগের শেষের দিকে। ১৯ শতকের মাঝামাঝিতে এসে ধর্মনিরেপক্ষতাবাদ একটি স্বতন্ত্র ও বিশেষ মতবাদ হিসেবে আবির্ভুত হয়।এসময় ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের মুল প্রবক্তা ছিলেন জ্যাকব হলিয়ক -(১৮১৭-১৯০৪) তিনি প্রথমত ধর্মের প্রতি সহানুভুতিশীল ছিলেন ,পাদ্রিদের কর্মকান্ডে চার্চের প্রতি বিমুখ হয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত ১৮৪১ সালে সম্পুর্নভাবে চার্চ ত্যাগ করেন। বাকি জীবন তিনি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে যান।

পরিশেষে বলা যায় যে, চার্চের যাজকদের অত্যাচারের বিরোধিতা করতে গিয়ে ধর্মের বিরোধিতা থেকে যে ভ্রান্ত ধর্মনিরপেক্ষতার জন্ম হয়েছে তা কখনো মুনুষকে মুক্তি দিতে পারবেনা ,বরং উল্টা হবে ধর্মহীনতার সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্র আরো অধিকহারে জনগনের উপর নিপিড়ন চালানোর সুযোগ পাবে।এছাড়া ধর্মনিরেপক্ষতাবাদের উদ্ভব হয়েছে খৃস্টধর্মের চার্চের যাজকদের অত্যাচারের বিরোধিতা করতে গিয়ে ,তাই সংগত কারনেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশে এই দর্শনের প্রয়োগ অযেীক্তিক। তাই এই পশ্চিমাদের একটি মারাত্বক অস্র যার সাহায্যে ক্রমাগতভাবে মুসলমানদের আকিদা-বিশ্বাসকে ধ্বংস করে তারা তাদের ধর্ম, সংস্কৃতি বিস্তারের ক্ষেত্রে প্রয়াস চালাচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে প্রত্যেকটি দেশেই সেই দেশের কিছু দোসর নিয়োগ করেছে ,যারা নিজেদের জাতিসত্তার কথা বিসর্জন দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের কথা বলে থাকে।আমাদের দেশেও এর ব্যাতিক্রম নয়।

উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে ,ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ হলো ইসলামবিরোধী দর্শন বা মতবাদ। একজন মুসলমান কখনই এই দশনের ধারক বা বাহক হতে পারেনা । তাই এখন আপনি বা আমরা আমাদের অবস্থান নির্নয় করি ,,,,, আপনি কি ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে – না বিপক্ষে?

হ্যা – না