ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

পদ্মা সেতুর চাদার ভাগাভাগি নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধ হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার শিরোনাম দেখে সত্যি অবাক হতে হলো । পদ্মা সেতুর নামে নতুন করে মানুষদেরকে হয়রানী করে চাদা উঠনো , সাধারন ছাত্র-ছাত্রীদেরকে চাদা দিতে বাদ্ধ করা , ইত্যাদি কাজগুলোকে দেখলে মনে হচ্ছে যে চাদা বাজির নতুন কৌশল হিসেবে পদ্মা সেতুর নাম করে টাকা আদায় করা হচ্ছে ।

সরকারের উদ্দেশ্য কি ? সেটা ওনারা ভাল জানেন । তবে সার্বিক অবস্থার আলোকে দেশের অর্থনিতিবীদরা যেই মন্তব্য করেছেন তাতে মনে হচ্ছে এই ভাবে খয়রাতির টাকা দিয়ে কখনোও পদ্মা সেতুর মতন বিশাল একটা প্রকল্প সম্পন্ন করা সম্ভব না ।

কিছু আছে দৃশ্যমান বিষয় আর কিছু অদৃশ্যমান বিষয় , কোন এজেন্ডার উপর নির্ভর করে যে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ করতে চাচ্ছেন সেটা নিয়ে গুন্জরনের কোন শেষ নেই । সত্যি কথা বলতে কি , পদ্মা সেতুটা করার ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাকের সাথে রেশারেশি করাটা কি সার্বিকভাবে আমাদের জন্য ভাল হবে ? আমাদের দেশের অবকাঠামোগত যত উন্নয়নমুলক কাজ হয়ে থাকে তার বেশীরভাগ অর্থ কিন্তু বিশ্বব্যাংক থেকে আসে , সেই দিকে পর্যালোচনা করে অংকটা করা , সরকারের জন্য ভাল হবে বলে অনেকেই মত দিয়েছেন।

নিজেস্ব অর্থায়ন বলতে নিজেদের টাকায় বুঝায় , জনগন থেকে চাদা উঠিয়ে সেতু করাকে বুঝায় না। আর যদি বলেন যে চাদা উঠিয়ে পদ্মা সেতুর মতন এতবড় প্রকল্প করবেন তাহাও করতে পারেন । তবে সেই চাঁদাটা কিন্তু স্ফূর্তভাবে হতে হবে । দেখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাধারন শিক্ষাথী ও শিক্ষকদের থেকে চাদা উত্তলন করলো ছাত্রলীগ কর্মীরা , আর সেই টাকা নিয়ে নিজেদের ভিতর কত নির্জল্যভাবে ভাগাভাগি করতে গিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করল , এমনকি সংঘর্ষর মতন পরিস্থতি সৃষ্টি করে একটা ছাত্রকে জীবন দিতে হলো । সেতু হবে কি হবে না সেটাতো ভিন্ন কথা , কিন্তু চাদা উত্তোলনের কাজে দায়ভার এড়াতে গিয়ে যেই ছাত্রকে জীবন দিলো , তার পরিবারের যেই শুন্যতা তৈরী হলো , সেই শুন্যতা কি দিয়ে পুরন করবেন সরকার ? আপনি সমবেদনা জানাবেন ? আমরা সমবেদনা জানাব ? দেশের জনগন সমবেদনা জানাবে? কিন্তু সমবেদনা জানালেই কি তাদের পারিবারিক শুন্যতা পুরন হবে ?

তাই পদ্মা সেতুর মতন এতবড় প্রকল্প নিজেদের অর্থায়নে করার মতন সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে সমঝোতার পথে আসলে দেশের জন্য কল্যান হবে , জানমালের ক্ষতি হবে না এবং বিশৃংখলাও সৃষ্টি হবে না । তাই আসুন আমরা আমাদের দেশের উন্নয়নে যেই কোন কাজ বিশ্ব পরিস্থিতির সমালোচনার উর্দ্ধে থেকে করি।