ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

বাংলাদেশীদের কাছে অনেক অর্থ আছে , কিন্তু নাই মন । আমার ভাইয়ের রক্তে রাংগানো লাল সবুজের পতাকাকে সম্মান করি ঠিকই ,কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন ফলাই না । বাংলাদেশের বিশেষ বিশেষ দিনে নিজেকে বাংগালী বলে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ ঠিকই করি ,দেশের জনগনকে ঘৃনা করি । আমার কথা শুনে ঘাবড়াবেন না । পশ্চিমা দেশগুলিতে আমাদের বাংলাদেশিরা এতবেশী অর্থনৈতিক সফলতা অর্জন করেছে যে ওখানকার স্থানীয় মার্কেটে বড় বড় হোটেল রেস্তোরা ,আবাসিক হোটেল সহ অনেক ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশীদের মালিকানায় চলে । সেখানে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যায় করা হইয়াছে , শত শত কর্মচারী কাজ করছে । শুনতে আমাদের কাছে খুবই ভাল লাগে । কিন্তু প্রশ্ন হলো এনারা যেই সমস্ত প্রতিষ্ঠান বিদেশের বুকে প্রতিষ্ঠা করেছেন সেই গুলা যদি দেশের ভিতর স্থাপিত হতো তবে দরিদ্র জনগোষ্টির বড় একটা অংশ এর থেকে উপকৃত হইতে পারতো। ওনারা লাল-সবুজের পতাকাকে মুখেই শুধু ভালবাসায় সীমাবদ্ধ থাকতো না , বাস্তবে তার রেশ সাধারন লোকে ভোগ করতে পাতো ।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতেও এমন অনেক বাংলাদেশীদের দেখা পাইবেন ,যাহারা দেশে বিনিয়োগ করতে একবারে নারাজ । যদি জিজ্ঞাসা করেন যে দেশে কিছু বিনিয়োগ করেন না , যাতে আমাদের সমাজের দরিদ্রসমাজ উপকৃত হয় । আপনারা দয়া করবেন না ,দান ও করবেন না গরিবরা দয়া চাচ্ছে না , কাজ চাচ্ছে । ওনাদের যেই প্রশ্ন থাকে তাহার উত্তর রাজনীতিবিদদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব হয় না । দেশে বিনিয়োগের কথা আর সামনের দিকে অগ্রসর হতে পারে না ,ওখানেই মুখ থুবড়ে পড়ে যায়।

আপনারা যে যতটুকু পারেন দেশের মঙ্গল কামনায় আত্মনিয়োগ করুন । দেশের বারোটা বাজে যেই কাজে, সেখানে বিভেদ সৃষ্টি করে হানাহানি তৈরী করবেন না ,এতে দেশ পিছে যাবে । বিভেদ হীন দেশ বা জাতী অগ্রসর হতে কোন প্রতিবন্ধক থাকে না ।

তাই আসুন আমরা যদি আমাদের দেশকে ভালবাসি তবে দেশের কল্যাণে রাজনৈতিক হিংসা ,বিভেদ ভুলে একত্রে কাজ করি ।

আজই যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্টদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা মন্তব্য করেছেন ,যে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা অনেক কঠিন ।পরিবেশ বান্ধব অবস্থা নাই , বিরোধী দলের যেমন আন্তরিকতার অভাব ,তেমনি সরকারী দলেরও কৌশলের অভাব রয়েছে । পদ্মা সেতুর ব্যাপারে তিনি আরো বিরূপ মন্তব্য করেছেন।

***
সুত্র