ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ)নবী হওয়ার আগে মক্কার লোকদের কাছে ভাল মানুষ হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি ভাল বিশ্বাসী হিসেবেও সুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন ।

নবুয়ত প্রাপ্তির পরে কিন্তু সেই অর্জন আর টিকে থাকলোনা । বিভিন্ন রকমভাবে অত্যাচার হতে লাগলো নবীর উপর ,ওনার সংগি সাথিদের উপর এবং নব দিক্ষিত লোকদের উপর । বিভিন্নরকম নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে আল্লাহর হুকুমে মদিনায় হিযরত করেন । অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে যখন বিজয়ের নিকটবর্তি হলেন ,তখন ছিল ১৯শে রমজান হিজরতে মাত্র ৮ বছর পার করেছেন । এই ৮ বছর পরে আল্লাহর নবী ১০ হাজার সাহাবী নিয়ে ওমরাহ করার জন্য মক্কাভিমুখে রওয়ানা দিলেন ।
মক্কায় এতদিন যারা নবী মুহাম্মদ (সঃ)কে নবী বলে অস্বীকার করতো ,বিরোধীতা করতো ,নবীকে হত্যা করার জন্য উদ্গ্রিব ছিল ,আজ তারা ভয়ে আতংকিত হয়ে গেল।

আল্লাহর রাসুল তাদের এই অবস্থা বুঝতে পেরে ঘোষনা দিলেন ৩ জায়গায় সাধারন ক্ষমা ঘোষনা করা হলো । অস্রবিহীন নিজের ঘরে অবস্থান করা , মক্কার ঘরে অস্থান করা এবং কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ানের ঘরে যারা অস্থান করবে আজকে তাদেরকে সাধারন ক্ষমা ঘোষনা করা হলো । তবে চিহ্নিত কিছু লোককে আজ ক্ষমা করতে পারলাম না ।

সেই দিন মক্কা বিজয়ে আল্লাহর রাসুল এই ঘোষনা দিতেই দলে দলে লোক নবীর দলে যোগ দিতে শুরু করলো । দুনিয়াতে শান্তি ফিরে এলো ,সেই শান্তি আজও আবর দেশগুলিতে কোথাও কোথাও বিরাজ করছে। কি সেই মহত্ব ? সেই চিন্তাটা কি ছিল ? সেই উদারতা কি ছিল ?

আমরাতো সেই নবীর পরবর্তি অনুস্বরনকারী তাই না ? আমরা যদি আজ সেই সময়কার চিন্তা চেতনাকে নিজেদের মধ্যে লালন করতে পারি তবে আমাদের সমাজেও শান্তি আসবে । পরাজিত গুষ্টি বা দলকে যদি আমরা আজও ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখতে পারি তবে আমাদের সোনার বাংলা সোনাতে পরিনত হবে ।

তাই আসুন আমরা ১৯শে রমজানের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমা করার মনমানসিকতা তৈরী করি ,এতে করে আমরাও মুক্তি পাবো এবং প্রতিপক্ষও তাদের কৃত কর্মের সংশোধন করে নতুন কিছুর দিকে অগ্রসর হবে । আল্লাহ আমাদের সকলকে রমজানের সঠিক বানিকে আমাদের বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোর তওফিক দেন ।