ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

মিয়ানমারে রাখাইন-রোহিঙ্গা সাম্প্রদায়িক ভয়াবহ দাঙ্গা আমরা অত্যন্ত বেদনার সাথে প্রত্যক্ষ করছি। এর প্রভাব সরাসরি এসেছে পড়েছে আমাদের উপর, যেহেতু আমরা তাদের প্রতিবেশী এবং যেহেতু আমাদের সীমান্তে সহায়হীন মানুষেরা আশ্রয়ের জন্য উপস্থিত। আমরা এখন উভয়-সংকটে পড়েছি। তাদেরকে আশ্রয় দেয়ার নৈতিক বাধ্যতা আমাদের উপর এবং একই সাথে আমাদের সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা আমাদেরকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। তবে একে কেন্দ্র করে আমরা যে রাজনৈতিক খেলায় নেমেছি তার কদর্যতাও আমাদেরকে হতবাক করেছে।

এমন নির্মম অত্যাচারের বা যে কোন অত্যাচারের ঘটনায় অত্যাচারীর ধর্ম ন্যায়পরায়ণ মানুষের চিন্তায়, ভাবনায় ও কথায় প্রধান হয়ে উঠতে পারে না। ঠিক তেমনই, অত্যাচারিতকে সহায়তা করার প্রশ্নেও তার ধর্ম কী তা জিজ্ঞাস্য হতে পারে না, তা বিবেচ্য হতে পারে না। কিন্তু একটি মহল অত্যন্ত কৌশলে তা নিয়ে প্রচারণায় নেমেছে। ভাষা, শব্দচয়ন ও আবেদনের সুর থেকেই তাদের সাম্প্রদায়িক ও দুরভিসন্ধিমূলক চরিত্রটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

মানুষের দুঃখের ঘটনা, আশ্রয়হীন হয়ে উঠার ঘটনা জানাজানি হবে তা স্বাভাবিক, আমরা সমবেতভাবে প্রতিকারের চিন্তা করব তা আমাদের কর্তব্য। কিন্তু তা নিয়ে রাজনীতি করব, সরকারকে কোন সহায়তা না করে তাকে বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্র করব এটা কী করে মেনে নেয়া যায়? এরূপ কৌশলীরা নিজেরাই তো আদতে মানুষের যন্ত্রণাকে নিয়ে ব্যবসায় লিপ্ত হয়েছে। আমরা এই রাজনৈতিক কৌশল আগেও দেখেছি। উমাইয়ারা নিহত উসমানের স্ত্রীর কর্তিত আঙ্গুল পথে পথে প্রদর্শন করে মানুষকে উত্তেজিত করেছিল। ন্যায় বিচারের কর্তব্যকে তারা রাজনীতির কৌশলে পরিণত করেছিল। এখনও আমরা দেখছি দাঙ্গাটিকে অবলম্বন করে কোন কোন মহল ধর্মকে প্রধান করে তুলেছে ও ভয়ংকর প্রোপাগান্ডায় লিপ্ত হয়েছে।

অপরদিকে আমরা হতবাক হই অপর পক্ষের কঠোর প্রতিক্রিয়ায়। যেন রোহিঙ্গারা মানুষই নয়, তারা আমাদের সমবেদনার পাত্রই নয়। তাদের প্রতি পড়শি হিসেবে আমাদের যেন কোন দায়িত্বই নেই। মানুষের সামর্থ্যের অভাব নতুন কিছু নয়। অসহায় সাহায্য প্রার্থীকে সেই অক্ষমতা জানানোর ভাষা আছে, শব্দ আছে, সুর আছে। তাদের কারও কারও ভাষায় যেন শব্দের ঘাটতি আছে।

আশ্রয় দেয়ার ব্যাপারে সরকার নিজ বিবেচনায় যা ভাল মনে করে তা করুক। তবে তারপরও সরকারের প্রতি আবেদন, পড়শির কর্তব্যে অবহেলা করবেন না। তৎপরতা বাড়ান। বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করুন। তাদেরকে এগিয়ে আসতে বলুন। তারা যখন সীমান্ত খুলে দিতে বলেছেন, তখন আমাদের সমস্যার কথা শোনা এবং রোহিঙ্গাদের যন্ত্রণার অবসানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে তাদেরকে এগিয়ে আসার জন্য আমাদের আহ্বানে সাড়া দেয়া এখন তাদের কর্তব্যে পরিণত হয়েছে।

আর একটি বিষয়ে কিছু বলে রাখা ভাল হবে বলেই মনে হয়। আমাদের দেশেও বৌদ্ধরা রয়েছেন, রয়েছেন রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষেরাও। দেশের সীমান্তে তারাও হয়তো উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন। মতলববাজরা নিষ্ঠুরতায় কম যাবে না। সরকারকে ও জনগণকে এজন্য সতর্ক হতে হবে যেন তাদের মনে কোনরূপ শঙ্কা বিরাজ না করে। যারা ধর্মের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে উস্কানি দেয় তারা নিজেদেরকে চিনতে চেষ্টা করুক। এবং কোনরূপ নিষ্ঠুর নারকী কাজে কেউ যদি প্রকাশ্যে এগিয়ে আসে তবে তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করতে যেন সরকারের বিলম্ব না হয়। সরকারের প্রতি আরও আবেদন, অবস্থার বিবেচনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় যা যা করতে হয় তাতে যেন কোন ঘাটতি না হয়।

n

বিষয়ভিত্তিক বিভাজনসহ ব্লগসূচী