ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

১.১। আমি আগের লেখা ‘ঘৃণার তত্ত্ব বনাম তারিক রামাদান’-এ ‘ওয়ালা এবং বারাআ’ নীতি নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। কোন মানুষ বা মানুষের সম্প্রদায়কে ঘৃণা করার ও তাদের সাথে শত্রুতা করার কোন বৈধ ভিত্তি কোরানে আমি পাইনি। বরং মনোযোগ দিয়ে সমগ্র কোরান পড়লে দেখা যেতে পারে যে, কোরানে অহিংসা, মমতা ও ন্যায়ের নীতি সুগভীর, সংহত ও যুক্তিসঙ্গত ভাবে বিধৃত হয়ে আছে। নবীর সমগ্র জীবনও এর স্বাক্ষী। ঘৃণার তত্ত্বের প্রবর্তক, পোষক ও প্রচারকরা কোরানের যেসব আয়াত নিজেদের সমর্থনে উদ্ধৃত করেন সেগুলো নিয়ে একে একে আলোচনা করাই আমার এখনকার উদ্দেশ্য। আজ কোরানের ৬০নং সুরা মুমতাহানা’র ৪নং আয়াতটি নিয়ে আমরা আলোচনা করব, যেখানে শত্রুতা ও ঘৃণার কথা আছে; এবং দেখতে চেষ্টা করব সেখানে ভুলটি কোথায় হচ্ছে।

১.২। “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য ভাবনা ও আচরণের সুন্দর প্যাটার্ন রয়েছে ইব্রাহিম ও তার সঙ্গীদের মধ্যে, যখন তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিল, “অবশ্যই আমরা নিজেদেরকে অসম্পর্কিত করছি তোমাদের থেকে ও আল্লাহ বাদে আর যাদের উপাসনা তোমরা করছ তাদের থেকে। আমরা তোমাদেরকে প্রত্যাখ্যান করলাম; এবং আমাদের ও তোমাদের মধ্যে প্রতিভাত হয়েছে শত্রুতা ও ঘৃণা, যা স্থায়ী হবে তোমরা এক আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন না করা অবধি।” (দেখুন কোরান ৬০:৪)

১.৩। এখানে অসম্পর্কিত করা, নিজেদেরকে দূরে সরিয়ে নেয়া বা মুক্ত করা বুঝাতে আরবিতে ‘বারাআ’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। এটি মুসলিম মাত্রেরই প্রথম গ্রহণীয় সিদ্ধান্ত। কিন্তু ‘বারাআ’ অর্থ কাউকে ঘৃণা করা নয়, বা কারও কাছ থেকে দৈশিকভাবে দূরে সরে যাওয়া নয়, মানুষ হিসেবে মানুষের সম্পর্ককে ছিন্ন করা নয়। কারণ একথা বলে তো ইব্রাহিম (আলায়হিস সালাম) তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে দেশ ছেড়ে চলে যাননি। যীশু (আলায়হিস সালাম) ও তাঁর সঙ্গীরাও তা করেননি। মুহম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর উপর বিশ্বাস স্থাপনকারীরাও দীর্ঘ তের বছর মক্কায় ছিলেন। নবুয়তের প্রথম দিন থেকেই তিনি অংশীবাদীদের ও তাদের অংশীবাদীতা থেকে নিঃসম্পর্ক ছিলেন। কিন্তু এই সম্পর্কহীনতার অর্থ তো তাদের সাথে সামাজিক সম্পর্ক, আত্মীয়তার সম্পর্ক, প্রতিবেশীর সম্পর্ক, সহপথচারীর সম্পর্ক, সহকর্মীর সম্পর্ক, মানবিক সম্পর্ক ইত্যাদি অস্বীকার করা নয়।

১.৪। তা যদি হবে তবে যারা নবীদেরকে গ্রহণ করেন না তাদের সাথে আমরা সুন্দর ও ন্যায়ানুগ আচরণ করব কিভাবে? এটা যে আমাদের কর্তব্য তা কে অস্বীকার করতে পারেন, যদি তিনি সম্পূর্ণ কোরান মন দিয়ে পড়ে থাকেন ও নবীকে উত্তম আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেন? নিঃসন্দেহে সকল সুন্দর ও ন্যায়ানুগ আচরণ আচরণকারীর পক্ষ থেকে সুসম্পর্কের নির্দেশক। উপরের আয়াতের তাৎপর্য এটি যে, আমরা তোমাদের অংশীবাদীতা ও তা সংক্রান্তে তোমাদের থেকে নিজেদেরকে অসম্পর্কিত করলাম, আমরা তোমাদের অংশীবাদীতা থেকে মুক্ত থাকব এবং তোমাদের জন্য তোমাদের এই কাজের ফলাফল থেকে আমরা দায়মুক্ত থাকব; এবং তোমাদের অংশীবাদীতার আদর্শ আমরা প্রত্যাখ্যান করলাম, সে অনুসারে আমরা নিজেদেরকে গড়ে তুলব না। মানুষ একজনের কথা, দাবী, মত, তত্ত্ব, আদর্শ, অবস্থানকেই প্রত্যাখ্যান করে—এর বাহক মানুষকে অবধারিতভাবে প্রত্যাখ্যান করে না। নবীরা তাদের বিরোধীদের তত্ত্বগত দাবী বা অবস্থানকে প্রত্যাখ্যান করেন; কিন্তু তাদেরকে যারা রুদ্ধ করতে চায় তারা কথাকেও প্রত্যাখ্যান করে এবং কথার বাহকের সাথেও সম্পর্ক ছিন্ন করে।

১.৫। মুসলিমদের উপর যখন কুরাইশরা অত্যাচার করছিল তখন নবী তাদেরকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, “আমি নবী হিসেবে করা আমার কাজের বিনিময়ে তোমাদের কাছে তো কোন পারিশ্রমিক চাচ্ছি না, চাচ্ছি কেবল আত্মীয়তার স্নেহ।” (দেখুন কোরান ৪২:২৩)। এদ্বারা তখনকার আরব সমাজ কর্তৃক সার্বজনীনভাবে গৃহীত নৈতিক নিয়মের প্রতি অত্যাচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায় এবং দেখানো যায় কিভাবে তারা নিজেদের নিয়ম মুসলিমদের বেলায় ভঙ্গ করে চলেছে। আরবরা গর্ভ থেকে জাত সম্পর্ককে উচ্চ মূল্য দিত। কিন্তু আল্লাহ ছাড়া আর কারও উপাসনা করব না—কেবলমাত্র এ কথার জন্য তারা মুসলিমদের বেলায় সব অস্বীকার করে বসল। তাহলে নবী কোন যুক্তিতে তাঁর ধর্মকে কেবল মাত্র অস্বীকার করার বিপরীতে তাদের সাথে এই সম্পর্ক অস্বীকার করতে পারেন? ধর্ম, বর্ণ, জাতি নির্বিশেষে আমরা সকল মানুষ এই গর্ভ জাত আত্মীয়তার সম্পর্কে আবদ্ধ—যে সম্পর্ক মুসলিম অস্বীকার করতে পারে না। এই সম্পর্কই হচ্ছে বিশ্বজনীন বা সার্বজনীন ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক।

১.৬। সুরা নিসা’র প্রথম আয়াতে আল্লাহ বলছেন, “হে মানুষ, তোমরা তোমাদের প্রভু সম্বন্ধে সজাগ থাক, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন একটিমাত্র সত্ত্বা থেকে, এবং তা থেকে তার সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, এবং উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন অসংখ্য পুরুষ ও নারী। এবং সজাগ থাক আল্লাহ সম্বন্ধে যাঁর ভিত্তিতে তোমরা পরস্পরের নিকট অধিকার দাবী কর, এবং গর্ভ সম্বন্ধে। অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের উপর সার্বক্ষণিক দর্শক।” (কোরান ৪:১)। সমস্ত মানবজাতিকে আল্লাহ একটিমাত্র সত্ত্বা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি গর্ভ থেকে জাত সম্পর্ক সম্বন্ধে সজাগ থাকতে বলেছেন যেন তা ছিন্ন করা না হয়। এই গর্ভ থেকে জাত সম্পর্ক এমন একটি বিষয়গত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত—আদর্শের, ধর্মের বা তত্ত্বের ভিন্নতা যে ভিত্তিকে বিলুপ্ত করতে পারে না, সম্পর্ককে পরিত্যাজ্য করে তুলতে পারে না। যে স্বপ্রণোদিত হয়ে ঘৃণা ও শত্রুতা সৃষ্টি করে সে এই সম্পর্ককে অস্বীকার করে, ছিন্ন করে।

১.৭। এ প্রসঙ্গে মুসলিমদের মধ্যে প্রচলিত ‘ধর্মীয় ভাই’ ও ‘মানবিক ভাই’ এর অর্থ পরিষ্কার করা যেতে পারে। ধর্ম অর্থ দ্বীন, দ্বীন অর্থ আনুগত্য। দুজন বিশ্বাসী একে অপরের ভাই হয় উভয়ের আনুগত্যের ভিত্তিতে। যেহেতু উভয়ই নবীদের অনুসারী এবং আল্লাহর অনুজ্ঞার অনুবর্তী তাই এই ভ্রাতৃত্ব পারস্পরিক, দ্বিপাক্ষিক। কিন্তু যারা নবীদেরকে রুদ্ধ করতে চায় তারা তাঁদের সাথে সম্পর্ককে অস্বীকার করে। কিন্তু এই অস্বীকৃতি ও অত্যাচার সত্ত্বেও নবীরা সম্পর্ক ছিন্ন করেন না, তখনও তারা অপর পক্ষকে ভাই বলেই জানেন ও মানেন—এখানে ভ্রাতৃত্বটা একপাক্ষিক।

১.৮। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ কোরানের সুরা বাকারা’র ২১৩ আয়াতে বলছেন, “মানবজাতি আদিতে ছিল একটি উম্মাহ। তারপর আল্লাহ নবীদেরকে সুসংবাদ ও সতর্কতার বাণীসহ উত্থিত করলেন, তাদের সাথে অবতীর্ণ করলেন সত্যসহ গ্রন্থ, যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছিল সে বিষয়ে মানুষের মধ্যে মীমাংসার নিমিত্তে। তাদের কাছে পরিষ্কার প্রমাণ আসার পরও যাদেরকে তা দেয়া হয়েছিল তাতে মতভেদ করল কেবল নিজেরে মধ্যে ঈর্ষা-বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে। আল্লাহ নিজ অনুমোদনক্রমে বিশ্বাসীদেরকে সুপথের দিশা দিলেন যে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছিল তা সংক্রান্তে। আল্লাহ যাকে চান তাকে সরল-প্রতিষ্ঠিত পথের দিশা দিয়ে থাকেন।”

১.৯। আমরা এই আয়াতে যা দেখতে পাই তা হলো ঈর্ষা বা বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে মতভেদ করার মধ্যেই রয়েছে ভ্রষ্টতা। যে তত্ত্ব বিদ্বেষ থেকে উদ্ভূত এবং যে তত্ত্ব বিদ্বেষের উপর প্রতিষ্ঠিত উভয়ই সরল ও সুপরিমিত পথ থেকে মানুষকে বিচ্যুত করে। এরূপ তত্ত্ব যে মনোভাব থেকে জাত বা যে মনোভাব তৈরি করে তা চিন্তায় প্রজ্ঞার উন্মেষকে প্রতিহত করে এবং তত্ত্বাধিকারীকে ঠেলে দেয় অহংকার ও হিংসার পথে, দূরে সরিয়ে দেয় মমতা ও ন্যায় থেকে। নিজ বিশ্বাসের কারণে বিশ্বাসীরা অন্যদের থেকে ভিন্ন মত পোষণ করে, নিজ আদর্শের ভিত্তিতে নিজেদেরকে গড়ে তোলে। কিন্তু এই ভিন্ন মত অন্যদের প্রতি ঈর্ষা বা বিদ্বেষের ফল নয়—এ নিয়ে তারা বিতণ্ডা করেন না, বিরোধের সূত্রপাত করেন না, এর ভিত্তিতে মানবজাতিকে বিভক্ত করতে চান না। ঈর্ষা বোঝাতে যে আরবি শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে তা হলো ‘বাগ্ইয়ান’—যার মূলে অন্বেষণ করা, অনুমোদন করা, পীড়ন করার দ্যোতনাও বিদ্যমান। অর্থাৎ ঈর্ষা-বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে নবীরা নিজেদেরকে মানবসমাজ থেকে খারিজ করেন না, খারিজ হওয়ার ভিত্তি খুঁজেন না এবং খারিজ হয়ে উৎপীড়নের পথ ধরেন না। অর্থাৎ তারা নানা মত, ধর্ম ও সংস্কৃতি নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করতে চান, সমবেতভাবে ভাল ও মঙ্গলের জন্য কাজ করতে চান এবং ঐক্য ও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চান। নবীদের আগমনের উদ্দেশ্যই ছিল ঐক্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। ঘৃণার ও শত্রুতার নীতি নিয়ে নবীরা একাজ কিভাবে করতে পারেন? (আরও দেখুন কোরান ৪২: ১৪-১৫)।

১.১০। এবার আমরা বিবেচ্য আয়াত ৬০:৪ এর ‘প্রতিভাত’ শব্দটি—যা কিনা সবচে গুরুত্বপূর্ণ শব্দ—নিয়ে আলোচনা করব। বলা হয়েছে, ‘আমাদের ও তোমাদের মধ্যে প্রতিভাত হয়েছে শত্রুতা ও ঘৃণা।’ এখানে আরবিতে ‘বাদা’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ: প্রতিভাত হওয়া, প্রকাশিত হওয়া, উদ্ভাসিত হওয়া, প্রতীয়মান হওয়া, অবভাসিত হওয়া ইত্যাদি, ইংরেজিতে যার বিশেষ্য রূপ হচ্ছে appearance। কোন কিছু ‘প্রতিভাত বা প্রকাশিত হওয়ার’ অর্থ এই নয় যে, বক্তা নিজেই এরূপ ‘হওয়ার’ পেছনে সক্রিয় সংঘটক হিসেবে ক্রিয়া করেছেন। ইব্রাহিমের বিরুদ্ধপক্ষ এটি সংঘটিত করেছে এবং ইব্রাহিমের কাছে সেটি প্রকাশিত হয়েছে মাত্র। এটি বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা হিসেবেও ঘটেনি—ঘটছিল সংঘবদ্ধদের পরিকল্পনার ভিত্তিতে, যা জয়ী না হওয়া পর্যন্ত শেষ হওয়ার ছিল না। ‘আবাদান’ শব্দের অর্থ ‘স্থায়ীভাবে ধারাবাহিক’। ইব্রাহিম আল্লাহ ব্যতীত আর কারও উপাসনা না করার নীতি ত্যাগ করবেন না, আবার তারাও ইব্রাহিমকে ছাড়বে না যতক্ষণ না তিনি তাদের আদর্শে ফিরে না আসেন—যে কারণে তিনি আয়াতের শেষ কথাটি, যা হতে পারে তাঁর যৌক্তিক উপলব্ধি, বলে থাকতে পারেন।

১.১১। আলোচ্য আয়াতের শেষ অংশে ইব্রাহিম তাঁর পিতার জন্য প্রার্থনার কথাটি এসেছে। প্রার্থনা কাজটি আল্লাহ অনুমোদন করেননি বটে, কিন্তু এ থেকে এ প্রশ্ন করা যেতে পারে যে, তিনি যদি ঘৃণা ও শত্রুতাই করবেন তবে প্রার্থনা করতে গেলেন কিভাবে? মনের যে বৈশিষ্ট্যের কারণে তিনি প্রার্থনা করার অঙ্গীকার বা প্রার্থনা করেছিলেন তার বর্ণনাও আমার কোরানে পাই। ইব্রাহিম কোমলহৃদয়, সহনশীল ছিলেন বলে কোরানের ৭:১১৪ ও ১১:৭৫ আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কোমলতা ও সহনশীলতা তাঁর শত্রুদের পর্যন্ত প্রসারিত ছিল—যা পরিহার করতে আল্লাহ বলেননি। ইব্রাহিম যদি আমাদের জন্য আদর্শ হন তবে সর্বপ্রসারিত কোমলতা ও সহনশীলতাও আমাদের আদর্শ। এই অননুমোদনের মাধ্যমে অংশীবাদীর পক্ষে তার অংশীবাদীতা সত্ত্বেও চূড়ান্ত বিচারে ক্ষমার জন্য আল্লাহর নিকট ওকালতি করা নিষিদ্ধ হয়—তাদেরকে ঘৃণা বা তাদের সাথে শত্রুতা করার দিকে নির্দেশ এ থেকে পাওয়া যায় না। ইব্রাহিম ও তাঁর সঙ্গীদের প্রার্থনার একটি অংশ এরকম, যা ৫নং আয়াতে উল্লেখিত হয়েছে: “হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে তুমি প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য বিভ্রান্তির উৎস করো না।” এই প্রার্থনার মর্ম কি হতে পারে? ইব্রাহিম ও তাঁর সঙ্গীরা কিভাবে বিভ্রান্তির উৎস বা কারণ হতে পারেন? এই চরম বিরোধপূর্ণ অবস্থায়—যা সৃষ্টি করেছে তাঁদের বিরোধীরা—যদি এমন নাজুক অবস্থায় তাঁর সঙ্গীদের সুউচ্চ বিচারিক ও নৈতিক মান সামান্যও ক্ষুণ্ণ হয়, তাঁরা নিজেরাই হিংসা-দ্বেষ বা শত্রুতামূলক কাজের প্রলোভন বা টেম্পটেশনে ভুলবশত সামান্যতম সাড়াও দিয়ে বসেন তবে বিরোধী শিবিরের সাধারণ মানুষেরা আরও বিভ্রান্তিকর অবস্থার মধ্যে নিপতিত হবে।

১.১২। অন্য ধর্মাবলম্বী বা মতাবলম্বীদের সাথে সামাজিকভাবে পৃথক হয়ে যাওয়া, নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকা এবং তাদের সাথে ঘৃণা ও শত্রুতার সম্পর্ক স্থাপন করার সাথে এ আয়াতের কোন সম্পর্ক নেই। ‘বারাআ’ ও ‘বাদা’ শব্দ দুটির অর্থ টুইস্ট করে ও অবৈধ উল্লম্ফনের মাধ্যমে কেউ কেউ এর সামগ্রিক অর্থের মধ্যে একটি বিপদজনক বিকৃতি এনেছেন—যে তাৎপর্য নবীদের জীবনের সাথে চরমভাবে সাংঘর্ষিক এবং কোরানের সামগ্রিক শিক্ষার সাথেও সাংঘর্ষিক।

আমরা আগামী অংশে এই সুরা মুমতাহানা’র ১-৩ ও ৭-৯নং আয়াত নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করব।

n

বিষয়ভিত্তিক বিভাজনসহ ব্লগসূচী