ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

আমি যখন ছোট ছিলুম তখন রচনা বই থেকে ‘একটি গাছের আত্মকথা’ মুখস্থ করেছিলুম। বইয়ের লেখককে পেলে শুধতুম—জন্মেছিলে মানুষ হয়ে, মিছেমিছি বানিয়ে বানিয়ে গাছের নামে জীবনী লিখতে তোমাকে দিব্যি দিয়ে কে বলেছিল গাছ হওয়ার ভান করতে! আর আমারইবা কি নিয়তি দেখ!—মানুষ হয়ে গাছের জীবনী লিখি, তা-ও আবার পরের লেখা চুরি করে।

শুনেছি, মুসলিমদের প্রথম প্রতিনিধি আবুবকর গাছদেরকে নাকি বেজায় হিংসে করতো—কেঁদে কেঁদে বুক ভাসিয়ে বলতো, আহা! মানুষ না হয়ে যদি গাছ হয়ে জন্মাতুম। তাকে পেলেও শুধতুম, নবীর সত্য বন্ধু, জন্মেছিলে বন্ধনহীন মরুভূয়ে উদার আকাশের নীচে, আর মানুষ না হয়ে মাটির সাথে আটকে থাকা গাছ হয়ে জন্মানোর সাধ জাগল কেন তোমার মনে! জন্মের কথা শুনলে আমার প্রায়ই মনে পরে চতুর্থ প্রতিনিধি আলীর কথা। মায়ের পেটের ভেতর থেকে বেরিয়েই সে পড়েছিল আল্লাহর ঘরের ভেতর। শুনেছি শেষ জীবনে কেঁদে কেঁদে সে কথা বলতো কুপের সাথে। তাকে পেলেও শুধতুম, কাবা’র ভেতর জন্ম নেয়া বাঙময় কোরান,* আবদ্ধ জলের সাথে তোমার এত কিসের কথা।

আমি যখন জন্মেছিলুম আমার মা তখন জেলখানায়। আমি মায়ের পেট থেকে বেরিয়ে জেলের গরাদের ভেতর এসে পড়লে মা আমার কানে কানে বলেছিল, তুই স্বাধীন। আমার মায়ের নোলক ছিল না—কোন দিনই নোলক পরেনি। কবি’র মায়ের নোলক ছিল। তা হারিয়ে গেলে ছেলে খুঁজে খুঁজে হয়রান। শুধাই বেজিরে, শুধাই সাপেরে। কোথায় পাই কবির মায়ের হারিয়ে যাওয়া সোনার নোলক!

—-

* সিফফিনের যুদ্ধে যখন উমাইয়াদের চরম পরাজয় আসন্ন হয়ে উঠেছিল তখন বর্শায় কোরান বেঁধে তারা সন্ধির প্রস্তাব দিয়েছিল, যদিও যুদ্ধ শুরুর আগে তারা আলীর সব সন্ধি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল। বর্শায় বিদ্ধ কোরানের পাতা দেখে খারেজিরা আর যুদ্ধ করতে নারাজ হয়ে উঠলে আলী তাদেরকে উমাইয়াদের চালাকিতে বোকা না হয়ে তাঁর কথামত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে বলতে গিয়ে বলেছিলেন, “আই এম দি স্পিকিং কোরান।”

n

বিষয়ভিত্তিক বিভাজনসহ ব্লগসূচী