ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক


১। আমাদের প্রার্থনার বিষয়াবলীকে আমরা দুটি প্রধান ক্যাটাগরিতে ভাগ করতে পারি—নৈতিক জীবনে উৎকর্ষতা সাধন সংক্রান্ত এবং জীবনে ভোগের সামগ্রী সংক্রান্ত। নৈতিক মূল্যমানের সম্পর্ক একদিকে আমাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সাথে এবং অপরদিকে চূড়ান্ত বিচারে বা অনন্তের প্রেক্ষাপটে জীবনের মূল্য, তাৎপর্য, উদ্দেশ্য, সাফল্য ও সুফলপ্রসূতার সাথে। ভোগের সামগ্রীর সম্পর্ক আমাদের কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য এই ছয় রিপুর সাথে। ভোগের সামগ্রী যে কেবল বস্তুগত তা নয়; তা বিমূর্তও হতে পারে—যেমন: প্রতিপত্তি, আভিজাত্য, প্রতিশোধ গ্রহণে সাফল্য ইত্যাদি। এগুলো কেবলমাত্র ইহজীবনের গণ্ডীতে আবদ্ধ ও তামসিক-রাজসিক ভাবনা বা আবেগ প্রসূত। এই প্রাপ্তিগুলো ক্ষণস্থায়ী—যা আমরা সকলেই জানি—ব্যক্তির মৃত্যু বা মানবজাতির মৃত্যু বা জগতের মৃত্যু বা কালপ্রবাহের সাথে সাথে এগুলো বিলুপ্ত হয় বা হবে।

২। আমার প্রার্থনার বিষয়সমূহ আমার বৌদ্ধিক উৎকর্ষতা ও ব্যক্তিতাশালীতার বলিষ্ঠতার মান নির্দেশ করে। আমি যা ইচ্ছা তা-ই কি প্রার্থনা করতে পারি? অন্য মানুষের কাছেও আমাকে এটা-ওটা চাইতে হয়। কিন্তু এখানে আমি দেখতে পাই যে, চাওয়া-চাওয়ির ব্যাপারে বাধা হিসেবে আত্মসম্মানবোধ কাজ করে। আত্মসম্মানবোধের কারণে আমি অন্যজনের কাছে যা ইচ্ছা তা চাই না, চাইতে চাই না। কিন্তু আল্লাহর বেলায় তো একথা খাটে না। আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণকারী আল্লাহর নিকট চাইতে লজ্জা বোধ করে না, অহংকার করে না। কিন্তু তাই বলে কি তাঁর কাছেও যা ইচ্ছা তা-ই চাওয়া যায়? প্রশ্ন হচ্ছে, আল্লাহর নিকট প্রার্থনার বেলায় নীতিগুলো কী হতে পারে যা প্রার্থনার বিষয় নির্ধারণে প্রয়োগ করা সম্ভব, বা প্রযুক্ত হওয়া উচিত?

৩। মুসলিমের কর্তব্য আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করা। সে আল্লাহকে তার কামনা-বাসনার ধন সরবরাহকারীর ভূমিকায় প্রত্যাশা করতে পারে না। করা হলে ব্যাপারটা উল্টে যায়—অর্থাৎ সে যেন বলছে, হে আল্লাহ তুমি আমার কাছে আত্মসমর্পণ কর। তাহলে কি আমরা আল্লাহর কাছে কোন কিছুই প্রার্থনা করবো না? তিনি যা স্থির করবেন তা নিয়েই বিনা প্রার্থনায় আমাদের তুষ্ট থাকা উচিৎ? না, বিষয়টি সেরকম হলে আল্লাহ কোরানে আমাদেরকে প্রার্থনা করতে না বলে বরং তা করতে নিষেধ করতেন। আমরা কোরানে প্রচুর প্রার্থনার নজীর দেখতে পাই—যা ‘রাব্বানা’ (হে আমাদের প্রতিপালক) ও ‘রাব্বি’ (হে আমার প্রতিপালক) শব্দ দিয়ে শুরু হয়েছে। আমরা যদি আমাদের অস্তিত্বের প্রকৃতি ও কর্তব্যভারের বিশালতাকে বুঝতে পারি এবং ভবিষ্যতের প্রেক্ষাপটে আমাদের নাজুক অবস্থান সম্বন্ধে সজাগ হতে পারি তবে এই সমস্যার একটি সুরাহা খুঁজে পাব বা প্রার্থনার বিষয় ও ভাষা সম্বন্ধে একটি পথ খুঁজে পাব।

৪। চূড়ান্ত বিচারে জীবনের ব্যর্থতা এমন একটি অর্জন যা নিয়ে কেউ সন্তুষ্ট থাকতে পারে না বা পারবে না—এটি একটি মর্মভেদী, অসহনীয় যন্ত্রণা স্বরূপ। এভাবে টিকে থাকা—না বেঁচে থাকা, না ধ্বংস হওয়া। ইহজীবনে আমি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েও সেটিকে আল্লাহর ইচ্ছা মেনে শান্ত ও সন্তুষ্ট থাকতে পারি। তাছাড়া এই ক্ষতি আমার জীবনকে চূড়ান্ত বিচারে ব্যর্থ করে দেয় না। কিন্তু জীবনের চরম ব্যর্থতা বলে যদি কিছু থাকে তা হচ্ছে আল্লাহর বিচারে বা দৃষ্টিতে ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়ে কেউ বলতে পারবে না যে, আল্লাহর ইচ্ছায় আমি ব্যর্থ হয়েছি, তাঁর ইচ্ছাই আমার জীবনে রূপায়িত হোক, এতেই আমি আনন্দিত ও সন্তুষ্ট। তাই নিজের এই অস্তিত্ব-ভাবনা থেকে মুসলিম আল্লাহর নিকট এই পরিণাম থেকে আশ্রয় বা মুক্তি প্রার্থনা করে। এই প্রার্থনা তাকে যুক্ত করে জীবনের সাথে, মূল্যবোধের সাথে, কর্তব্যভার সম্বন্ধে সচেতনতার সাথে। আল্লাহ চান আমরা জীবনে সফল হই। আল্লাহর বিচারে সফলতা বলতে যা বুঝায় সেই সফলতা অর্জনের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় অবলম্বনগুলোর জন্য প্রার্থনা আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করার সাথে বিরোধাত্মক নয়—বরং এটি আল্লাহর ইচ্ছার সাথে নিজেকে জ্ঞানগত দিকে থেকে যুক্ত করা।

৫। আমরা এমন বিষয়ের জন্য প্রার্থনা করতে পারি যা আমাদের কাম্য বটে; কিন্তু আল্লাহও যা দেবেন বলে আমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি হবার কারণে এরূপ প্রার্থনা নিজের কামনা-বাসনা তাড়িত প্রার্থনা হয়ে আর থাকছে না; বরং তাঁর ইচ্ছার কাছেই নিজেকে সমর্পণ করে রাখা হচ্ছে। ভাল কাজ করলে আল্লাহ ভাল ফল দেবেন—এটি তাঁর প্রতিশ্রুতি। কাজেই আমরা ভাল কাজ করে আল্লাহর কাছে ভাল ফল প্রার্থনা করতে পারি। প্রশ্ন হতে পারে—আমি ভাল কাজ করবো এবং আল্লাহ তার ভাল ফল দেবেন—এখানে প্রার্থনার কি আছে? কিন্তু কে এরূপ অবস্থান গ্রহণ করতে পারেন? নিশ্চয়ই তিনি যিনি মনে করেন যে, তিনি যে ভাল কাজটি করেছেন তা নিখুঁত ও পরিপূর্ণ। নিজ সামর্থ্য সম্বন্ধে এরূপ ধারণা অজ্ঞতা ও অহংকার প্রসূত। মানুষের মধ্যে প্রজ্ঞাসম্পন্ন ও ন্যায়পরায়ণ কে আছেন যিনি এরূপ অবস্থান নিতে পারেন? ফলে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি—তিনি ভাল কাজের ভাল ফল দেবেন—কোন মিথ্যাচার ও অহংকারের বিপরীতে পূর্ণ হওয়ার আশা করা যায় না। একজন মুসলিম তাই ভাল কাজ করেন এবং আল্লাহর কাছে কাজের ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এভাবে তিনি ভাল কাজের ভাল ফল আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি যেহেতু কর্মের শর্ত সাপেক্ষ তাই মুসলিম সদা সৎকর্মচঞ্চল থাকে; আবার প্রার্থনা তাকে স্থাপন করে একটি বিনীত অবস্থানে। ফলে বীরত্ব ও বিনয়—পরস্পর বিরুদ্ধ দুটি গুণ—একই মুসলিম সত্তায় সমভাবে স্ফুট হয়ে উঠে। একজন ওমর ও একজন আলেক্সান্ডারের মধ্যে পার্থক্যটি এখানে।

৬। সুখ, আনন্দ, স্ফূর্তি জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য না-ও হতে পারে। কেউ কেউ যেমন বলতে পারেন যে, তিনি খাওয়ার জন্য বেঁচে থাকেন না—বাঁচার জন্য খেয়ে থাকেন; তেমনই কারও কারও পক্ষে একথা বলাও সম্ভব যে, তিনি সুখ-আনন্দ-বিনোদনের উদ্দেশ্যে জীবনকে বিনিয়োগ করেন না—বরং জীবনকে কর্মক্ষম রাখার জন্য কিঞ্চিত বিনোদনের আশ্রয় নেন। কিন্তু যন্ত্রণা, কষ্ট, দুঃখ প্রকৃতিগতভাবেই সুখ থেকে ভিন্ন। আনন্দের আধিক্য ছাড়াই মানুষ সাফল্যের পথে অগ্রসর হতে পারে—আনন্দের আধিক্য বরং সেই পথ-পরিক্রমণে বিঘ্ন স্বরূপ। কিন্তু যন্ত্রণার আধিক্য আমাদের কাছে সব দিক থেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত। এটি সফলতার পথে গুরুতর বাধা তৈরি করে। আমরা নবীর সাহাবীদেরকে খেজুরের ফলন ভিত্তিক কোন উৎসবে আনন্দে মেতে উঠতে দেখিনা বটে; কিন্তু অনাবৃষ্টিতে খুব কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হলে তাদেরকে সমবেতভাবে প্রার্থনা করতে দেখা গিয়েছে। এ ধরণের প্রার্থনা অন্যদের যন্ত্রণা লাঘবের প্রার্থনা যা মমতার বহিঃপ্রকাশ।

৭। আল্লাহতে সমর্পিতজন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, আবার তিনি আল্লাহর উপর নির্ভর করেও চলেন। এই নির্ভরতার একটি প্রকাশ ঘটে আল্লাহর নামে কাজ আরম্ভ করার মাধ্যমে। কোথায় আমরা দোয়া করবো আর কোথায় বিসমিল্লাহ বলব? অথবা, কিসের জন্য আমরা প্রার্থনা করবো ও কোন ক্ষেত্রে আমরা আল্লাহর উপর নির্ভর করে কাজ করে যাব? এ প্রশ্নের উত্তরে একটি সূত্র আমরা লিখতে পারি এভাবে: জীবনের চূড়ান্ত সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়াদির জন্য প্রার্থনা কর এবং জাগতিক ক্রিয়াকলাপে জগতের নিয়মগুলো জেনে সেমত কাজ কর ও আল্লাহর উপর নির্ভর করে চল। আমরা নিজ শ্রমে খাবার যোগাড় করি, বিসমিল্লাহ বলে খাওয়া শুরু করি, খাওয়া শেষে আলহামদুলিল্লাহ বলি; কিন্তু ভাল ভাল খাবারের জন্য প্রার্থনা করি না।

৮। আরেকটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। অধিক ফসলের জন্য কৃষি-বিজ্ঞান শেখ ও সেমত কাজ কর—এখানে বিসমিল্লাহ বলে বীজ বুনো ও আল্লাহর উপর নির্ভর কর। ফসল যা পাবে তা থেকে সাধ্যমত দান কর ও এই দান আল্লাহ যেন গ্রহণ করেন সে জন্য দোয়া কর। এই প্রার্থনা একটি সচেতন ও বিনয়ী মনোদশা থেকে উচ্চারিত হয়। উপরের উদাহরণ থেকে বলা যায় যে, দান করে সে অহংকার করে না, বিরাট কিছু করে ফেলেছে বলে ভাবে না। বরং উল্টোটাই সে ভাবছে। এই বিনয় যেমন আল্লাহর সামনে হচ্ছে, তেমনই হচ্ছে যাকে দান করা হয়েছে তার বিপরীতেও। দান করেও সে দান গ্রহীতাকে করুণা করেছে বলে সে ধারণা করছে না এবং গ্রহীতার নিকট কোন প্রতিদান বা শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি আশা করছে না।

৯। পার্থিব বিষয়আশয় নিয়ে প্রার্থনার ভাষা নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হচ্ছে, সার্বিক অর্থবোধক শব্দ ব্যবহার করা, বিশেষ নাম পরিহার করা। যেমন, আমরা আল্লাহর কাছে সাধারণভাবে জীবনোপকরণের (রিযিক) জন্য প্রার্থনা করতে পারি কারণ তিনি আমাদের রিযিকদাতা; কিন্তু গাড়ী-বাড়ী, শান-শওকতের জন্য, অর্থাৎ এই বিশেষ জিনিসটা, ঐ বিশেষ জিনিসটা দাও বলে প্রার্থনা করতে পারি না। কারণ আল্লাহ কারও সাথেই কোন নির্দিষ্ট বিষয়আশয় প্রদানের প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ হননি। মুসা যখন মিশর থেকে পালিয়ে মাদিয়ান শহরে চলে গিয়েছিলেন তখন তিনি অত্যন্ত অবলম্বনহীন হয়ে পড়েছিলেন। ঘটনাক্রমে তিনি শোয়ায়েবের কন্যাকে তাদের পশুগুলোকে পানি পানে সহায়তা করেছিলেন এবং তার কাছ থেকে জেনেছিলেন তার পিতার বৃদ্ধাবস্থার কথা। মুসা মনে মনে হয়তো তাদের বাড়ীতে আশ্রয় ও কাজ পাওয়ার আশা করেছিলেন। তিনি আশ্রয়ের আশায় প্রার্থনা করেছিলেন এই বলে, “হে আমার প্রতিপালক, আমি সত্যি ভাল কিছুর অভাবের মধ্যে পড়েছি—যা তুমি আমাকে দিতে পার।” এখানে খেয়াল করার বিষয় এই যে, মুসা স্পষ্ট করে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু প্রার্থনা করছেন না। কোন কিছু সুনির্দিষ্ট করে চাইলে একদিকে যেমন পাওয়ার পরিমাণে একটি অনাবশ্যক সীমা টেনে দেয়া হয়; অপরদিকে তেমনই অকল্যাণ বয়ে আনার সম্ভাবনার মধ্যে পড়তে হয়। তা ছাড়া এতে নিজের ইচ্ছা আল্লাহর উপর আরোপ করা হয়।

১০। এ পর্যায়ে, পাঠকের বিবেচনার জন্য কিছু সূত্র তুলে ধরলাম।

(ক) সেসব বিষয়ের জন্য কর্ম সাপেক্ষে প্রার্থনা কর যা জীবনকে চূড়ান্ত বিচারে ব্যর্থতা থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয়।

(খ) প্রতিশ্রুতির শর্তমত কাজ কর ও সেই বিষয়ের জন্য প্রার্থনা কর যার প্রতিশ্রুতি আল্লাহ দিয়েছেন।

(গ) চিরকালের জীবনে সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় অবলম্বনগুলোর জন্য সাধারণভাবে প্রার্থনা কর, বিশেষভাবে নয়।

(ঘ) কঠিন প্রতিকূলতার মধ্যে নিপতিত হলে তা থেকে মুক্তি বা আশ্রয় চেয়ে সমবেতভাবে প্রার্থনা কর।

১১। অহংকার, বৈষম্য, মিথ্যাচার, অত্যাচার, ভোগ-বিলাসের উপর জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করব, আবার আল্লাহর নিকট ক্ষমার জন্য প্রার্থনা করব—এমন শিক্ষা আমরা কোরানে পাই না। এখানে বরং আমরা তার বিপরীত শিক্ষাটি পাই। যা হচ্ছে অহংকার, বৈষম্য, মিথ্যাচার, অত্যাচার, ভোগ-বিলাসের জীবন পরিহার করে ক্ষমাশীলতা, দানশীলতা, মমতা, সৎকর্মশীলতা, সচেতনতা, সতর্কতার উপর জীবনকে যথাসাধ্য প্রতিষ্ঠিত করা এবং আল্লাহর নিকট সর্বদা ক্ষমা চাওয়া। মন্দ পথ পরিহার করাটিকে বলা হয় তওবা বা প্রত্যাবর্তন। আমাদের প্রার্থনার প্রধান বিষয় হচ্ছে সৎপথের নির্দেশনা বা হিদায়াহ। নামাজের প্রতি রাকাতে সুরা ফাতিহায় আমরা সেই প্রার্থনা করি। আমাদের প্রার্থনার দ্বিতীয় প্রধান বিষয় হচ্ছে আল্লাহর ক্ষমা ও জীবনে ব্যর্থতার দুঃখজনক পরিণাম থেকে রক্ষা পাওয়া। আমরা পার্থিব জীবনে সুন্দর ও কল্যাণকর বিষয় চাই যা আমাদের চিরকালের পটভূমিতে জীবনকে সার্থক ও সফল করতে পারে।

১২। পরিশেষে বলা যায়, এক আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করাটাই নবীদের সুন্নাহ নয়, কিসের জন্য কোন ভাষায় নবীরা প্রার্থনা করতেন তাও এই সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত। মুহম্মদের (আল্লাহ তাঁর উপর শান্তি বর্ষণ করুন) সমকালে আরবদের লাত, মানাত ইত্যাদি অনেক ডেইটি ছিল। সেসব ডেইটির কাছে তারাও প্রার্থনা করত। তাদের প্রার্থনায় ছিল ইহলৌকিক জীবনের প্রাধান্য, এবং প্রার্থনা ছিল সদকর্ম বা প্রয়াস থেকে মুক্ত। প্রার্থনার প্রণোদনা ছিল মনোগত কামনা-বাসনা, হিংসা-বিদ্বেষ আর প্রতিহিংসা। এই বিচিত্র সব ডেইটিকে একীভূত করে তার নাম ‘আল্লাহ’ দিয়ে এবং সেই সব আরবদের মানসিকতা নিয়ে তাদের মতো করে এই ‘আল্লাহ’র কাছে প্রার্থনা করলেই একেশ্বরবাদী হওয়া যায় বলা চলে না।

n

বিষয়ভিত্তিক বিভাজনসহ ব্লগসূচী