ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

৬.১। কোরানের দ্বিতীয় সুরা বাকারা’র ২২৮ আয়াতের একটি বাক্য সার্বিকভাবে পুরুষের নিকট নারীর অধিকার নির্ধারণ করেছে। প্রাথমিক ধারণার উদ্দেশ্যে, এই আয়াতাংশের অনুবাদ দেয়া গেল: And due to them is equitable to what is expected of them, according to what is reasonable. And for men is the precedence over what is expected of them। এই অনুবাদ কোরানের আরবির খুবই কাছাকাছি। এই আয়াতে নারী-পুরুষের পারস্পরিক সমরূপ বা ইকুইটেবল অধিকারের বিষয়টি বেশীর ভাগ ইংরেজি অনুবাদকই লিখেছেন। তবে সমস্যা বেঁধেছে এই আয়াতে ‘দারাজাত’—যা সাধারণত ইংরেজিতে ‘degree’ বা ‘precedence’ শব্দ দিয়ে অনুবাদ করা হয়—তার প্রকৃত বা ফলিত অর্থ নিয়ে। কিন্তু বাংলা অনুবাদকেরা এখানে ‘শ্রেষ্ঠত্ব’, ‘মর্যাদা’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করেছেন কিসের ভিত্তিতে—তা শক্তভাবে চ্যালেঞ্জ করা যায়।

৬.২। নাস্‌তাদ্‌রিজু

৬.২.১। কোরানের ৭:১৮২ এবং ৬৮:৪৪ আয়াতে ‘সা-নাস্‌তাদ্‌রিজু-হুম’ (we will lead them degree by dergee) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। ‘নাস্‌তাদ্‌রিজু’ শব্দটি ক্রিয়াপদ, যার মধ্যে ‘দারাজাত’ শব্দটি রয়েছে। ৭:১৮২ আয়াতের কয়েকটি অনুবাদ নীচে দেয়া গেল:

Sahih International: But those who deny Our signs – We will progressively lead them [to destruction] from where they do not know.

Pickthall: And those who deny Our revelations – step by step We lead them on from whence they know not.

Dariabandi: And those who belie Our signs, step by step We lead them on in a way they know not.

৬.২.২। এই উভয় আয়াতে ‘নাস্‌তাদ্‌রিজু’ এর জন্য ইংরেজিতে ‘progressively lead’, ‘lead step by step’, ‘gradually lead’ ইত্যাদি ফ্রেইজ যেমন ব্যবহৃত হয়েছে, তেমনই বাংলা অনুবাদেও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ‘ক্রমে ক্রমে’, ‘ধীরে ধীরে’, ‘পর্যায়ক্রমে’, ‘ক্রমান্বয়ে’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।

৬.৩। দারাজাত

এছাড়াও বিবেচ্য ২:২২৮ আয়াতসহ আরও আঠারটি স্থানে দারাজাত শব্দটি পাওয়া যায়: ৩:১৬৩, ৬:১৩২, ৮:৪, ৪৬:১৯, ২:২৫৩, ৪:৯৬, ৬:৮৩, ৬:১৬৫, ১২:৭৬, ১৭:২১, ৪৩:৩২, ৫৮:১১, ৪:৯৫, ৯:২০, ৫৭:১০, ২০:৭৫ ও ৪০:১৫। এইসব আয়াতে দারাজাত শব্দের অর্থ করা হয়েছে: degrees, varying gradess, ranks ইত্যাদি। এখানে তুলনার বিষয়াদিতে নান আয়াতে নানা বৈচিত্র্য রয়েছে—যা সাধারণভাবে জ্ঞান, প্রজ্ঞা, অর্জন, কর্মফল, প্রাধিকার ইত্যাদি। বাংলায় এসব ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে ‘শ্রেষ্ঠত্ব’, ‘মর্যাদা’ ইত্যাদির অবৈধ ছড়াছড়ি দেখা যায়।

৬.৪। ক্রম বা ডিগ্রী

দারাজাত শব্দের মধ্যে ডিগ্রী, ক্রম, স্তর ইত্যাদি অভিধা রয়েছে এবং এই ক্রমের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার দ্যোতনাও রয়েছে—কালগত, স্থানগত বা অবস্থাগত বিচারে এই ক্রম বা ডিগ্রী। দারাজাত শব্দের অর্থ অবধারিতভাবে মর্যাদায় আধিক্য বা শ্রেষ্ঠত্বকে বুঝায় না। এই স্তরভেদ যেমন সদর্থক হতে পারে, তেমনই হতে পারে নঞর্থক; ভাল অর্থে যেমন, তেমনই মন্দ অর্থেও হতে পারে। আল্লাহর বিচারে ভাল কাজে লিপ্তদের মধ্যে যেমন একের তুলনায় অপরের দারাজাত আছে, তেমনই মন্দ কাজে লিপ্তদেরও দারাজাতে পার্থক্য আছে। ডিগ্রী বা ক্রম শব্দ নিজে থেকে কিছু বলতে পারে না; কার সাথে কার তুলনা হচ্ছে কিসের ভিত্তিতে—এটিও জানা দরকার হয়। তাপমাত্রায় ডিগ্রী আছে, শিক্ষাগত অর্জনে (এচিভমেন্ট) ডিগ্রী আছে, আছে খেলায় র‍্যাংকিং। কিন্তু দারাজাতে ফারাক আমাদেরকে মর্যাদায় ফারাক করার অধিকার আবশ্যিকভাবে দেয় না।

৬.৫। নারীর বিপরীতে পুরুষের জন্য দারাজাত

৬.৫.১। বর্তমান আয়াতে বলা হয়েছে যে, নারীর বিপরীতে পুরুষের জন্য ‘দারাজাত’ বা ডিগ্রী বা ক্রম রয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে দারাজাতটি বা ক্রম-গত অগ্রসর অবস্থানটি কোন বিষয়ে? এটি আয়াতের আলোচিত বিষয় বা কন্টেক্সটের উপর নির্ভরশীল ও সেখান থেকে প্রাপ্তব্য। আলোচনা হচ্ছে পুরুষের নিকট নারীর অধিকার নিয়ে, নারীর প্রতি পুরুষের কর্তব্য নিয়ে। এখানে অধিকার প্রদানে বা কর্তব্য সাধনে পদক্ষেপগত ক্রম, অথবা, প্রদেয় অধিকারে বা সাধিতব্য কর্তব্যে পরিমাণগত আধিক্য ইত্যাদি বিষয়েই দারাজাত। নারীর জন্য পুরুষের সমান অধিকারের, বা সমান কর্তব্যভারের কথা বলা হলে উভয়ের অধিকার ও কর্তব্য সমান হয়। এখন কে কর্তব্য পালনে প্রথম পদক্ষেপ নেবে? এবিষয়ে কার দায় আইনগতভাবে বা নৈতিকভাবে বেশী? এগুলোই বিবেচ্য প্রশ্ন। উভয়েই অপরকে শর্ত দিলে, অপরের অগ্রভূমিকার জন্য অপেক্ষার নীতি অবলম্বন করলে অচলাবস্থা তৈরি হয়।

৬.৫.২। এই আয়াতের ‘লির্‌রিজালি আলায়হিন্না দারাজাত’ এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে ‘পুরুষের জন্য রয়েছে তাদের (নারীদের) বিপরীতে অগ্রভূমিকা’। অর্থাৎ নারীর নিকট থেকে পুরুষের প্রত্যাশা নারীকে সেই প্রত্যাশার সমরূপ অধিকার দেবে, বা সেই প্রত্যাশার সমরূপ কর্তব্য পুরুষের উপর অর্পিত হবে। এবং নারীর অধিকার প্রদানে বা পুরুষের কর্তব্য পালনে পুরুষকে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। অর্থাৎ, পুরুষ নারীর পদক্ষেপের অপেক্ষায় বসে থাকতে পারবে না, নারীর উপর শর্ত আরোপ করতে পারবে না যে, তুমি তোমার দায়িত্ব আগে পালন করো, তাহলে তোমার প্রাপ্য পাবে। কিন্তু নারীর বেলায় অবস্থাটি বিপরীত: অর্থাৎ, নারী শর্ত দিলে, পুরুষের অগ্রভূমিকা দাবী করলে, অপেক্ষার নীতি অবলম্বন করলে, পুরুষ তার দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হলে তবে তাকে অনুসরণ করবো বলে বসলে, পুরুষকে নিজের দিকে আগে তাকাতে হবে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, নারী চাইলেও অগ্রভূমিকা গ্রহণ করতে পারবে না। বিষয়টি নারীর বিবেচনা ও সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল—পুরুষের মীমাংসা বা কর্তৃত্বের উপর নয়।

৬.৫.৩। এখানে নারী-পুরুষের বেলায় পুরুষের জন্য আগে অগ্রসর হওয়াকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, নারীর কাছে ভাল আচরণ প্রত্যাশা করা হলে, পুরুষের নিকট থেকে ভাল আচরণ নারীর প্রাপ্য হবে। পুরুষ নিজে ভাল আচরণ ক’রে তারপরে নারীর কাছ থেকে সমরূপ ভাল আচরণ প্রত্যাশা করতে পারবে। একারণে, কোন ভাইয়ের মন্দ আচরণের বিপরীতে তার বোন মন্দ আচরণ করলে অথবা বোনের মন্দ আচরণের বিপরীতে ভাই সমরূপ প্রতিক্রিয়া করলে আমরা সেই বোনটিকে কিছু বলতে পারি না। এবং কোরানের এই নীতি অনুসারে ভাইটিকেই আগে সংশোধিত হওয়ার উপদেশ দিতে হয়; একইসাথে বোনটির উপর কোন শর্ত আরোপ না করেই তাকে তার ভাইয়ের হাত থেকে রক্ষা করা আমাদের জন্য কর্তব্য হয়। এরূপ কথা কন্যা-পিতা, স্ত্রী-স্বামী, মাতা-পুত্র সহ যেকোনো নারী ও যেকোনো পুরুষের বেলাতেই প্রযোজ্য। এই নীতিটি কিভাবে সুরা নিসা’র ৩৪ আয়াতে প্রযুক্ত হয়েছে তা আমরা পরে দেখার চেষ্টা করব। সেখানকার সঙ্গতি আবার বর্তমান আয়াতের এই ব্যাখ্যাকে যুক্তিসিদ্ধ করবে।

৬.৬। আয়াতাংশের বিভিন্ন অনুবাদ

৬.৬.১। এখন দেখা যাক, নীতিবচনটি কে কিভাবে অনুবাদ করেছেন।

Sahih International:
And due to the wives is similar to what is expected of them, according to what is reasonable. But the men have a degree over them [in responsibility and authority].

Shehnaz:
And they (wives) have rights similar to those (of husbands) over them in a reasonable manner, and men have a degree over them (wives).

Pickthall:
And they (women) have rights similar to those (of men) over them in kindness, and men are a degree above them.

Yusuf Ali:
And women shall have rights similar to the rights against them, according to what is equitable; but men have a degree (of advantage) over them.

Shakir:
And they have rights similar to those against them in a just manner, and the men are a degree above them.

Muhammad Sarwar:
Women have benefits as well as responsibilities. Men have a status above women.

Mohsin Khan:
And they (women) have rights (over their husbands as regards living expenses, etc.) similar (to those of their husbands) over them (as regards obedience and respect, etc.) to what is reasonable, but men have a degree (of responsibility) over them.

Arberry:
Women have such honourable rights as obligations, but their men have a degree above them.

Dariabandi:
Unto women is due likes that which is due from women reputably. And for men is a degree over them.

Muhammad Asad:
The rights of the wives [with regard to their husbands] are equal to the [husbands’] rights with regard to them, although men have precedence over them [in this respect].

Muhammad Ali:
And women have rights similar to those against them in a just manner, and men are a degree above them.

ইবন কাসিরের তফসিরের বাংলা অনুবাদ:
আর নারীদের উপর তাদের যেরূপ স্বত্ব আছে, নারীদেরও তদনুরূপ ন্যায়সঙ্গত স্বত্ব আছে; এবং তাদের উপর পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে।

মউদুদির তাফহিমুল কোরানের বাংলা অনুবাদ:
নারীদের জন্যও ঠিক তেমনই ন্যায়সঙ্গত অধিকার আছে যেমন পুরুষদের অধিকার আছে তাদের উপর। তবে পুরুষদের তাদের উপর একটি মর্যাদা আছে।

মুহম্মদ শফীর মাআরেফুল কোরানের বাংলা অনুবাদ:
আর পুরুষদের যেমন স্ত্রীদের উপর অধিকার রয়েছে, তেমনই ভাবে স্ত্রীদেরও অধিকার রয়েছে পুরুষদের উপর নিয়ম অনুযায়ী। আর নারীদের উপর পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বাংলা অনুবাদ:
নারীদের তেমনই ন্যায়সঙ্গত অধিকার আছে যেমন আছে তাদের উপর পুরুষদের; কিন্তু নারীদের উপর পুরুষদের কিছুটা মর্যাদা আছে।

৬.৬.২। অধিকাংশ ইংরেজি অনুবাদকই এখানে ‘দারাজাত’ বুঝাতে ‘ডিগ্রী’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। মহসিন খানের মতো কনসারভেটিভ আবার ‘স্ট্যাটাস’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে মুহম্মদ আসাদ ব্যবহার করেছেন ‘প্রিসিডেন্স’ শব্দটি। তবে অনেকেই ব্র্যাকেটের মধ্যে তিনি যা বুঝেছেন সেরকমভাবে ডিগ্রীর বিষয়টি উল্লেখ করে দিয়েছেন। সহিহ ইন্টারন্যাশনাল-এ বন্ধনীর মধ্যে ‘রেসপন্সিবিলিটি’র সাথে ‘অথরিটি’ও যুক্ত করে দেয়া হয়েছে। ইউসুফ আলী ডিগ্রীর পরে বন্ধনীর মধ্যে ‘অব এডভান্টেজ’ জুড়ে দিয়েছেন—পূর্ণ বচনের মধ্যে যার কোন সঙ্গতি খুঁজে পাওয়া ভার। কেউ লাহুন্না/আলায়হিন্না এর মধ্যে স্ত্রীবাচক যে সর্বনামটি আছে তা বুঝতে গিয়ে ‘স্ত্রীদের’ বুঝেছেন, কেউ বুঝেছেন ‘নারীদের’। কেউ কেউ এই আয়াতের আলোচ্য বিষয় তালাকের মধ্যেই সীমিত থেকেছেন।

৬.৬.৩। তবে বেশির ভাগই এটিকে দেখেছেন বৃহত্তর সেট ‘নারী’ সম্বন্ধীয় সাধারণ নীতি হিসেবে—যা যথার্থ: কারণ তালাক সংক্রান্তে আগে ‘তাদের স্বামীদের’ (বুঈউলাতুহুন্না) ব্যবহৃত হলেও পরে এই বাক্যে ‘পুরুষদের জন্য’ (লির্‌রিজালি) ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে পুরুষ বলতে স্বামীকে এবং কেবল স্বামীকে বুঝালে আকস্মিকভাবে ‘রিজাল’ শব্দটি ব্যবহারের প্রয়োজন পড়তো না। শব্দ নির্বাচনে কোরানে প্রিসিশন লক্ষ্যণীয়; কাজেই এখানে ‘পুরুষ’ বলতে ‘স্বামী’ বুঝলে নিজেদের অনুমানকে আল্লাহর কথার উপর আরোপের অভিযোগ উঠতে পারে। এখানে বিশেষ নির্দেশনা থেকে ক্রমে সাধারণ নীতি উপস্থাপনার দিকে ভাষা অগ্রসর হয়েছে।

৬.৬.৪। সবচে ভয়াবহ ইংরেজি অনুবাদ হচ্ছে মহসিন খান ও সরওয়ারের। আর বাংলা অনুবাদগুলো তো চিরকালের পুরুষাধিপত্যকে ‘কোরানসম্মত’ করার ধৃষ্টতা প্রকাশ করেছে। তবে হাস্যকর হচ্ছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুবাদটি—যেখানে ‘মর্যাদা’র আগে ‘কিছুটা’ শব্দটি জুড়ে দিয়ে বিষয়টিকে লঘু করার চেষ্টা করা হয়েছে।

৬.৭। প্রকাশ্য ভ্রান্ত ও অত্যাচারী নীতি

৬.৭.১। ‘নারীর উপর পুরুষের শ্রেষ্ঠত্ব বা মর্যাদা রয়েছে’—নীতিটি যে কত ভ্রান্ত তা কেবল একটি উদাহরণ দিলেই বুঝা যায়। আমাদের কেউই একথা বলতে পারবেন না যে, মাতা অপেক্ষা পুত্র বেশী মর্যাদার বা শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। মাতা-পুত্রের সাবসেটে নীতিটি স্পষ্টতই ভেঙ্গে পরে। কাজেই নারী-পুরুষের পূর্ণ সেটে নীতিটি অবৈধ হয়ে উঠে। সাধারণত পুরুষতন্ত্রের পোষকরা বিষয়টি সার্বিকভাবে দেখার কথা বলে থাকেন—যেন আল্লাহ শব্দ ব্যবহার করেন খুবই শিথিল ভাবে। কিন্তু কর্তব্য কর্মে পুরুষের জন্য অগ্রভূমিকার বাধ্যতা নারী-পুরুষের পূর্ণ সেট’য়ের জন্য প্রয়োগযোগ্য থাকে, যেখানে কোন সাবসেটেই তা ভেঙ্গে পরে না। এই নীতি কন্যা-পিতা, স্ত্রী-স্বামী, মাতা-পুত্র, বোন-ভাই সহ যেকোনো নারী ও যেকোনো পুরুষের বেলাতেই সঠিকতা বজায় রাখে।

৬.৭.২। আল্লাহ কোরানের কোথাও বলেননি যে, ‘মালিকরা মর্যাদায় দাসদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’, ‘জমিদারেরা মর্যাদায় কৃষকদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’, ‘পুঁজিপতিরা মর্যাদায় শ্রমিকদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’, ‘আমলারা মর্যাদায় কামলাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’, ‘শাসকেরা মর্যাদায় শাসিতদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’, বা ‘সাদারা মর্যাদায় কালোদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’। আর পুরুষ এমন কী পুঙ্গব হয়ে উঠলো যে, আল্লাহ নবী পাঠিয়ে ঠিক করে দেবেন যে, পুরুষরা নারীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ? আল্লাহ মানুষের কর্তব্য ঠিক করে দেয়ার জন্য নবীদের পাঠান। তিনি চান আধিপত্যকামী ও শক্তি প্রদর্শনকারীদের নিয়ন্ত্রণ করতে; সমাজের দুর্বল করে রাখা অংশকে ক্রমান্বয়ে সমরূপে সবল করে তুলতে, এই অংশের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করতে।

চলবে ….

পরের পর্ব: নারীর কোরান – ৭ (লাহুন্না ও সুবর্ণবিধি)

প্রথম পর্ব: নারীর কোরান – ১ (ভূমিকা)
n
বিষয়ভিত্তিক বিভাজনসহ ব্লগসূচী