ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 
আমি গর্বের এক বাহারি হাটের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। কত বাহারি দোকান, কত বাহারি দোকানি আর কতই না বাহারি সওদাগরি! গর্বের দোকানপাটে হাট সরগরম। দোকানে দোকানে পিরামিড, তাজমহল আর ঝুলন্ত উদ্যানের সৌকর্য। গর্বের বেসাতি আর বেচাকেনায় চারদিক উৎসবমুখর। নিজের পসরা বাড়াতে দোকানিরা আবার মাঝে মধ্যে নিজেরা নিজেরা একটু কাজিয়াও সেরে নিচ্ছে।

সামন্তের দোকানে শোনা গেল তার হাঁক: আমি গর্বিত জমিদার।

পাশের পুঁজিওয়ালা বলে, ওরে ইতিহাস না পড়া মূর্খ! কী নিয়ে করিস গর্ব? পুঁজির ঠেলা খেয়ে কোথায় যাবি ভেসে! আমার সওদা কিনে হয়ে যা গর্বিত পুঁজিপতি।

পাশে আছে সমাজতন্ত্রীর দোকান। মাথায় লাল ফিতা হাতে কাস্তে, মুখে দৃপ্ত উচ্চারণ: আমি গর্বিত সমাজতন্ত্রী। শোন তুই সামন্ত, শোন পুঁজিওয়ালা! সর্বহারার মশালে তোদের হবে পতঙ্গের দশা।

শুনে মানবতাবাদী বলে, চুপ চুপ! বিপ্লবীরা! এতো কিসের গর্ব তোদের! দুদিন পরে পচবি মাটির তলে, ছাই হয়ে ভাসবি নদীর জলে। আমার মন্ত্র নে, হয়ে যা গর্বিত মানবতাবাদী।

বাঙালির দোকানি এদিক সেদিক কোনো দিকেই চায় না, মুখে কেবল ধন্য ধন্য রব: সফল জীবন আমার, ধন্য আমি মাগো, আমি যে গর্বিত বাঙালি।

ইসলামের দোকানি বলে, তাই যদি হবে তবে তোদের চোর-ডাকাতেরে তোরা জেলে পুড়িস কেনে? ওরাও তো ধন্যি, ওরাও যে বাংলায় কথা বলে। খোদার জমিনে তোরা কে হে রাজত্ব করতে চাস? মেনে নে খোদার শান, বনে যা গর্বিত মুসলমান।

আমি শুনে থ! এ তো দেখি সোনার পাথরবাটি।

আমি নতুনের বাহারি হাটে শুধুই খুঁজে বেড়াই পুরাণ গুরুর খেজুরপাতার ডেরা। খেজুর কাঁটার মুকুট পরে কবে আসবেন তিনি! আমাকে দেখে বলবেন, ওরে মৃতের অর্বাচীন সন্তান! এ তো বড় সোজা কথা। ফানুস দেবতাদের ছাড়, ধর আসল দেবতা। গতকাল যারে খুঁজে পাসনি, আগামীকাল যারে খুঁজে পাবি না, তার সুতো ধরে আর কতকাল চলবি? তার নাটাইয়ের ঘুড়ি হয়ে আর কতকাল উড়বি? যেজন জন্মায় না মরেও না, যারে তুই গড়তেও পারবি না ভাঙতেও পারবি না, নত হয়ে তার কাছে যা, আর থাক হয়ে বিনয়ী জগতবাসী।

n

বিষয়ভিত্তিক বিভাজনসহ ব্লগসূচী