ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 

আমি কে? ওরা বলে বিশ্ব একটি গ্রাম। আমি সে গ্রামের বাসিন্দা। পড়শিদের আমি চিনিনে। চিনবো কী করে! আমি যে ওদের দেখিনে, ওদের সাথে কথা বলিনে। ওরাও আমায় চেনেনা, আমায় দেখেনা, আমার সাথে কথা বলেনা। তবুও আমার পরিচয় ওদেরকে দিয়েই, ওদেরটাও আমাকে দিয়ে। আমি ও ওরা দ্বিস্তরগত বিপ্রতীপ। বাইনারি অপসিশন—এতেই চেহারার রঙ, এতেই পরিচয়, এতেই আমার আমি।

গ্রামশুদ্ধ চিৎকার: আমি ওর মতো নই। অন্তরশুদ্ধ নীরবতা: সেখানে আমি নেই। আমার কোন প্রজেক্ট নেই, আছে কেবল প্রজেক্টর। আমার পরিচয় পরিচয়ের পার্থক্যের ফাঁদে বন্দী ঘুঘু—অপরের নেগেশন, অপরের ইনভার্শন। আমি সারিবদ্ধ দুটি নট গেইটের শেষ পারের আউটপুট। আমি আমার বিম্বের প্রতিবিম্ব, ধ্বনির প্রতিধ্বনি, প্রজেকশনের রিপ্রজেকশন, অপরের আয়নার ভেতরকার আমার আয়নার ছবি।

আমার সারধর্ম ও ধর্মসার আমার প্রতীক। আমার হাতে হাতঘড়ির মতো প্রতীক। কপালে পট্টির মতো প্রতীক। গায়ে উল্কির মতো প্রতীক। প্রতীকবিহীন দুনিয়ায় আমার কোন অস্তিত্ব নেই। আমি মুসলিম কারণ আমি মসজিদে যাই, আমি হিন্দু কারণ আমি মন্দিরে যাই। মসজিদহীন মন্দিরহীন দুনিয়ায় আমার কোন ধর্ম নেই। জমিন ক্লান্ত না খেয়ে থাকা মানুষের ভারে—তবুও আমার অহংকার-গ্লানি আসমানী-জমিনী প্রতীকের লড়াইয়ে জয়-পরাজয়ে।

আমি আপনহারা; পর আমার অবলম্বন, বিনোদন, জীবন সংগ্রাম, যোগ্যতার পরিমাপ। আমি আমার মুখের ফুৎকার, নিজের সাথে বিচ্ছেদ। আমার ঈশ্বর কেবলই একটি উচ্চকিত নাম, আমার ইবলিস আমার সর্বগ্রাসী নীরব অন্তঃসার। আমি পরের ছবি বুকে বেধে কাঁধে নিয়ে নিজেকে জানান দেই। আমি অপরের পুত্তলিকার গায়ের বর্ণ, অপরের কুশপুত্তলিকার গায়ের আগুন। অন্যের পুতুলহীন দুনিয়ায় আমার কোন চেহারা নেই।

আমি দর্শক নই, দৃষ্টই আমার সত্ত্বা। আমি দেখার একটি ভঙ্গি, দেখার একটি কোণ—যার মাঝে আমি প্রত্যক্ষিতের প্রত্যক্ষণ, যার বাইরেটায় আমি নিখোঁজ। আমার কোন রক্ত নেই, কোন মাংশ নেই—আমি আমার গড়া ভূতনাথের গড়া ভূতদাস, আমি আমার গড়া ভূতাসুরের গড়া ভূতাসুর।

n

আগের লেখা – মানবপ্রকৃতি

বিষয়ভিত্তিক বিভাজনসহ ব্লগসূচী