ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

সুবর্ণ বিধি একটি নৈতিক নিয়ম বা সূত্র। ইংরেজিতে একে বলা হয় গোল্ডেন রুল। একে আবার বলা হয় এথিক অব রেসিপ্রোসিটি। মানুষের নৈতিক জীবনের এবং পরস্পরের প্রতি কর্তব্যের এটিই মূল নিয়ম বা সূত্র। এই সূত্র ব্যক্তি, পরিবার ও জাতি—সকল স্তরে মানুষের জন্য পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও দায়িত্ব নির্দেশ করতে পারে। বিধিটির দুটি রূপ আছে: একটিকে বলা হয় সুবর্ণ রূপ ও অন্য রূপটিকে রুপালি রূপ। রুপালি রূপটি নেতিবাচক আর সুবর্ণটি ইতিবাচক।

রুপালি রূপ

অন্যের সাথে সেরূপ আচরণ করো না, যেরূপ আচরণ তুমি অন্যের নিকট থেকে প্রত্যাশা কর না।

সুবর্ণ রূপ

অন্যের সাথে সেরূপ আচরণ কর, যেরূপ আচরণ তুমি অন্যের নিকট থেকে প্রত্যাশা কর।

বিধিটির ইতিহাস অনেক পুরনো। প্রাচীন বেবিলন, মিশর, গ্রীস, রোম, পারস্য, ভারত, চীন ইত্যাদি সব স্থানের সভ্যতায় এই বিধি নানারূপে লালিত হয়েছে। সব প্রধান ধর্মই নিজ নিজ অনুজ্ঞামালা রচনায় বিধিটিকে প্রয়োগ করেছে। আমরা বিভিন্ন ধর্মে এটি কিভাবে এসেছে তা দেখে নেই।

সনাতন ধর্ম

“কেউ অন্যের সাথে এমন কাজ করবে না, যা সে নিজের জন্য ক্ষতিকর বিবেচনা করে। এটিই ধর্মের মূল সূত্র। আর যত কাজ আছে সবই স্বার্থপর বাসনা প্রসূত।” (মহাভারত, অনুশাসন পর্ব, অধ্যায় ১১৩, শ্লোক ৮)

বৌদ্ধ ধর্ম

“নিজেকে অন্যের মাঝে দেখ,
তারপর ভাব কাকে আঘাত কর!
কোন ক্ষতিটা তুমি কর!” (ধম্মপদ ১০, হিংসা)

খৃষ্ট ধর্ম

“তুমি অন্য জনের সাথে সে আচরণ কর, যা তুমি নিজের জন্য অন্যের নিকট থেকে প্রত্যাশা কর। এটিই মুসার বিধান ও নবীদের জীবন।” (যিশুর কথা, মথি ৭:১২)

ইসলাম ধর্ম

“তোমরা কখনোই শুভ-সুন্দরের অভিসারী হতে পারবে না, যদি না তোমরা যা ভালবাস তা অন্যের জন্য ব্যয় করতে সক্ষম হবে। তোমরা যা ব্যয় করবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা সম্বন্ধে পূর্ণভাবে অবহিত থাকবেন।” (কোরান ৩:৯২)

“যে অগ্নি থেকে বাঁচতে চায় ও কাননে অধিবাস চায়, সে যেন আল্লাহর উপর ও পরকালে পূর্ণভাবে আস্থাশীল থাকে এবং মানুষের সাথে সেরূপ আচরণ করে, যা সে তাদের নিকট থেকে নিজের জন্য প্রত্যাশা করে।” (নবীর কথা, মুসলিম ২০:৪৫৪৬)

আমরা ঈশ্বরের বেলায়ও সুবর্ণ বিধি প্রয়োগ করে থাকি:

“আমরা যেভাবে আমাদের উপর করা অন্যায়ের বিপরীতে অন্যায়কারীদের ক্ষমা করি, তুমিও সেভাবে আমাদের করা অন্যায়সকল ক্ষমা কর।” (আমাদেরকে যিশুর শেখানো প্রার্থনা, মথি, ৬:১২)

আল্লাহ যিশুর শেখানো প্রার্থনা মঞ্জুর করেছেন এভাবে:

“যে অন্যকে ক্ষমা উপহার দেবে তার পাপ মোচন করা হবে।” (কোরান ৫:৪৫)

“তাঁদের উপর মেলে ধর বিনয়ের পাখা পরম মমতায় এবং বল, হে আমাদের প্রতিপালক! তাঁদের প্রতি মমতাবান হও যেভাবে তাঁরা আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন যখন আমি ছোট ছিলাম।” (পিতামাতা সম্বন্ধে সন্তানদের প্রতি আল্লাহর অনুজ্ঞা ও তাঁর শেখানো প্রার্থনা, কোরান ১৭:২৪)