ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

নারীবাদী যত্ন নৈতিকতা—৪র্থ অংশ
blank_m2m
Nel Noddings 1

নেল নোডিংস (Nel Noddings, জন্ম ১৯ জানুয়ারি, ১৯২৯) একজন মার্কিন শিক্ষাবিদ ও দার্শনিক। তিনি প্রধানত শিক্ষাদার্শনিক, শিক্ষাতাত্ত্বিক ও একই সাথে যত্ন-নৈতিকতার বিশ্লেষক। নেল তার শিক্ষার দর্শন ও তত্ত্বকে যত্নের ধারণাকে কেন্দ্র করে বিন্যস্ত করতে চেষ্টা করেছেন। ‘Caring: A Feminine Approach to Ethics and Moral Education’, ‘Starting at Home: Caring and Social Policy’, ‘Educating Moral People: A Caring Alternative to Character Education’, ‘Philosophy of Education’, ‘Critical Lessons: What Our Schools Should Teach’, ‘Happiness and Education’—তার লেখা প্রধান গ্রন্থগুলোর কয়েকটি। ক্যারল গিলিগান থেকে এক ধাপ এগিয়ে নেল দাবী করেছেন, যত্ন-নৈতিকতা ন্যায়বিচার ও অধিকার ভিত্তিক নীতি-নৈতিকতা থেকে উন্নততর ও শ্রেয়তর, এবং এই নৈতিকতার সাথে জেন্ডারের কোনো সংশ্লেষ নেই—অর্থাৎ এটি জেন্ডার নিরপেক্ষ, নারী পুরুষ নির্বিশেষে সব মানুষের জন্য গ্রহণীয়। নারী হোক কি পুরুষ, সকলেই যত্নকামী। যত্ন-নৈতিকতা তাই নারী যেমন অনুসরণ করে তেমনভাবেই পুরুষেরও অনুসরণ করা উচিত। প্রায়োগিক দিক থেকে ন্যায়বিচার ও অধিকারের বিষয়টি যত্ন ও সম্পর্কের সাথেই সম্পৃক্ত।

নৈতিকতা জ্যামিতি নয়

ক্যারল গিলিগানের বৈপ্লবিক বই In a Different Voice প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮২ সালে। আর ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত হয় নেল নোডিংসের অন্যতম বই Caring: A Feminine Approach to Ethics and Moral Education। এ গ্রন্থে তিনি নারী নৈতিকতা হিসেবে ‘যত্ন’ ধারণাটির ব্যাখ্যাগত উন্নয়ন সাধন করেছেন এবং একে প্রয়োগ করেছেন নৈতিক শিক্ষা ও অনুশীলনের অঙ্গনে। নারী নৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যবহারিক রাজ্যে প্রবেশ করে একটি ভিন্ন দরজা দিয়ে—এই ধারণার সমর্থনে তিনি বলেন, নারীর নৈতিক বিচার-বিবেচনা অব্যবহিতভাবে রিয়াল-টাইমে সংঘটিত হয়। প্রতিটি যত্ন-সম্পর্কই স্বতন্ত্র ও অনন্য। নারী তাই আলাদা আলাদা ভাবেই সিচুয়েশনাল কন্টেক্সট বিবেচনায় রেখে করণীয় নির্ধারণ করতে পছন্দ করে। তার মতে, নৈতিকতার আলোচনায় পিতার ভাষায়ই প্রাধান্য পেয়েছে এবং মায়ের কণ্ঠকে স্তব্ধ করে রাখা হয়েছে। যত্নশীলতা এখানে পর্যাপ্ত মনোযোগ পায়নি। পুরুষের বিমূর্ত নীতি, নিষ্পক্ষতা, ন্যায়বিচার ভিত্তিক নৈতিকতা-চিন্তায় যত্নশীলতা নৈতিক আচরণের উৎপাদ মাত্র হিসেবেই থেকে গিয়েছে। নেলের মতে, নৈতিকতার মূল ক্ষেত্র হচ্ছে একজন ব্যক্তিমানুষের সাথে অন্য ব্যক্তিমানুষদের বাস্তবিক সাক্ষাতকালীন অবস্থা; নৈতিকতা মূলত ন্যায়বিচার ও অধিকার বিষয়ক সার্বিক ও বিমূর্ত নীতি সম্বন্ধীয় কিছু নয়। নৈতিকভাবে ভাল একজন মানুষ হচ্ছে সে যে উপস্থিত অন্য মূর্ত ব্যক্তিমানুষের প্রতি উদ্যোগীভাবে যত্নবান, যে তার মমতাপূর্ণ আচরণ ও কাজের মধ্য দিয়ে ব্যক্তিটির জন্য তার কল্যাণেচ্ছা, উদ্বেগ ও ব্যক্তিটির সাথে তার সম্পর্কের প্রকাশ ঘটায়। এই সম্পর্কসূচক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে, যত্নপরায়ণ ব্যক্তিটি কোনো বিমূর্ত নীতি বা সার্বজনীন সূত্র—যা কোনো না কোনোভাবে সমগ্র মানবজাতির জন্য লাগসই হবে—বিবেচনায় আনে না; এবং নৈতিকতা নিয়ে সে এমনভাবে যুক্তিবিচার প্রয়োগ করে না, যা দেখে মনে হতে পারে নৈতিকতা বুঝি একটি জ্যামিতিক সমস্যা। বরং সে অনুভূতি, প্রয়োজন, ইমপ্রেশন, একান্ত ব্যক্তিগত আদর্শ ইত্যাদির সাথে দ্রুত বোঝাপড়াটা সেরে ফেলে ও সংশ্লিষ্ট মানুষটির প্রতি অবিলম্বেই সাড়া প্রদান করে।

যত্নের রূপতত্ত্ব (phenomenology of care)

নেল নোডিংস তার Starting at Home: Caring and Social Policy গ্রন্থে যত্নের স্বরূপ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন। ‘Care’ এর সামগ্রিক অর্থের মধ্যে অন্তত পাঁচ ধরণের অভিধা একসাথে বিদ্যমান: ১. সতর্কতা, সাবধানতা, সচেতনতা, সজাগতা; ২. আগ্রহ, মনোযোগ, আকর্ষণ; ৩. উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা; ৪. সেবা, পরিচর্যা, তত্ত্বাবধান; এবং ৫. দায়িত্বশীলতা ইত্যাদি। ইংরেজি ‘care’ শব্দটির ভাল বাংলা প্রতিশব্দ হচ্ছে ‘যত্ন’। ‘যত্ন’ শব্দটির অর্থের মধ্যে ‘care’-এর মতো এতো বৈচিত্র্য ও ব্যাপকতা না থাকতে পারে; কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরা যখন বলি, ‘রহিম জমিরের প্রতি যত্নবান’ তখন আসলে আমরা এ থেকে কী বুঝে থাকি? ‘রহিম-যত্ন-জমির’ অবস্থাটি কিরকম? যত্ন করা বলতে আমরা লালনপালনমূলক সেবাকর্ম বুঝি, এবং যত্ন শব্দটির মধ্যে সজাগতা, মনোযোগিতা, উদ্বিগ্নতা, দায়িত্বশীলতা সবই নিহিত আছে। এই সামগ্রিক অর্থেই ‘care’ এর বিপরীতে বাংলায় ‘যত্ন’ শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

আমরা অনেকেই বিশ্বাস করি যে, যদি আমরা পরস্পরের প্রতি বেশী করে যত্নবান হতাম তবে পৃথিবীটা আরও ভাল জায়গা হয়ে উঠতো। এই প্রাথমিক ঐক্য সত্ত্বেও যত্ন বলতে আমরা কে কী বুঝিয়ে থাকি তা নির্ধারণ করা বেশ কঠিনই হয়ে আছে। Care-এর রূপতত্ত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নেল প্রথমে যত্নাবস্থা বুঝাতে বহুল ব্যবহৃত ইংরেজি শব্দ empathy’র অর্থ বিশ্লেষণ করেছেন। এম্‌প্যাথি’র ক্ষেত্রে একজন নিজেকে অন্যের মধ্যে দেখতে চায়, অন্যকে নিজের মতোই একটি সত্ত্বা হিসেবে বিবেচনা করে, তার বিচার-মীমাংসা, দুঃখ-কষ্ট, প্রয়োজন, আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সে নিজের সাথে তুলনা করে বুঝতে চায়। এখানে দুটি ক্ষেত্রকে চিহ্নিত করা যায়: চিন্তা-বিচার ও আবেগ-অনুভূতি। চিন্তা-বিচারের ক্ষেত্রে এম্‌প্যাথি হচ্ছে অন্যের স্থানে নিজেকে বসিয়ে তার বিচারমূলক সিদ্ধান্তের যথার্থতা বুঝবার চেষ্টা; আর আবেগ-অনুভূতির ক্ষেত্রে অন্যের স্থানে নিজেকে বসিয়ে তার কষ্ট বা আকাঙ্ক্ষাকে চিহ্নিত করার চেষ্টা। এখানে যত্নকারী নিজেই নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকে এবং প্রক্রিয়াটি বৌদ্ধিক। নেল বলেন, এম্‌প্যাথির যে দিক আমরা পাই তা হলো যত্ন প্রদাতা থেকে যত্ন গ্রহীতার দিকে—যা হচ্ছে অন্যের মধ্যে নিজের প্রজেকশন বা অভিক্ষেপণ ঘটানো। নেল নৈতিকতার প্রশ্নে empathy-কে অযথেষ্ট মনে করেন।

কিন্তু care’য়ের ক্ষেত্রে আমরা প্রকৃতপক্ষে empathy’র বিপরীত কাজ করি: আমরা অন্যকে গ্রহণ করে থাকি; আমরা মনোযোগী হয়ে থাকি একটি বিশেষ পন্থায়—যা সর্বাংশে চিন্তার বিষয় মাত্র নয়। নেলের মতে, যত্ন প্রদান কালে আমরা যতটা অভিক্ষেপধর্মী (projective) তার চেয়েও অনেক অনেক বেশী গ্রাহীতাধর্মী (receptive)। যত্নের বেলায় আমরা অন্যের অনুভবকে অনুভব করি; এখানে অন্যের মধ্যে নিজেকে অভিক্ষেপ করা হচ্ছে না, নিজের অনুভূতির সাথে মিলিয়ে অন্যকে বুঝা হচ্ছে না। কারণ প্রদাতার অবস্থা যদি কখনও গ্রহণকারীর অবস্থার অনুরূপ হয় তবে সেই অবস্থায় প্রদাতার অনুভূতি গ্রহীতার অনুভূতির মতো না-ও হতে পারে। অর্থাৎ যত্নের ক্ষেত্রে আমরা অন্যকে সে যা তা হিসেবেই গ্রহণ করি। অর্থাৎ নেলের মতে, যত্নমূলক মনোযোগিতায় আমরা নিজেকে অন্যের মধ্যে স্থাপন না করে অন্যকে নিজের মধ্যে দ্রুত আনয়ন করি, তাকে পুরোপুরি গ্রহণ করি। তবে যত্ন গ্রাহকই কোনো না কোনোভাবে প্রধান নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকে, সে-ই প্রথম কম্পন সৃষ্টিকারী, যে কম্পন প্রদাতার মধ্যে সঞ্চালিত ও অনুরণিত হয়। এখানে যে সম্পর্কটি তৈরি হয় তা উভয়মুখী এবং তা সম্পূর্ণভাবে প্রদানকারী কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত নয়—এটি হচ্ছে উভয়ের অংশীদারীত্বমূলক নিয়ন্ত্রণ।

কাজেই যত্নের ক্ষেত্রে আমরা এপর্যন্ত দুটি ধারণা পেলাম: ১. মনোযোগিতা (attentivity) ও ২. আশুগ্রাহিতা (receptivity)। আশুগ্রাহী মনোযোগ হচ্ছে (receptive attention) যত্নের একটি সারধর্মী বৈশিষ্ট্য। নেলের ভাষায়, “The carer, A, receives what-is-there in B. But clearly more than attention is required. A must respond in some way. … A’s motive energy begins to flow toward B and his projects.” এখানে এসে আমরা আরেকটি ধারণা পাই—যত্ন প্রদাতার ‘সাড়া প্রদান’। এই সাড়াদানটি প্রত্যক্ষিত হয় যত্ন কাজ সম্পাদনার মধ্যে—এই পর্যায়ে প্রদাতা তার কর্মগত প্রচেষ্টাকে পরিচালিত করে গ্রহীতা কর্তৃক তার প্রজেক্ট বাস্তবায়নে সহায়তা করতে। কিন্তু এই সহায়তা কাজটি নিছক গ্রহীতার কাজ করে দেয়া নয়—বরং সতর্কভাবে সহায়তা করা যেন তা গ্রহীতার কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে বা তার বিকাশ সাধনে সক্ষম হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আপনার সন্তানকে যখন একটি অংক করতে দেন, তখন আপনি তাকে মনোযোগের সাথে অনুসরণ করতে থাকেন, তার সামর্থ্য ও প্রয়োজনকে বুঝতে সচেষ্ট থাকেন, এবং ভেবে-চিন্তে সহায়তা করেন যখন সে ঠেকে যায়—যেন সে অংক করার ক্ষেত্রে তার নিজের সামর্থ্যকে বাড়াতে পারে। এটি নিজেকে অন্যের মধ্যে স্থাপন করা নয়, বরং অন্যকে নিজের মধ্যে আনা এবং স্বার্থের কেন্দ্রকে নিজের মধ্য থেকে সরিয়ে অন্যের মধ্যে স্থাপন করা। একে বলা হচ্ছে মোটিভেশনাল ডিসপ্লেসমেন্ট। ফলে আমরা পেলাম: ১. receptive attention ও ২. motivational displacement। যত্নের আরও একটি উপাদান রয়েছে: তা হচ্ছে যত্ন গ্রহীতার এই উপলব্ধি যে সে যত্ন পেয়েছে। এই স্বীকৃতি হচ্ছে গ্রহীতার response, গ্রহীতার reception। যত্ন যদি ঘনিষ্ঠ না হয় তবে গ্রহীতা হয়তো জানতেই পারবে না সে যত্ন পেয়েছে। কাজেই যত্নের ক্ষেত্রে সম্পর্ক সম্বন্ধে উভয়েরই সম্বিত থাকে—এভাবেই সম্পূর্ণ হয় যত্নগত সম্পর্কের বৃত্ত।

পরিশেষে, নেল যত্নের যে গাণিতিক সংজ্ঞা দিয়েছেন তা উদ্ধৃত করা যেতে পারে। যত্নকে নেল এভাবে বর্ণনা করেছেন:
(A, B) is a caring relation (or encounter) if and only if
i. A cares for B—that is, A’s consciousness is characterized by attention and motivational displacement—and
ii. A performs some act in accordance with i), and
iii. B recognizes that A cares for B.

কেয়ারিং-এবাউট (caring-about) বনাম কেয়ারিং-ফর (caring-for)

নেল যত্নের দুটি স্তরকে চিহ্নিত করেছেন যাদের একটিকে তিনি বলছেন কেয়ারিং-এবাউট ও অন্যটিকে কেয়ারিং-ফর। তিনি এই পৃথকীকরণকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন দুদিক থেকে: এতে প্রকৃত যত্ন বা কেয়ারিং-ফর’কে পরিষ্কারভাবে বিশ্লেষণ করা যায় আর অন্যদিকে কেয়ারিং-এবাউটের সাথে যুক্ত করা যায় ন্যায়কে। কেয়ারিং-ফর হচ্ছে বাস্তব যত্নমূলক কর্মশীলতা। আর কেয়ারিং-এবাউট হচ্ছে একটি মানসিক-বৌদ্ধিক অবস্থা যেখানে একজন যত্নের ধারণা ও ইচ্ছাকে লালন করে। তিনি পুরুষের ঐতিহ্যগত নীতি-ন্যায় ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দর্শনকে কেয়ারিং-এবাউট বলে সাব্যস্ত করেছেন এবং নারীর যত্ন-নৈতিকতাকে কেয়ারিং-ফর বলেছেন। ধারণাগতভাবে প্রথমটি দূর-সম্পর্ক, ভবিষ্যৎ ইত্যাদিকেই এবং পরেরটি নিকট-সম্পর্ক, বর্তমান ইত্যাদিকে বেশী নির্দেশ করে—প্রথমটি পরোক্ষ ও পরেরটি প্রত্যক্ষ।

পথে দেখা হওয়া কোনো বিপন্নজনকে কিছু অর্থ দান করে চলে গিয়েও আমি তুষ্টচিত্তে ভাবতে পারি ‘আই কেয়ার-এবাউট হিম’। এখানে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কটি স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয় না; এটি যত্নের দুর্বলতর প্রকাশ। কিন্তু কেয়ার-ফর এর চেয়েও বেশী কিছু—বিত্তসহ যত্নকাজে আরও অগ্রসর হওয়া এমনভাবে যেন যত্ন গ্রহীতা বুঝতে পারেন যে, তাকে মূল্যায়ন করা হয়েছে, তাকে আত্মীয়করণ করা হয়েছে, তাকে সম্মান করা হয়েছে, তার যত্ন নেয়া হয়েছে ইত্যাদি। তবে নেল এটাও বলেছেন যে, কেয়ারিং-এবাউট একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেষণাগত (motivational) স্তর যা আমাদেরকে স্থানিক ও বৈশ্বিক ন্যায়-বিচারের দিকে যেতে উদ্বুদ্ধ করে। কেয়ারিং-এবাউট আমাদের যত্নপরায়ণতাকে নিকট প্রতিবেশ থেকে প্রসারিত করে নিয়ে যায় জনগণের বিস্তৃততর পরিমণ্ডলে, যত্নচিন্তা হিসেবে—যা ন্যায়বিচারের ভিত্তি। তবে কেয়ারিং-ফর বিহীন ও কেবল কেয়ারিং-এবাউট সম্পন্ন চিন্তাকে নেল নোডিংস এমন একটি আদর্শ হিসেবে দেখেছেন যা অন্যান্য ব্যক্তিমানুষকে নিছক প্রতীকে, একটি সমাহারের নিছক উপাদানে পরিণত করে। নেলের যত্নতত্ত্ব কেয়ারিং-এবাউট’কে দেখে একটি অবলম্বন মাত্র হিসেবে; যা কেয়ারিং-ফর’য়ের আবাদক্ষেত্র তৈরিতে সহায়ক। তিনি বলেন, “Caring-about is empty if it does not culminate in caring relations.” এই সূত্রে তিনি ন্যায়বিচারের কান্টীয় ও রলসীয় ধারণাকে নৈতিকতার জন্য যথেষ্ট নয় বলে গণ্য করেছেন।

অসমাপ্ত

সূত্র:
Philosophy: A Text With Readings – Manuel Velasquez
Nel Noddings – Starting at Home: Caring and Social Policy
নারীবাদী যত্ন নৈতিকতা—১ম অংশ
নারীবাদী যত্ন নৈতিকতা—২য় অংশ : নৈতিকতার নারী-পুরুষ!
নারীবাদী যত্ন নৈতিকতা—৩য় অংশ : ক্যারল গিলিগান: নারীর নৈতিকতা পুরুষের নৈতিকতার সমান
নারীবাদী যত্ন নৈতিকতা—৪র্থ অংশ : নেল নোডিংস: যত্নের রূপতত্ত্ব
নারীবাদী যত্ন নৈতিকতা—৫ম অংশ : নেল নোডিংস: অরিজিনাল কন্ডিশন
নারীবাদী যত্ন নৈতিকতা—৬ষ্ঠ অংশ : নেল নোডিংস: নৈতিক যত্ন শিক্ষা
নারীবাদী যত্ন নৈতিকতা—৭ম অংশ : নেল নোডিংস: যত্ন দিতে ও নিতে শেখা

n

বিষয়ভিত্তিক বিভাজনসহ ব্লগসূচী