ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

মানসিক অবস্থা

সুবর্ণ ও রুপালি রূপে পথের দিশাটি পেতে হচ্ছে আমার মনের প্রত্যাশার বিষয় থেকে, তাও আবার অপরের নিকট থেকে প্রত্যাশা, যা কিনা স্বাবলম্বীর জন্য দারিদ্র্যের নির্দেশক। এ প্রত্যাশা হলো অন্যের নিকট থেকে দুঃখ, যন্ত্রণা, ক্ষতি থেকে মুক্তি; এবং অন্যের নিকট থেকে নিজের জন্য শান্তি, সুখ, আনন্দের প্রত্যাশা। এর প্রয়োগ জনিত ফলা হলো আমার পক্ষ থেকে হিংসার অবসান এবং সমরূপ সদাচরণ ও দান।

নির্ধারক ভূমিকা

সুবর্ণ ও রুপালি রূপে নির্ধারক ভূমিকায় থেকে যাচ্ছে তারা যারা সুবর্ণ বিধিটি অহংকারের সাথে লঙ্ঘন করে চলে, অর্থাৎ অত্যাচারীরা। অত্যাচারের আধিক্য থাকাতেই এ বিধিগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অহংকার, মিথ্যাচার ও অত্যাচারের যেখানে জয় জয়কার, সেখানে জীবনের সার্থকতা ও সফলতা আমরা অন্বেষণ করি এ দুটি রূপে সুবর্ণ বিধির সুনিষ্ঠা অনুসরণের মাধ্যমে। অর্থাৎ আমি স্বাধীন পরিবেশ পাচ্ছি না ও আমার জীবন গড়ে উঠছে অত্যাচারীদের কাজের প্রতিক্রিয়া হিসেবে। অর্থাৎ আমি স্বনির্ভর হয়ে সক্রিয়ভাবে আমার জীবন গড়ে তুলতে পারছি না।

অপরের কাছ থেকে নিজের জন্য প্রত্যাশা ও শত্রুর অহংকারের কাছে নিজেকে সমর্পণ করে চলব কি না—এবং এগুলোর তাড়নায় ও প্রতিক্রিয়ায় ব্যস্ত থেকে জীবন শেষ করব কি না—এগুলোই এখন বিবেচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

উদ্দেশ্য
তাহলে এখানে তিনটি বিষয় প্রাধান্য পাচ্ছে:
(১) আত্মনির্ভরশীলতা (আমি কি স্বনির্ভর হবার চেষ্টা করব না?)
(২) সক্রিয়তা (আমি কি নির্ধারক ভূমিকার জন্য সক্রিয় হতে চেষ্টা করব না?),
(৩) অহংকারের বিরুদ্ধে অবস্থান (আমি কি স্বাধীন পরিবেশের সম্ভাবনাকে ত্যাগ করব?)।

আরও অগ্রসর হওয়ার আগে এখানে সুবর্ণ বিধি সংশ্লিষ্ট দুটি প্রতিজ্ঞা সতর্ক ভাবে বিবেচনা করা দরকার। পাঠক নিজ বিবেচনায় এদের যৌক্তিকতা খুঁজে বের করবেন।

প্রতিজ্ঞা-১
রুপালি রূপ সুবর্ণ রূপকে প্রতিহত করে না। সুবর্ণ রূপ রুপালি রূপকে বাতিল করে না – মনের বিস্তার ও কর্মক্ষেত্রের ব্যাসকে প্রসারিত করে মাত্র।

প্রতিজ্ঞা-২
সুবর্ণ রূপ প্রয়োগ করতে গিয়ে যদি রুপালি রূপ ভেঙ্গে পড়ে তবে বুঝতে হবে প্রয়োগে কোথাও ভুল হচ্ছে।

নতুন নীতি

সন্ন্যাস ও প্রেমের নীতির সাথে আর একটি নীতি যোগ করা তাহলে এখন প্রয়োজন হয়ে পড়ছে। এ নীতিটি এমন হতে হবে যেন তারা আবার সকলে, অর্থাৎ সন্ন্যাস ও প্রেমের সাথে, সুসংগত হয়। এ নীতিটি কী হতে পারে? এই নীতিটির নাম আত্মগত ভাবে প্রতিরক্ষার নীতি ও সামাজিক ভাবে ন্যায় বিচারের নীতি।

এখন প্রশ্ন হতে পারে: এটি তো আমরা মুসার দণ্ডবিধির সাথেই পেয়েছিলাম, নতুন আর কী হল? বা কর্মক্ষেত্রের সম্প্রসারণটা কী করে ঘটালো?

দণ্ডবিধি আইনের বই মাত্র, যেখানে অপরাধের ও অপরাধীর প্রাপ্য শাস্তির বিবরণ থাকে। কেউ অপরাধ করলো, আমরা সাক্ষী পেলাম তো দণ্ড দিয়ে দিলাম, না পেলাম তো ছেড়ে দিলাম। কিন্তু প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রটি এবং বাস্তব জীবনের পুরো পরিসরে ন্যায় অক্ষুণ্ণ রেখে চলার ক্ষেত্রটি বিশাল ও জটিল। এখানে সর্বদা সচেতন ও সতর্ক থাকতে হয় এবং পরিমাণ, অনুপাত ও সীমা বজায় রাখার জন্য সার্বক্ষণিক চিন্তা বা বৌদ্ধিক ক্রিয়াপরতার দরকার হয়; যেন অত্যাচারী বা শত্রু উল্টো আত্মরক্ষাকারীর অত্যাচারের শিকার না হয়ে পড়ে।

এবার দেখা যাক তিনটি নীতির বিরোধিতামুক্ত সমন্বয় সাধন করতে হলে আমাদের পূর্বোক্ত প্রতিজ্ঞা-১ ও -২ কেমন নতুন রূপ নিচ্ছে। নিচে সেটা বিবৃত করলাম।

প্রতিজ্ঞা-৩
সন্ন্যাস ও প্রেমের নীতি প্রতিরক্ষার নীতিকে প্রতিহত করে না। প্রতিরক্ষার নীতি সন্ন্যাস ও প্রেমের নীতিকে বাতিল করে না—মনের বিস্তার ও কর্মক্ষেত্রের ব্যাসকে প্রসারিত করে মাত্র। (প্রতিজ্ঞা-১ এর সম্প্রসারণ)

প্রতিজ্ঞা-৪
প্রতিরক্ষার নীতি প্রয়োগ করতে গিয়ে যদি সন্ন্যাস বা প্রেমের নীতি ভেঙ্গে পড়ে তবে বুঝতে হবে প্রয়োগে কোথাও ভুল হচ্ছে। (প্রতিজ্ঞা-২ এর সম্প্রসারণ)

মুহম্মদ এ নতুন রূপটি প্রকাশ করেছেন মানুষের সামনে ও তাতে সুবর্ণ বিধিটি সম্প্রসারিত হয়েছে। এটিকে আমরা বলছি সুবর্ণ বিধির ‘প্লাটিনাম’ রূপ। এর নিজের আবার দুটি রূপ আছে। একটি নেতিবাচক, যা প্রতিরক্ষার কথা বলে ও অন্যটি ইতিবাচক, যা স্বনির্ভর ও স্বাধীন মানুষের জন্য প্রয়োগযোগ্য প্রেম বা মমতার কথা বলে। এখন দেখা যাক এ রূপ দুটি কিভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।