ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন কিছুদিন আগে ২০ জুলাই বার্মিংহামে প্রদত্ত এক বক্তৃতায় ইসলামিস্ট এক্সট্রিমিজম দমনের নিমিত্তে নতুন পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেন, যা প্রধান সংবাদ-মাধ্যমগুলো সরাসরি সম্প্রচারও করেছে। এতে উঠে এসেছে নানা চমকপ্রদ বিষয়, তথ্য ও বিশ্লেষণ। ক্যামেরন উগ্রবাদের উত্থান-প্রসার সম্বন্ধে প্রচলিত কিছু মতের সমালোচনা করেছেন; এসব মতকে তিনি ভ্রান্ত ও ক্ষতিকর বলে মনে করেন। তিনি সমস্যার গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং নতুন কিছু কথা বলেছেন বিধায় বক্তৃতাটি এক অর্থে অভিনব ও গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবী করা যায়। গভীরে যাওয়ার চেষ্টা ও কথায় নতুনত্ব এ অর্থে নয় যে, পশ্চিমা চিন্তার এটিই প্রথম প্রয়াস—পশ্চিমের বুদ্ধিজীবীদের একাংশের কাছ থেকে এরূপ চেষ্টা ও কথা আগেই পাওয়া গিয়েছে, বরং এ অর্থে যে, উগ্রবাদ-বিরোধী লড়াইয়ে নেতৃত্বদানকারী কোনো প্রভাবশালী পশ্চিমা রাজনীতিকের কাছ থেকে প্রথম শোনা গেল।

ক্যামেরন তার ভাষণ ও এক্সট্রিমিজম দমনের পরিকল্পনাকে উপস্থাপন করেছেন প্রধানত ব্রিটেনের বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক পরিসীমার মধ্যেই। তিনি তার বক্তৃতাকে বিভিন্ন পর্বে বিভক্ত করেছেন এবং সেগুলোকে বিন্যস্ত করেছেন একটি যৌক্তিক ধারা বজায় রেখে। ভাষণটির একটি সূচনাপর্ব রয়েছে; তারপর বক্তা সমস্যার মূল উৎস, পাল্টা আদর্শ বিনির্মাণ, অসহিংস ধারণা থেকে সহিংসতায় উপনীত হওয়ার দীক্ষা-প্রক্রিয়া, ইতিবাচক ইসলামী বয়ান বিনির্মাণের প্রয়োজনীয়তা, ব্রিটিশ যুবসমাজের একাংশের আত্মপরিচয় সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে একে-একে আলোচনা করেন। সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত লিখিতরূপে পর্বসমূহে শিরোনাম যুক্ত করা হয়েছে।

বক্তৃতার সূচনাপর্বে তিনি যুক্তরাজ্যের অধিবাসীদেরকে বহু-জাতি ও বহু-বিশ্বাস ভিত্তিক গণতন্ত্রের অসাধারণ নির্মাতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এটি উন্মুক্ত ও বৈচিত্র্যমণ্ডিত, যেখানে সকলেই সমাদৃত হয়। এদেশে নানা জাতি, ধর্ম ও ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা মানুষেরা পরস্পরের বন্ধু ও আত্মীয়। এক বা দুই প্রজন্মের ব্যবধানেই এখানে নিঃস্ব অবস্থায় আগত মানুষ সুউচ্চ অবস্থানে—মেধায় যতখানি কুলায়—উপনীত হতে পারে। বহুত্ব এখানে প্রতিকূলতা নয়, অনুকূলতা; সাফল্য ‘বহুত্ব সত্ত্বেও সাফল্য’ নয়, বরং ‘বহুত্বের ফলেই সাফল্য’। কিন্তু আজ ব্রিটেনবাসীদের ঐক্য ও সমাকলনকে এক শক্ত হুমকি ও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে ইসলামিস্ট এক্সট্রিমিজম।

ক্যামেরন লড়াইয়ের পরিকল্পনার যে রূপরেখা উপস্থাপন করেছেন তা প্রধানত বুদ্ধিবৃত্তিক। যেকোনো বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রামের হাতিয়ার হচ্ছে ভাষাগত উপস্থাপনা, বিতর্ক, বয়ান। ফলে তিনি দুটি সতর্কতামূলক ইস্যুকেও স্পষ্ট করেছেন: ১. বয়ান-বিতর্কে দেশ যেন খাটো না হয়, কারণ ব্রিটেন সন্দেহাতীতভাবে বিশ্বের পথপ্রদর্শক বাতিঘর এবং ২. কোনো বিশেষ জনমণ্ডলীকে যেন ডিমোনাইজ করা না হয়। দ্বিতীয়টি প্রসঙ্গে তিনি ‘মুসলিম’ শব্দটি ব্যবহার করেননি বটে, তবে এ-ও পরিষ্কার ও জোরালো ভাষায় বলেছেন যে, লড়াইটি ইসলামিস্ট এক্সট্রিমিজমের বিরুদ্ধে, এটি ইসলামধর্মের (ইসলাম দি রিলিজিওন) বিরুদ্ধে নয়।

 
তিনি এটি অবগত আছেন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন যে, মুসলিমরাও এদেশের উন্নয়নে প্রভূত ভূমিকা রেখেছে এবং কোন দ্বন্দ্ব ও বিরোধ ছাড়াই তারা নিজেদেরকে একাধারে ব্রিটিশ ও মুসলিম হতে পেরে গর্ববোধ করে। তিনি আরও একটি বিষয় জানেন বলে উল্লেখ করেন আর তা হচ্ছে এই যে, এদেশের মানুষেরা উগ্রবাদীদেরকে—যারা জাতিকে বিভক্ত করার উপায় খুঁজছে—ও তাদের দ্বারা কৃত ক্ষতিকে কতখানি ঘৃণা করে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করতে এবং বিষাক্ত উগ্রবাদকে পরাভূত করতে চান, বহু-জাতি-বিশ্বাসের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে চান; কারণ ইসলামিস্ট এক্সট্রিমিজম ও উগ্রবাদী মুসলিম গোষ্ঠীগুলো গুরুতর হুমকি—ব্রিটেনবাসীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে এদেরকে পরাজিত করতেই হবে।

যে লড়াইয়ের কথা বলা হচ্ছে সে লড়াইয়ের প্রথম পদক্ষেপ বিষয়ে ক্যামেরন সবিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে, এর সূচনা অবশ্যই হতে হবে আপতিত বিপদটির মূল উৎসকে এবং কেন আমরা এর সম্মুখীন হয়েছি তা গভীরভাবে বুঝবার মধ্য দিয়ে।

ক্যামেরন বলেন, ইসলামিস্ট এক্সট্রিমিজম একটি তত্ত্ব, বিশ্ববীক্ষা, যা যুবসমাজকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম; এর আবেদন প্রচণ্ড এবং তা যুবকদেরকে কার্যকরভাবে উজ্জীবিত করতে পারে। তিনি অতীতের ফ্যাসিবাদ ও কমিউনিজমের সাথে এর তুলনা করেছেন এবং আহ্বান করেছেন বিষয়টি ভালভাবে খতিয়ে দেখার জন্য: —কেন অনেকে, বিশেষ করে যুবকেরা, প্রলুব্ধ হচ্ছে, —কেন তত্ত্বটি আকর্ষণীয় বলে প্রতিভাত হচ্ছে। তার জোরালো মত: তত্ত্বের বিষয়টিকে খেয়ালে না আনা, গুরুত্ব না দেয়া বা এ তত্ত্বকে খাটো করে দেখার আর সুযোগ বা সময় নেই; এবং এ তত্ত্বটি, স্বয়ং তত্ত্বটিই, প্রকৃত হুমকি। অন্যান্য উগ্রবাদের মতোই এ তত্ত্ব দুর্বিনীতভাবে বিদ্রোহী এবং এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে জাতি-রাষ্ট্রগুলোকে ধ্বংস করে একটি একীভূত বর্বর রাজ্য প্রতিষ্ঠিত করা। এজন্য তারা সহিংসতা পর্যন্ত অবলম্বন করে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে খোদ স্বধর্মী মুসলিমরাই—যারা তাদের উগ্র বিশ্ববীক্ষাকে গ্রহণ করেনি—সহিংসতার শিকার হচ্ছে।

ক্যামেরন দীক্ষা-প্রক্রিয়া সম্বন্ধে বলেন যে, ইসলামিস্ট এক্সট্রিমিজমে দীক্ষা নিতে প্রথমেই বর্বর সহিংসতায় বিশ্বাসী হবার আবশ্যকতা নেই। কেউই একলাফে উগ্রপন্থীতে পরিণত হয় না। অসহিংসু কিন্তু র‍্যাডিক্যাল ধারণাগুলোই মানুষকে প্রথম আকৃষ্ট করে ও পরে তারা সহিংসতার দিকে যাত্রা করে। তিনি এসব র‍্যাডিক্যাল ধারণাকে উগ্রবাদ স্ফুরণ-বর্ধনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য দায়ী করেছেন।

এরকম কিছু অসহিষ্ণু র‍্যাডিক্যাল ধারণা উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন: গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, জেন্ডার-সমতা ইত্যাদি মৌলিক উদারনৈতিক মূল্যমানগুলোর প্রতি শত্রুভাবাপন্ন ধারণাবলী; বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা ও পৃথকীকরণে সক্রিয় উৎসাহ প্রদায়ী ধারণাবলী; এমন ধারণাবলী যা এককে সুবিধা প্রদান করে অন্যদের স্বাধীনতা ও অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে; ষড়যন্ত্র ভিত্তিক ধারণাবলী: ইহুদিরা বিদ্বেষ-বশবর্তী হয়ে শক্তি প্রয়োগ করে থাকে, ইসরাইলের সাথে সমন্বিত হয়ে পশ্চিমা শক্তিগুলো পরিকল্পিতভাবে মুসলিমদেরকে অপদস্থ করে থাকে, কারণ তারা ইসলামকে ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর। এসব ধারণা থেকে যা তৈরি হয় তারও কিছু উদাহরণ ক্যামেরন দিয়েছেন, যেমন: আফগানিস্তান আক্রমণের ছুতা তৈরি করার লক্ষ্যে ৯/১১ সংঘটনে মোসাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, ৭/৭ সম্বন্ধে আগেই জানতে পারা সত্ত্বেও মুসলিম বিরোধী সংঘাতে উস্কানি দেয়ার লক্ষ্যে ব্রিটিশ নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাটি ঘটতে দিয়েছিল, ইত্যাদি।

অনুমান করা সম্ভব যে, পশ্চিমা ও ইসরাইলি রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ও সামরিক কর্মকাণ্ড মুসলিম উগ্রবাদীদের উত্থান ও প্রসারের কারণ নয় বলেই ক্যামেরন মনে করেন। তিনি স্পষ্টভাবে দুটি কারণকে অগ্রহণযোগ্য বলে মত দেন। কারণ দুটি হচ্ছে: ১. ঐতিহাসিক অবিচার ও সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো এবং ২. দারিদ্র্য ও জীবন-সংকট। যারা এরকম যুক্তি দেখান তারা ভুল কথাই বলেন এবং উগ্রবাদকে পরোক্ষে উৎসাহিতই করেন। প্রথমটি প্রসঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ব্রিটেনসহ পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোই কসোভো থেকে সোমালিয়া পর্যন্ত মুসলিমদেরকে রক্ষা করেছে আর আইএস, তালেবান, বোকো হারাম উগ্ররাই বরং মুসলিমদেরকে নির্বিচারে হত্যা করছে। দ্বিতীয়টির বিপরীতে বলেন, বহুসংখ্যক সন্ত্রাসীই এসেছে ধনী পরিবার বা পশ্চিমা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তবে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে এই যে, তিনি ইস্যু দুটিকে আবার একেবারেই গুরুত্বহীন বলেও মনে করেন না এবং সে সাথে তিনি এ-ও বলেন যে, এ প্রসঙ্গে নিজেদেরকে প্রতারিত করাও ঠিক হবে না। বিষয়টিকে তিনি পরিষ্কার করেছেন এ বলে যে, এগুলো সমাধানে যদি কাজ করা হতোও, তবুও ব্রিটেনসহ অন্যান্য দেশের অনেকেই ইসলামিস্ট এক্সট্রিমিজমের দিকে ধাবিত হতো। আইডিওলজি ইটসেল্ফ যে মূল সমস্যা—সে কথার উপর তিনি আবারও জোর দেন।

বক্তৃতায় ক্যামেরন যু্বসমাজের বিপথে যাওয়ার চারটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করে বিশ্লেষণ করেছেন:

ক. তত্ত্বের প্রতীয়মান উদ্দীপন ক্ষমতা: তত্ত্বের দিক থেকে উগ্রবাদ কেবল যে দুর্বিনীত বিদ্রোহী তা-ই নয়, এটাকে প্রাণসঞ্চারী বলেও প্রতীয়মান হতে পারে। আইএস প্রচারিত ভিডিওগুলো নির্মম হত্যাকারীদেরকে একধরণের সেলেব্রিটিতে পরিণত করছে, যা দেখে যুবকেরা অনুপ্রাণিত হচ্ছে। আজকাল যারা তত্ত্বের মধ্যে কোনো উদ্দেশ্য খুঁজে পায় না, তারা আইএস-এর মধ্যে এর জীবন্ত প্রকাশ খুঁজে পেয়েছে।

খ. ধারাবাহিক র‍্যাডিক্যালকরণ প্রক্রিয়া: এরূপ দীক্ষা-প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, জ্যুইশ কন্সপিরেসি থিওরি শোনার মাধ্যমে সূচনা হতে পারে, তারপর শ্রোতার মনে ক্রমে-ক্রমে পশ্চিমা বিশ্ব এবং মৌলিক উদারনৈতিক মূল্যমানগুলোর প্রতি বিদ্বেষ তৈরি হয়, এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে সে মৃত্যু-প্রিয় ধর্মান্ধতায় গিয়ে উপনীত হয়। অন্যভাবে বলা যায়, উগ্রবাদ হচ্ছে প্রবেশদ্বার ও সহিংসতা হচ্ছে চূড়ান্ত গন্তব্য।

গ. ইতিবাচক মুসলিম কণ্ঠস্বরের পরাজয়: মুসলিম সমাজের অন্যান্য কণ্ঠস্বরগুলো, বিশেষত যারা উগ্রবাদকে চ্যালেঞ্জ করছে, র‍্যাডিক্যাল তত্ত্বের ধারকদের কাছে যুক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ও ভাষাগত উপস্থাপনায় ক্রমাগত হেরে যাচ্ছে। যদিও সমাজে বলিষ্ঠ ও ইতিবাচক মুসলিম কণ্ঠস্বর রয়েছে প্রচুর, তবুও তারা যুক্তি-তর্কে জয়ী হতে পারছে না। বলা যেতে পারে যে, তাদেরকে রীতিমতো জলে ডুবিয়ে ভাসিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে উগ্রপন্থী বুদ্ধি। ক্যামেরন দুটি উদাহরণ দিয়েছেন: অ. যখন ব্রিটেনের কিশোরীরা আইএস-এর পক্ষে যুদ্ধ করতে লন্ডন ছাড়লো তখন বিতর্কের সমস্ত মনোযোগ গিয়ে নিবদ্ধ হলো সিকিউরিটি সার্ভিসগুলো অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে কি-না তার উপর; আ. শার্লি হেবদো’র ঘটনার পর সন্ত্রাসীরা নিজ বিচারে মানুষ খুন করতে পারে কি-না সে প্রশ্ন বাদ দিয়ে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে চললো বাকস্বাধীনতা ও স্যাটায়ারের সীমা নিয়ে বিতর্ক। আমরা যদি এভাবে উগ্রপন্থীদেরকেই আলোচনার বিষয় ও টার্ম নির্ধারণ করার সুযোগ করে দেই তবে মানুষেরা এ আদর্শের প্রতি আরও আকৃষ্টই হবে।

ঘ. পরিচয় সমস্যা: আইডেন্টিটি তথা পরিচয়ের সমস্যাও উগ্রবাদ-সহায়ক একটি বিরাট সমস্যা, যা জাতিগত সমাকলনকে গুরুতরভাবে বিঘ্নিত করছে। ব্রিটেনের অনেকেই পরিচয় সংকটে ভুগছে আর উগ্রবাদীরা সে সুযোগ নিয়ে তাদেরকে কাছে টানতে পারছে। বহু-জাতি-বিশ্বাসের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সমুদয় সাফল্য সত্ত্বেও এটি একটি সকরুণ সত্য যে, ব্রিটেনের মাটিতে জন্ম নেয়া অনেকেই ব্রিটিশ হিসেবে নিজেকে পরিচিত করে না; তারা ব্রিটেনের অন্যান্য ধর্ম ও ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা বাসিন্দাদের সাথে কোনো সংলগ্নতাই অনুভব করে না। এ অবস্থাকে ক্যামেরন বিপদজনক আখ্যায়িত করে তা নিরসনে সর্বাত্মক সংগ্রামে নামার আহ্বান জানান। ক্যামেরন এখানে স্পষ্টভাবে মুসলিম সমাজকে চিহ্নিত করেননি; সম্ভবত তিনি এ-ও মনে করেন যে, মূল ব্রিটিশ পরিবারগুলোসহ মুসলিম নয় এমন সম্প্রদায়ের মধ্যেও এ ধরণের মানুষ রয়েছে, যারা সহজেই ইসলামধর্মের নামে কনভারটেড হয়ে একটি এক্সট্রিমিস্ট ন্যারেটিভকে গ্রহণ করছে। সে যা-ই হোক, ক্যামেরনের মতে, আইএস-এর মতো গ্রুপগুলো এদের সামনে পেশ করছে একটি সেন্স অব বিলঙ্গিংনেস যা তারা তাদের দেশে থেকে পাচ্ছে না এবং এরা ব্রিটিশ নাগরিকদের উপরও আঘাত করতে দ্বিধা করছে না, যেহেতু তারা ব্রিটিশ জাতিসত্তার প্রতি আনুগত্য বোধ করে না।

প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সামগ্রিক অবস্থাটিকে তার নিজের ভাষায় এভাবে চিত্রিত করেছেন, “So this is what we face—a radical ideology—that is not just subversive, but can seem exciting; one that has often sucked people in from non-violence to violence; one that is overpowering moderate voices within the debate and one which can gain traction because of issues of identity and failures of integration.”

n

বিষয়ভিত্তিক বিভাজনসহ ব্লগসূচি