ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

secretsister0

‘সিক্রেট সিস্টার গিফট এক্সচেঞ্জ’ নামের একটি পিরামিড স্কিম বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে বন্য আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। এতে দশ ডলারের একটি উপহারের বিনিময়ে ছত্রিশটি অনুরূপ উপহারের প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে। কয়েকদিন আগে শুরু হয়ে তা ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি মাধ্যমে নানা রূপে বা আকারে ঝড়ের গতিতে প্রসারিত হয়ে চলেছে।

মিডিয়ার বিশেষত নারী ব্যবহারকারীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে স্কিমে অংশ নেয়ার জন্য। স্কিমটি আপাত দৃষ্টিতে নির্দোষ ও আমুদে প্রতীয়মান হলেও অনেকেই এটিকে স্ক্যাম বলে অভিহিত করেছেন। আর এতে যে ঠকতে হবে তা একরকম নিশ্চিত। তবে ঠকার পরিমাণ বেশী কিছু নয়: মোটে দশ ডলার। আগে চিঠিপত্রের মাধ্যমে এ ধরনের উপহার প্রথা তৈরি হয়েছিল, তারপর ই-মেইলের মাধ্যমে; আর এখন ফেসবুকের মাধ্যমে তা আত্মপ্রকাশ করেছে।

গত অক্টোবর মাসের শেষের দিকে এই কার্যক্রমের আওতায় সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের দ্বারা বার্তা আদান-প্রদান শুরু হয়। বর্তমানে প্রধানত যুক্তরাষ্ট্রেই এর বিস্তার ঘটছে। তবে এরই মধ্যে তা যুক্তরাজ্যেও সংক্রমিত হয়েছে। উপহার বিনিময় কার্যক্রমটির জন্য প্রধানত ফেসবুক গ্রুপসমূহকে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফেসবুক ইনবক্সে কিংবা নিউজফিড আকারে বা এমনকি ই-মেইল আকারেও একটি উপহার দিয়ে স্কিমে যোগদানের আবেদন করা হয়ে থাকে।

এই কার্যক্রমে প্রত্যেককে উপহার দেনেওয়ালা নতুন ছয়জন বন্ধু সংগ্রহ করতে বলা হয়, যারা প্রত্যেকে আবার ছয়জন করে বন্ধু জোগাড় করবে। ট্রি আকারের একটি লিস্টের ১ম জন ৩৬টি উপহার পেলে পরের একজনকে ১ম স্থানে আনা হয়, এভাবে ব্যাপারটি চলতে থাকার কথা। ঠিক মতো চললে, এভাবে নেটওয়ার্ক পিরামিড আকারে বাড়তে থাকার কথা। আপাত দৃষ্টিতে ব্যাপারটা সম্পাদনযোগ্য মনে হলেও, গাণিতিক হিসেবে তা নিয়ে বেশী দূর এগোনো অসম্ভব।

প্রথম ৩৬ জন, ৬ জন করে বন্ধু জুটালে লাগে ২১৬ জন নতুন বন্ধু। পরের ধাপে লাগে ১২৯৬ জন। দশম ধাপে গিয়ে লাগবে ৬০ মিলিয়নেরও বেশী ব্যক্তি। কদিনের মধ্যেই উপহার পাওয়াটা একটা ফ্যান্টাসিতে পরিণত হতে বাধ্য। বা স্কিমটা নিজ থেকেই মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য। যারা স্কিমটিকে চালু করেন, বা পরের ধাপে থাকেন, তারা সাধারণত লাভবান হয়ে থাকলেও, এর পরের পর্যায়ে যারা এসে জুটেন তাদের কপাল ভাল হবার তেমন কোনো সম্ভাবনাই নেই।

পুরো ব্যাপারটাই ফান-স্টাফ হলেও আইনগত দিক থেকে এটি কিন্তু মোটেই সুবিধেজনক নয়। এটা ফেসবুক নীতিমালার পরিপন্থী। এখানে ব্যক্তিগত অনেক তথ্য জানানো দরকার হয়। এ ধরণের স্ক্যামে পড়ে গেলে একাউন্ট বন্ধ হয়েও যেতে পারে। আবার কোনো কোনো দেশে—যেমন: যুক্তরাষ্ট্রে, যুক্তরাজ্যে—সব ধরণের পিরামিড স্কিমই আইনত নিষিদ্ধ; এ নিয়ে বিচার-আচার বাস্তবে যদিও তেমন একটা হয় না।

তা সত্ত্বেও, ফেসবুকে বিপুল সংখ্যক ‘গোপন ভগ্নি উপহার বিনিময়’ গ্রুপ ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে এবং সমানে প্রতিদিন নতুন নতুন গ্রুপ তৈরিও হচ্ছে। যেকোনো সময় আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরাও তা শুরু করে দিতে পারে। কাজেই সাবধান। এক হাজার টাকার টাকার উপহারের বিনিময়ে ছত্রিশ হাজার টাকার উপহারের লোভে পড়া—এক ধরণের জুয়াড়ি মনোভাবেরই পরিচায়ক। একারণে সম্ভব-অসম্ভব বিচার ছাড়াই কেবল নৈতিক দিক থেকে বিবেচনা করে এ থেকে দূরে থাকা ভাল।

secretsister1
.
n

বিষয়ভিত্তিক বিভাজনসহ ব্লগসূচি