ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 

‘সামাজিক পুঁজি’ ধারণাটি নানা সরল রূপে অনেক আগে থেকেই নানাভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এডাম স্মিথ, দুরখেইম, সিমেল, মার্কস, ওয়েবার, লক, রুশো এর সাথে ধারণাটির সংযোগ আছে। তবে ধারণাটি পুরোনো হলেও, পরিভাষা হিসেবে ‘সামাজিক পুঁজি’র আবির্ভাব বেশীদিনের নয়। ‘সামাজিক পুঁজি’ টার্মটি বহু-শাস্ত্রীয় হয়ে উঠেছে এবং সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, নৃবিজ্ঞান ইত্যাদি নানা শাস্ত্রে এটিকে বিভিন্ন রূপে ব্যবহার করা হচ্ছে। ‘সামাজিক পুঁজি’ একটি তত্ত্বও বটে। বরদু, কোলম্যান ও পাটনাম—এই তিনজনকে সাধারণত ধরা হয়ে থাকে তিন মূল ব্যাখ্যাতা হিসেবে। তাছাড়া উল্লেখযোগ্য অন্যরা হচ্ছেন ফুকুইয়ামা, উলকক, পোর্টেস, বার্ট, প্যাক্সটন, এডলার, নারায়ণ ইত্যাদি। আশির দশক থেকে তত্ত্বটির বিকাশ ঘটে চলেছে বিপুলভাবে এবং গবেষকদের মধ্যে ধারণাটি ক্রমাগত জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী হয়ে উঠছে। সমাজবিজ্ঞানে এর সূচনা হয়েছিল একটা স্ফুলিঙ্গের মতো, পরে তা নীতি নির্ধারণী চক্রসমূহের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেও সক্ষম হয়েছে, এবং মাঝে মাঝে বিষয়টি গণমাধ্যমেও আলোচিত হয়ে থাকে। গত পনের বছরে এ নিয়ে গবেষণাজাত লেখালেখির পরিমাণ এক্সপনেনশিয়াল হারে বেড়েছে।

তবে তত্ত্বটি এখনও পরিণত বা পরিপূর্ণ একটি বিজ্ঞান বা শাস্ত্রে পরিণত হয়েছে—এমন দাবী কেউ করছেন না। তবুও সামাজিক পুঁজি তত্ত্বকে দু’কথায় এভাবে প্রকাশ করা যায়: ‘সম্পর্ক ফলপ্রসূ’ (relationships matter)। সাদামাটাভাবে বললে, সামাজিক পুঁজি হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও বর্গের মধ্যকার সম্পর্কের নেটওয়ার্ক। বিভিন্ন শাস্ত্রে বিভিন্ন গবেষক সামাজিক পুঁজিকে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং বিভিন্নভাবে ধারণায়ন ও ব্যবহার করেছেন। কিন্তু সব ক্ষেত্রেই পদটি শেষতক নেমে এসেছে এ ধারণায় যে, ব্যক্তিরা একে অপরের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে এবং এ সম্পর্ককে নানাবিধ পন্থায় ব্যবহার করে থাকে। এ নিয়ে গবেষণা করা গেলে একটা সমাজ চলে কিভাবে তা সম্বন্ধে অনেক কিছু জানা যেতে পারে।

সামাজিক পুঁজি আমাদের জন্য কল্যাণকর হতে পারে, আবার বৈষম্য ও শোষণের হাতিয়ারও হতে পারে। এ থেকে ইতিবাচক, নির্দোষ ও প্রশংসনীয় অর্জন যেমন হতে পারে, তেমনই এটা আবার অন্যকে বঞ্চিত করে সুবিধা-সম্পদ-প্রাধান্য লাভের প্রাতিষ্ঠানিক ‘লবি’ বা এমনকি অর্থনৈতিক শ্রেণিতেও পর্যবসিত হতে পারে। চাকুরীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি বা স্ববিভাগপ্রীতির ফলকে সামাজিক পুঁজির অর্জন হিসেবে দেখতেই হয়, কিন্তু তা নৈতিক দিকে থেকে নিশ্চয়ই অনুমোদনযোগ্য নয়।

পিয়ের বরদু (Pierre Bourdieu) সামাজিক পুঁজি বলতে বুঝিয়েছেন ধনিক শ্রেণির উচ্চ ও সুবিধাজনক সামাজিক অবস্থানকে, যা তারা সংঘবদ্ধভাবে তৈরি করেছে নিজেদের সংস্কৃতিকে উচ্চ ও স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে এবং তা ললন করার ও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সঞ্চালিত করার জন্য উপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম ও ব্যবস্থার মাধ্যমে। অন্যদিকে, রবার্ট পাটনাম (Robert Putnam) সামাজিক পুঁজিকে একটি ইতিবাচক সম্পদ হিসেবে দেখেছেন, যার অভাব ঘটলে সমাজ অবক্ষয়িত হতে থাকে। তিনি দাবী করেন, মার্কিন সমাজে সামাজিক পুঁজি ক্রমাগতভাবে চরম ঘাটতির দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং এর সর্বনাশা পরিণাম সম্বন্ধেও সবাইকে সতর্ক করেছেন। তবে সামাজিক পুঁজিকে সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি ইতিবাচক প্রয়োজন হিসেবেই সাধারণত দেখা হচ্ছে।

সামাজিক পুঁজি তত্ত্বে কতকগুলো বিষয়কে বহুলভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে, যেগুলোকে সামাজিক পুঁজির বিভিন্ন ডাইমেনশন বলা হয়। প্রথমেই এর একটা তালিকা দেয়া হলে ভাল হবে। বিষয়গুলো হচ্ছে:

১. সম্পর্ক (relationship),
২. সম্পর্কের নেটওয়ার্ক (network of relationships),
৩. নেটওয়ার্কে সদস্যভুক্তি (membership)
৪. সদস্যদের সাধারণ মূল্যমান (common/shared values),
৫. আচরণগত সাধারণ রীতিনীতি (common social/behavioral norms),
৬. পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থা (trust),
৭. সমরূপ পারস্পরিক আদান-প্রদান (reciprocity),
৮. সহযোগিতা (cooperation),
৯. সাধারণ মঙ্গল (common good) ইত্যাদি।

ব্যক্তিরা পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে এবং এই সংযোগকে কালের সাথে সাথে লালন ক’রে, সংযুক্ত ব্যক্তিরা সম্মিলিতভাবে কাজের মাধ্যমে এমন কিছু অর্জন করতে পারে, যা তাদের একার পক্ষে হয় অসম্ভব, নয়তো খুবই কষ্টকর। ধারাবাহিকভাবে সংযুক্ত নেটওয়ার্কসমূহের মাধ্যমে মানুষেরা নিজেদেরকে পরস্পরের সাথে যুক্ত করে এবং তারা একটা সাধারণ মূল্যমানের (common/shared value) বা আচরণের রীতিনীতির (norms) অংশীদার হয়ে থাকে, এবং নেটওয়ার্কগুলো শেষতক বিনিয়োজিত সম্পদে পরিণত হয়, যাকে এক ধরণের পুঁজি বলে সাব্যস্ত করা সম্ভব। মোট কথা, কোনো সাধারণ মূল্যমানের ভিত্তিতে যত বেশী মানুষ পরস্পরের সাথে সংযুক্ত হয়, তত বেশী পরিমাণে সামাজিক পুঁজি উদ্ভবের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

নেটওয়ার্ক, তাতে সংযুক্ত ব্যক্তিরা, সংযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যকার কমন মূল্যমান ব্যক্তিদেরকে পরস্পরের নিকটবর্তী করে। তবে তাদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস/আস্থা না থাকলে তা কোনো কার্যকর সামাজিক পুঁজি হয়ে উঠে না। এই আস্থা/বিশ্বাসকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে কেউ কেউ মনে করে থাকেন। একে চালিকা করে মানবিক শাস্ত্রের তিনটি বিভাগে সামাজিক পুঁজি নিয়ে নানাবিধ গবেষণা করা হচ্ছে। সামাজিক পুঁজি সংহত প্রতিষ্ঠান নির্মাণ এবং সুস্থ-আনন্দদায়ক সামাজিক পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

পুঁজি বলতে আমরা বুঝে থাকি, বাজার থেকে লাভের প্রত্যাশায় বিনিয়োগকৃত রিসোর্স বা সম্পদকে। পুঁজি তৈরিতে ও বিনিয়োগে দুটো ভিন্ন ধাপ জড়িত থাকে: ১. উৎপাদন প্রক্রিয়ার উৎপাদ হিসেবে সম্পদ (পুঁজি), এবং ২. নতুন উৎপাদনের লক্ষ্যে (যা মুনাফা হিসেবে গণ্য) উক্ত সম্পদের বিনিয়োগ। উভয় ধাপই মূলত বিনিয়োগ ও সঞ্চালন প্রক্রিয়া, এবং সেকারণে তাদেরকে প্রসেস বলতে হয়। এই প্রসেসগুলো সময় ও প্রচেষ্টা সাপেক্ষ। ফলে প্রসেসগুলোর সাথে সম্পৃক্ত মানবমণ্ডলীর মধ্যকার সম্পর্ক, আস্থা, সহযোগিতা ইত্যাদির সমন্বিত অবস্থাটিও একটি সম্পদ ও পুঁজি হয়ে উঠে। এ অবস্থাটি নির্মাণে সম্পদ বিনিয়োগ করলে তা থেকেও মুনাফা বাড়তে পারে। অর্থনৈতিক ভাবনায় একসময় পুঁজি বলতে বুঝা হতো সঞ্চিত অর্থকে, যখন সেটাকে মুনাফার আশায় বিনিয়োগ করা হতো। কিন্তু পরে মেশিনপত্র, ভবনাদি ইত্যাদিকে ‘ভৌত পুঁজি’র অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে মানব পুঁজি (human capital), সাংস্কৃতিক পুঁজি (curtural capital), সামাজিক পুঁজি (social capital) ইত্যাদি ধারণারও সন্নিবেশ ঘটতে থাকে।

‘সামাজিক পুঁজি’ টার্মটিকে তিনটে বিষয়ের সাথে যুক্ত করে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে: (১) নেটওয়ার্ক গঠনে সম্পৃক্ত পরিমেয় (জায়গা, আসবাব ইত্যাদি) ও অপরিমেয় (মানবিক-পুঁজি, সম্পর্ক, মূল্যমান ইত্যাদি) সম্পদ এবং সেগুলোর মূল্য, (২) নেটওয়ার্ক গঠনকারী সম্পদসমূহের মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ক, ও (৩) সম্পর্কবদ্ধ সম্পদের উপর তাদের মধ্যকার সম্পর্কের প্রভাব বা ফলাফল (impact)। বৈচিত্র্যমণ্ডিত বা অসম বর্গসমূহের বর্ধিত কার্যদক্ষতা, বাণিজ্যিক ফার্মসমূহের বিকাশ-বৃদ্ধি, উৎকৃষ্ট ব্যবস্থাপনা, দক্ষ সাপ্লাই চেইনে বিদ্যমান সম্পর্ক, কৌশলগত মৈত্রী থেকে প্রাপ্য সুফল, সম্প্রদায়ের বিবর্তন ইত্যাদি ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে সামাজিক পুঁজি ধারণাটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

আগেই বলা হয়েছে, সামাজিক পুঁজি এখনও খুব একটা সুস্পষ্ট ধারণা নয়; ফলে স্বভাবতই নানাজন নানাভাবে এর সংজ্ঞা দিয়েছেন, ব্যাখ্যা করেছন এবং একে ব্যবহার করছেন। উইকিপিডিয়া অনুসারে বলা যেতে পারে যে, সামাজিক পুঁজি হচ্ছে অর্থনৈতিক পুঁজি ও সাংস্কৃতিক পুঁজির একটা রূপ, যেখানে সামাজিক সম্পর্কের জালিকার ভূমিকা কেন্দ্রীয় অবস্থানে বিদ্যমান থাকে এবং সেখানে পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থা (trust), সমরূপ পারস্পরিক আদান-প্রদান (reciprocity) এবং সহযোগিতা (cooperation) রূপে বিনিময় সংঘটিত হয়, এবং সংঘটকরা ‘সকলের জন্য ভাল’ (common good) উৎপাদন করে। সামাজিক পুঁজি সংজ্ঞায়ন প্রচেষ্টার সাথে যুক্ত প্রধান ধারণাগুলো হচ্ছে: সম্পর্ক জালিকা, সংযুক্ত ব্যক্তিবর্গের সাধারণ মূল্যবোধ, সামাজিক আচরণের রীতিনীতি, আস্থা, আদান-প্রদান, সহযোগিতা ইত্যাদি। এখানে সম্পর্ক-জাল হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও বর্গের বাস্তব জাগতিক সম্পর্কের নেটওয়ার্ক এবং সামাজিক রীতিনীতি বলতে সমাজবিদরা সাধারণত সমাজের অনুচ্চারিত কিন্তু প্রশ্নাতীতভাবে গৃহীত নিয়ম-নীতিগুলোকে বুঝিয়ে থাকেন।

সম্পর্কের নেটওয়ার্ক হচ্ছে সামাজিক পুঁজির ভিত্তি-ভূমি। সম্পর্কেরও নানা রূপ-ধরণ থাকতে পারে। সম্পর্কের রূপগুলো নিয়ে নানা মত, নানা ব্যাখ্যা ও নানা বিবাদ থাকলেও সাদামাটাভাবে নিচের তিনটি রূপের কথা উল্লেখ করা যায়।

(ক) বন্ধন (Bond): বন্ধন বলতে নিকট সম্পর্ককে বুঝিয়ে থাকে। পরিবার ও গোত্রের সদস্যদের মধ্যকার আত্মীয়তার সম্পর্ক, নিকট বন্ধু ও প্রতিবেশীদের মধ্যকার সম্পর্ক, সমমনা বন্ধুদের মধ্যকার সম্পর্ক, সম-আদর্শ, ধর্ম, সংস্কৃতি, জাতিসত্তা ও মূল্যবোধের অধিকারী একই সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যকার সম্পর্ক ইত্যাদিকে বন্ধন স্বরূপ সামাজিক পুঁজি আখ্যা দেয়া যায়।

(খ) সেতু (Bridge): দূরবর্তী সম্পর্কগুলোকে, যেমন: দূরবর্তী প্রতিবেশী, সহকর্মী, সহযাত্রীদের মধ্যকার সম্পর্কগুলোকে, এবং আদর্শ-সংস্কৃতি-ধর্মে ভিন্ন কিন্তু অবস্থানগত দিক থেকে নিকটবর্তী বর্গগুলোর মধ্যকার সম্পর্কগুলোকে সেতু স্বরূপ সামাজিক পুঁজি বলা যায়।

(গ) সংযোগ (Linkage): অবস্থানগতভাবে দূরবর্তী ও ভিন্ন সংস্কৃতি, জাতিসত্তা, ধর্মের মানব-বর্গের মধ্যকার সম্পর্ককে সংযোগ স্বরূপ সামাজিক পুঁজি বলা যায়।

‘আমরা কী জানি’ প্রশ্নটির মতোই—বা তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ—‘আমরা কাকে চিনি’ প্রশ্নটিও। এর একটা সাদামাটা উদাহরণ হচ্ছে এই যে, অনেক ক্ষেত্রেই একজন ‘কী জানে’ তার ভিত্তিতে নয়, সে ‘কাকে চেনে’ তার কারণে চাকুরী, পদোন্নতি, প্রতিষ্ঠা পায়। এমনকি হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা থেকে শুরু করে প্রাপ্ত নানা প্রাতিষ্ঠানিক সেবার মান-পরিমাণ ‘কাকে চিনি’-এর উপর নির্ভর করে। আবার ইতিবাচক ভাবে দেখলে বলা যায়, অন্যদেরকে চেনা ও বুঝতে পারা এবং সম্পর্কের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা জীবন ও সমাজে গুণগত পার্থক্য বয়ে আনতে পারে। অন্যদের সাথে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে আমরা যে কবল আত্মপরিচয় নির্ধারণ করে থাকি তা-ই নয়, তা হয়ে ওঠে জীবনের নিরাপত্তা ও আনন্দের উৎসও। তাছাড়া বিশ্বে বিরোধ ও সংঘাত ক্রমাগতভাবে কমতে পারে, যদি নব নব বন্ধন, সেতু ও সংযোগ নির্মাণে ক্রমাগতভাবে সফল হওয়া যায়।

সামাজিক পুঁজির নানাবিধ উপকারিতার কথা অনেক গবেষকের লেখায় উঠে এসেছে। তারা মনে করেন, বিভিন্ন সেক্টরে ও বিভিন্ন ক্ষমতাবলয়ের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন সম্ভবপর হয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জিডিপি বৃদ্ধি, শ্রম বাজারের কার্যদক্ষতা বৃদ্ধি, অপরাধ হ্রাসকরণ, প্রতিষ্ঠানসমূহের দক্ষতা বৃদ্ধিতে এর ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষাগত অর্জন, গণস্বাস্থ্য, স্থানীয় প্রশাসন, উৎপাদন, সমস্যা-সমাধান ইত্যাদির জন্য সামজিক পুঁজি একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক।

বর্তমান কালে পশ্চিমে নারীবাদী নারীদের একটি অংশ ‘যত্ন নৈতিকতা’ নামক একটি নীতিদর্শন সম্প্রসারণের কাজে নিয়োজিত আছেন। অন্যদিকে, কতিপয় পুরুষ চিন্তক সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতিতে ‘সামাজিক পুঁজি’ নামক ধারণাটিকে গুরুত্বের সাথে সংজ্ঞায়ন ও বিশ্লেষণে সচেষ্ট হয়েছেন। যত্ন নৈতিকতা এবং সামাজিক পুঁজি—এ দুয়ের মধ্যে একটা বিষয়ে মিল রয়েছে। এদের উভয়েরই ভিত্তি ‘সম্পর্ক’। তবে যত্নসম্পর্কের উৎস গর্ভ, পরিবার-ই এ সম্পর্কের প্রধান ভূমি। অন্যদিকে, সামাজিক পুঁজি বলতে যে সম্পর্ককে বুঝানো হচ্ছে তা মানুষের বেছে নেয়া বা গড়ে তোলা সামাজিক সম্পর্ক, যা অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে, মুনাফা/সুবিধা এনে দিতে পারে এমন পুঁজি হিসেবে বিবেচ্য। যত্ন-সম্পর্ককে দেখা যায় নৈতিকতার বিষয় হিসেবে, কিন্তু সম্পর্ককে সামাজিক পুঁজি দেখতে চাচ্ছে একটি ব্যবসায়িক অবলম্বন হিসেবে। এখানেও সম্ভবত আমরা চিন্তার ক্ষেত্রে নারী-মনস্তত্ত্ব ও পুরুষ-মনস্তত্ত্বের মধ্যকার চিরায়ত ফারাকটিকেই আরও একবার দেখতে পাচ্ছি।

n

বিষয়ভিত্তিক বিভাজনসহ ব্লগসূচি