ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

বাংলাদেশে আইএস আছে—এ কথা আমরা শুনেছিলাম মার্কিন সরকারের কাছ থেকে। এর প্রতিক্রিয়ায় আমাদের সরকার দ্রুততার সাথেই কথাটিকে নাকচ করে দেয়। তবে বিরোধটা শেষতক একেবারেই অনিষ্পাদিত থেকে গিয়েছে বলা চলে না। যতদূর মনে পড়ে, ক’দিন আগে পত্রিকায় এও এসেছিল যে, বাংলাদেশে নিয়োজিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত অবশেষে স্বীকার করেছেন এদেশে আইএস নেই।

বাংলাদেশ সরকার কেন আইএস সংক্রান্তে “আছে”টা মেনে নিচ্ছে না?—এটা বড় প্রশ্ন নয়। বড় প্রশ্নটা হচ্ছে, মার্কিন সরকার কেন “বাংলাদেশে আইএস আছে”—কথাটিকে মেনে নিতে আমাদেরকে এতো পীড়াপীড়ি করেছে? “কেন” প্রশ্নটি এখানে অপ্রকাশিত মার্কিন উদ্দেশ্যের সাথে সম্পর্কিত। তবে দাবী করা হতে পারে, আইএস দমনে বাংলাদেশকে সহায়তা করাই মার্কিনীদের উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্য মার্কিনীদের কাছ থেকেই প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু সব প্রকাশিত উদ্দেশ্যই তো অন্তরের প্রকৃত উদ্দেশ্য নয়। রাজনীতিতে কূটনীতি বলে একটা বিষয় তো আছেই। সন্ত্রাস দমনে সহায়তা করার জন্য “আইএস আছে” এই স্বীকৃতির কোনো আবশ্যকতাই যেহেতু নেই, সেহেতু তাদের উক্ত উদ্দেশ্যকে সন্দেহের চোখে দেখা যেতেই পারে।

মার্কিনীদের প্রকৃত উদ্দেশ্য আমাদের কাছে অপ্রকাশিত থাকলেও বিষয়টিকে অন্যভাবে পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। পরীক্ষার বিষয় হচ্ছে “বাংলাদেশে আইএস আছে” বাক্যের “আছে” শব্দের অর্থ। “আছে” শব্দটির দু’রকম অর্থ হতে পারে। একটা খুবই বাস্তবসম্মত আক্ষরিক অর্থ; যে অর্থে বলা চলে, সিরিয়ায় ও ইরাকে আইএস আছে। ‘আছে’র এ অর্থে বাংলাদেশে আইএস নেই। একইভাবে, এ অর্থে, বলা চলে, আমেরিকা-ইউরোপেও আইএস নেই।

কিন্তু যদি কোনো দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত কোনো ব্যক্তি আইএস-এর সাথে সম্পর্কিত হয়ে থাকে, তবে কি বলা যাবে যে, সেদেশে আইএস ‘আছে’? ‘আছে’র এ অর্থে কি দাবী করা যায় না যে, ইউরোপেও আইএস আছে? আছে আমেরিকাতেও? সেখানে কি আইএস সংশ্লিষ্টদের দ্বারা সন্ত্রাসী ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে না? কিন্তু আমেরিকা বা ইউরোপের দেশগুলোকে তো ঘটা করে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ‘আইএস থাকা’র স্বীকৃতি দিতে হচ্ছে না। তারা বলছেনও না যে, তাদের দেশে আইএস আছে।

বাংলাদেশের বেলায় তাদের এ আবদারের তাহলে অর্থ কী?

তবে অর্থ যাই হোক, এর পিছনে মার্কিন উদ্দেশ্য যাই থাক, আমাদের সাংবাদিকদের কারও কারও মনস্তাত্ত্বিক দুরবস্থাটি নিয়ে দুটো কথা না বললেই চলে না। “এদেশে কি আইএস আছে? আপনার কী মত? আপনার কী ধারণা?” খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে এধরণের প্রশ্ন করার বিপরীতে হ্যাঁ/না যে উত্তরই কোনো মন্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া যাক না কেন তার বস্তুনিষ্ঠ অর্থ ও প্রয়োগ সে সাংবাদিক দেখাতে পারবেন না। এ ধরণের প্রশ্ন করে মন্ত্রীদেরকে কথা বলতে বাধ্য করার কোনো মানে হয় না। কোনো উত্তর না দেওয়াটাও তো একটা উত্তর হয়। সংবাদে লেখা যায়, “প্রশ্ন করা হলে তিনি তা এড়িয়ে যান।” তবে হ্যাঁ বা না বা চুপ থাকা—সম্ভাব্য তিন উত্তরের কোনোটির প্রাপ্তিতেই দেশের কোনো প্রকৃত ফায়দা হয় না; এতে আছে শুধু বুলি-সর্বস্ব রাজনৈতিক ফায়দা।

বিরোধীরাও বিষয়টি নিয়ে কম খেলছেন না। বাংলাদেশে জঙ্গি আছে বলা হলে তারা তারস্বরে চিৎকার করেছেন, “জঙ্গি বলে বলে সরকার দেশকে জঙ্গি বানিয়ে ছেড়েছে।” আইএস নেই বলে দাবী করা হলে আবার তারা বিষয়টিকে মানতেও চাচ্ছেন না। ফলে “জঙ্গি/আইএস আছে” বা “জঙ্গি/আইএস নেই”—সরকার যেটাই বলবে বিরোধীরা সেটাকে নিয়েই কথার খেলা খেলবেন।

n

বিষয়ভিত্তিক বিভাজনসহ ব্লগসূচি