ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

(৩০/৫/২০১১ দুপুরে এডিট করা)

মুহম্মদ ও আবুবকর বাল্যকাল থেকেই বন্ধু ছিলেন।

এ দুই প্রাণের বন্ধু একটি বিষয়ে সহমত ছিলেন। কাকে ঈশ্বর সাব্যস্ত করা যায় এ বিষয়ে দুজনই খুব খুঁতখুঁতে ছিলেন। যেগুলোকে পছন্দ হতো না, সেগুলোর ধারই ধারতেন না।

আমরা আবুবকরকে দেখেছি তাঁর বন্ধুর চল্লিশ বছর বয়সের সময়ে তাঁর বলা সবচে নাজুক কথাটি শুনেও তাঁকে ছেড়ে না গিয়ে বরং আরও শক্তভাবে লেগে পড়তে। তারপর তেরটি বছর তিনি কী না করলেন! দেদারসে নিজের ধন উড়িয়েছেন বন্ধুর সহায়তার জন্য।

এমন বন্ধু সম্বন্ধে নবী বলেছিলেন: যদি আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে বন্ধু রূপে নিতাম তবে আবুবকরকেই নিতাম। এতে আবুবকর এর বিশালতার যেমন প্রকাশ ঘটেছে, তেমনই মুসলিম জীবনের মর্মকথাটিও আমরা এ থেকে স্পষ্ট বুঝতে পারি। আর সেটি হলো এই যে, আল্লাহই আমাদের জীবনের একমাত্র ভালবাসার ধন, যে ভালবাসায় অন্যের কোনো অংশ নেই।

আবুবকর বন্ধুর সাথে সহচর হয়ে দেশ ছাড়লেন। সেই তের বছরের পর কাটল আরও দশ বছর। বন্ধু তাঁর কাজ সম্পন্ন করে মারা গেলেন। ততদিনে তিনি আরবের ইতিহাসে এক বিরাট পুরুষ হয়ে উঠেছেন। এমন জনের মৃত্যুতে নগরবাসী কী করে, তাদের মনের অবস্থা কী হয়, তা তো কিছুটা হলেও আন্দাজ করাই যায়। শোকাহত মানুষ বিশ্বাসই করতে পারছিল না, এমন মানুষ কিভাবে চলে যান!

এ সময়ে আমরা আবুবকরকে দাঁড়াতে দেখি নগরবাসীর সামনে এবং তিনি বললেন। কিন্তু তিনি পৃথিবীর আর সব মানুষেরা এক্ষেত্রে যা বলে থাকে তা থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত কথাটি বলেছিলেন। তিনি বললেন: তোমাদের যারা মুহম্মদের উপাসনা কর, তারা জেনে নাও মুহম্মদ মারা গিয়েছেন। আর যারা আল্লাহর উপাসনা কর, তারা শুনে রাখুক আল্লাহর মৃত্যু নেই।

আমরা আরও কত মানুষের আরও ক্ষুদে বন্ধু নকল বন্ধুদের চোখের জল নাকের জল একাকার হতে দেখেছি! দেখে দেখে তাদের শিক্ষা আমার মাথায় জেঁকে বসে গেছে—ঠিক যেভাবে সর্ষের ভেতর ভুত জেঁকে বসে।

আমি ভাবি, আমি হলে কী করতাম? কী বলতাম?

আমি আমার শিক্ষকদের কাছ থেকে এ যাবৎকাল যা শিখেছি তার ভিত্তিতে এ কথা বলতে পারি যে, আমি আমার শিক্ষকদের অসম্মান হতে দিতাম না। আমি আমার একুল ওকুল দু’কুলের (কুল—পক্ষ বা গোষ্ঠী অর্থে নয়, তান্ত্রিক সাধন পন্থা অর্থে) শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে বলতে পারি আমি অবশ্যই বলতাম:

“তোমরা শোন! তোমরা দুঃখ করো না। এই বিরাট পুরুষ মৃত্যুর মধ্য দিয়ে নিজেকে আজ অমর করে তুললেন। তিনি আমাদের ভক্তির মণিকোঠায় বেঁচে থাকবেন চিরকাল।”

আবুবকরের এই বিপরীত কথাটিও মুসলিম জীবনের আর এক মর্মকথা। মানুষের কথার ভার পাহাড়ের চেয়েও বেশী। আমরা যা করি তা হলো, নিজের জীবনকে কথার ভার থেকে মুক্ত করে, কথককে মাথায় করে নাচা, তাও আবার সুবিধামত বছরের একদিনের কি দু’দিনের একবেলা কি দু’বেলা।

n

বিষয়ভিত্তিক বিভাজনসহ ব্লগসূচী