ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

যা দেখছি তাতে বুঝেছি এইটুকু। সংবিধান সংশোধনের দায়িত্ব সংসদের। আইন প্রণয়নের দায়িত্ব সংসদের। সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী বিচারের দায়িত্ব আদালতের। একই সাথে খোদ সংবিধানের ও আইনের শুদ্ধতা বিচারের ভারও আদালতের। সংবিধান ও আইন বলবত থাকা কালে যেকোনো পরবর্তী সময়ে সংবিধানের কোনো ধারা বা সংশোধনী অথবা কোনো আইনকে অবৈধ বলে সাব্যস্ত করতে পারে আদালত।

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে—

(১) সংবিধান চূড়ান্ত বিচারে কার অধিকারে?
(২) আদালতের রায়ে সংবিধান আপনা আপনি নতুন রূপ নেয় কি?
(৩) আদালতের রায়ে প্রাপ্ত সংবিধানের নতুন রূপ কোন তারিখ থেকে বলবত হয়?
(৪) নতুন সংবিধান কে প্রিন্ট করবে?
(৫) প্রিন্টেবল রূপের বিষয়ে সংসদের কী করার আছে?
(৬) তারপর, যদি থাকে, সংসদ দেরী করলে বা ২/৩ অংশের সম্মতি না পাওয়া গেলে কী হবে?
(৭) এই অন্তর্বর্তী কালের সংবিধান আসলে কোনটি? যেটি প্রিন্ট অবস্থায় আছে সেটি? নাকি যেটি প্রিন্ট হবে সেটি?
(৮) অন্যান্য দেশে, বিশেষ করে ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোতে সংবিধানের বিষয়ে আইন প্রণেতাগণ ও আদালতের সম্পর্কটি কি আমাদের দেশের অবস্থার মতই?

তাহলে কি এই দাঁড়াচ্ছে যে, আমরা সবসময় একটি ট্যানটিটিভ সংবিধান নিয়ে চলি? আজ আমরা সংবিধানের ভিত্তিতে যা করব তা কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোনো এক আগামীকাল অবৈধ হয়ে যেতে পারে। এরূপ সম্ভাবনা মেনে নিয়েই আমাদেরকে কাজ করে যেতে হবে। এটাই কি অবস্থা? ভবিষ্যতে যদি খোদ আদালতই বলে বসে যে, আদালতের আগের রায়গুলোই ঠিক নয়, তখনই বা কী হতে পারে?

দেখে আর শুনে যা বোঝা যাচ্ছে তা হলো: সংসদের প্রয়োজন হচ্ছে। তবে এতেও অস্পষ্টতা থাকার সম্ভাবনা থেকে গিয়েছিল। তা না হলে সরকার আদালতের রায় প্রতিফলিত করে নতুন সংবিধান প্রিন্ট করলো কেন আর তারপর সে কপিগুলো আবার অপ্রকাশিত থাকলো কেন? নাকি আমার এই প্রশ্নটাই ভুল ধারণার উপর ভিত্তি করে করা?

মূল প্রশ্ন দুটি দাঁড়াচ্ছে এরকম: সংবিধান সংশোধনের চূড়ান্ত ক্ষমতাটি কার?

এক. হতে পারে আদালতের। সেক্ষেত্রে জটিলতা হচ্ছে সংবিধানের নতুন রূপায়নটা কে করবে?

দুই. সংসদের। এক্ষেত্রে এখন না হয় সরকারে যারা আছেন তারা ২/৩ অংশেরও বেশী আসনের অধিকারী, তাই আদালতের মীমাংসা অনুসারে সংসদ বাকীটুকু করতে পারে। ভবিষ্যতে সংসদের অবস্থা এরকম নাও থাকতে পারে, যেমনটি বেশ খানিকটা অতীত কালেও ছিল না। এখন তাহলে প্রশ্ন, সে অবস্থায় আদালত কিছু বলবে না এই আশা নিয়ে বসে থাকতে হবে?

আইন যারা ভাল বোঝেন তাঁদের কেউ যদি এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখে একটি ব্লগ দিতেন তবে শিখতে পারতাম অনেক কিছু। এটি একজন শিক্ষার্থীর প্রশ্ন—যদি কেও সহায়তা করেন। নানা মাধ্যমে নানা রকম শুনতে শুনতে সব গুলিয়ে যাচ্ছে।

মন্তব্যের ঘরে লিখে লিখে দিলেও বিভ্রান্তি দূর হতো। আমার মনে হয় আমার মতো আরও অনেকেই এ বিষয়ে বিভ্রান্তিতে ভুগছে।

সংবিধানে একটি যৌক্তিক সংগতি থাকবে—এটি আশা করা দোষের কিছু নয়। সমাজে সুশীল বলে যারা পরিচিত তাদের, মুক্তিযোদ্ধাদের, বামপন্থীদের আকাঙ্ক্ষা তাই। অনেকে বলেন যে, বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্মের বিষয়টি খুব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়—থাকলেই কী আর না থাকলেই কী? কিন্তু সমস্যাটি হলো যৌক্তিক অসঙ্গতির মধ্যে। এতে জাতি হিসেবে আমাদের চিন্তার গলতটি প্রকাশিত হয়ে পড়ে খোদ সংবিধানের মধ্য দিয়েই। এটি একটি বড় ব্যাপার বলেই আমার কাছে মনে হয়।

অনেকে আবার ধর্মকে একটি আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে রাজনীতির অধিকার কাউকে দিতে চান না। এটিও মানুষের স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ কি না তা বিবেচনা করে দেখার অনুরোধ করলাম।

কিন্তু দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত মনে হয় যুক্তি নয়, চিন্তা নয় বরং অনুভূতির কাছেই যে সংবিধানের আত্মসমর্পণ ঘটতে যাচ্ছে তা কি অনুমান করা যাচ্ছে না? শেষ পর্যন্ত রান্নাঘরে খিচুরিই প্রস্তুত হতে যাচ্ছে কি?

n

বিষয়ভিত্তিক বিভাজনসহ ব্লগসূচী