ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

অনেকেই অজ্ঞেয় ঈশ্বরের মধ্যে এবং ঈশ্বরের পরিকল্পনা মানুষের অজানা থাকলেও চূড়ান্ত বিচারে তা ন্যায্য, শুভ ও সুন্দর—এমন ধারণার মধ্যে জীবনের অর্থ খুঁজে পান, অনেকেই পান মানবজাতির সার্বিক প্রগতির মধ্যে। আবার এদের মধ্যেও জীবনের কোনো অর্থ নেই বলেও অনেকে মনে করেন। শেষোক্তরা মনে করেন, যেসব শক্তি বা বল মানুষকে সৃষ্টি করেছে, মানুষ সেগুলো দ্বারা পরিত্যক্তও হয়েছে। এসবের না আছে দেখার সামর্থ্য, না আছে হিতৈষা, আর না আছে কোনো প্রাধিকার। এই নির্বিকার ও উদাসীন ক্লীব জগতে সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ মানুষকে নিজেকেই নিজেকে রক্ষা করতে হবে, নিজের পথ নিজেকেই খুঁজে নিতে হবে।

হতাশয় ক্লিষ্ট আর্থার শোপেনহাওয়ারের বিলাপের গভীরতা সুবিশাল। হায়! সবকিছুই হারিয়ে যায়! আর যা কিছু হারিয়ে যায়—এখন যা আছে তা যদি পরের কোনো এক মুহূর্তে হারিয়েই যায়, স্বপ্নের মতো—তার জন্য উদ্যোগ, প্রচেষ্টাও আদতে কোনো মূল্য বা তাৎপর্য বহন করে না। সব ভাল জিনিসও অনর্থক, জগত চূড়ান্ত সব বিচারেই দেউলিয়া, আর জীবন এমন এক ব্যবসা যেখানে বিনিয়োজিত মূলধন কখনোই লাভের মুখ দেখে না। মানুষ এমন এক অস্তিত্ব যাকে তুষ্ট করা কঠিন। আর সবকিছু পাওয়ার তুষ্টিও তাকে অধিষ্ঠিত করে যন্ত্রণাকর একঘেয়েমির শিখরে। একঘেয়েমি হচ্ছে অস্তিত্বের শূন্যতার বা অন্তঃসারশূন্যতার চূড়ান্ত অনুভূতি।

মানবজীবনের কোনো অর্থ নেই—এ মতের পক্ষে সমকালীন মার্কিন দার্শনিক রিচার্ড টেইলর অনুরূপ যুক্তিই দিয়েছেন। আমরা নিরন্তর মেহনত করে চলেছি বিচিত্র সব লক্ষ্য অর্জনের জন্য, এদের অধিকাংশেরই—প্রকৃতপক্ষে এদের প্রত্যেকটিরই—গর্ভে লালিত হচ্ছে নশ্বর তাৎপর্য। একটা অর্জিত হবার সাথে সাথেই আমরা আরেকটার জন্য যাত্রা শুরু করি; যেন প্রথমটা ছিলই না, আর পরেরটাও কমবেশি একই প্রকৃতির। যেকোনো দিন একটা ব্যস্ত সড়কে চেয়ে দেখুন! দেখবেন, লোকেরা হেথা যাচ্ছে, যাচ্ছে হোথা। কিন্তু কিসের সন্ধানে, কিসের উদ্দেশ্যে? কোনো অফিসে, কোনো দোকানে। পুনরাবৃত্ত হচ্ছে একই কাজ—গতকালের কাজ আজ আবার করছে, করবে আগামীকালও …. সবকটিরই লক্ষ্য হচ্ছে ঘর ও পরিবার স্থাপন এবং তা দীর্ঘস্থায়ী করা। যারা নতুন আসবে তারাও সেই একই পথের পথিক হবে, একই পায়ের চিহ্ন ধরে চলবে …. আমাদের অর্জনগুলো সুন্দর হতে পারে, কিন্তু সবই বুদ্বুদের মতো, জলে ভেসে যাওয়া বালির পিরামিডের মতো; অচিরেই তা শুধু কৌতূহলের বিষয়ে পর্যবসিত হয় …. জাতির স্থপতিদের, অগ্রসেনানীদের কংকালের উপর গড়ে ওঠে জাতি, কেবলই ক্ষয় ও ধ্বসে পড়ার জন্য; এ ধ্বংসস্তূপকে ভিত করে উত্থিত হয় অন্যরা, একই তকদিরের পুনরাবৃত্তির জন্য।

 

1969.47.43_1a

[The Waiting Room, by George Tooker (1959). Richard Taylor argues that if we look around us and observe people all doing the same things today that they did yesterday and will repeat tomorrow, we can see that life is a meaningless repetition of pointless activities. ছবিটি ম্যানুয়েল ভেলাসকুয়েয-এর বইতে রয়েছে। এখানে সংযোজনের জন্য ওয়েব থেকে নেয়া হয়েছে ও উপর-নিচে ক্রপ করাও হয়েছে।]

নিহিলীয়রা বলে থাকেন, এমন কোনো বৃহত্তর সমগ্র নেই, কোনো পরিকল্পনা নেই যার মধ্যে আমরা অংশ নিতে পারি, কোনো অবদান রাখতে পারি। মানবজীবন হচ্ছে অর্থহীন একই কাজের অন্তহীন পুনরাবৃত্তি। সূর্যের নিচে নতুন কিছু নেই; যা ঘটবে, অতীতে তা বারবার কতবারই না ঘটেছে! শোপেনহাওয়ার ও টেইলরের দর্শন এ মতের উপরেই প্রতিষ্ঠিত। অন্যদিকে কিছু দার্শনিক, যেমন আর. এম. হেয়ার, নিহিলীয় মতকে গ্রহণ করেননি। কোনো ব্যক্তি যদি এমন কোনো লক্ষ্য নিজের জীবনের জন্য নির্বাচন বা নির্ধারণ করেন, যা তাকে দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম, এবং যদি তিনি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করতে পারে যে, নির্বাচিত লক্ষ্যটি তার জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তবে সে-লক্ষ্য অর্জনের সাধনায় নিয়োজিত জীবনের একটি অর্থ হয় বলে হেয়ার মনে করেন।

অস্তিত্ববাদের প্রতিষ্ঠাতা দার্শনিক হিসেবে পরিচিত কিয়ার্কেগার্দ মনে করেন, জীবনের তিনটে প্রধান স্টাইল বা রূপ বা ঢং রয়েছে: নান্দনিক, নৈতিক ও ধর্মীয়। নান্দনিক জীবন সংক্রান্ত প্রচলিত নীতিটি হচ্ছে জীবন উপভোগ করার নীতি। এ দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে, জীবন উপভোগ করার মধ্যেই জীবনের অর্থ নিহিত। বিজ্ঞানী, কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, গণিতবিদ, দার্শনিক—ইত্যাকার একটি প্রতিভার স্ফুরণ, সম্পদ, সম্মান, খ্যাতি, ক্ষমতা, একটি প্রতিভাদীপ্ত পেশা ইত্যাদির মাধ্যমে জীবনকে উপভোগ করার কথাই এখানে বলা হয়ে থাকে। অপরদিকে, একটি ভাল নৈতিক জীবন গড়ে তোলার সংকল্পের মাধ্যমেও জীবনে অর্থ সন্নিবিষ্ট করার কথাও আমরা শুনতে পাই। এখানে নৈতিক নিয়মগুলোকে বাইরে থেকে আরোপিত বাধ্যবাধকতা হিসেবে নয়, বরং ব্যক্তি কর্তৃক নিজের জন্য স্বনির্বাচিত বিষয় হিসেবে দেখা হয়।

কিয়ার্কেগার্দ ধর্মীয় জীবনের অর্থপূর্ণতা সম্বন্ধে বলতে গিয়ে নবী ইব্রাহিমের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। নিজের সন্তানকে আল্লাহর আদেশে উৎসর্গ করতে গিয়ে ইব্রাহিম প্রচলিত নৈতিক নিয়মকে সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিলেন, অতিক্রম করে গিয়েছিলেন। যদিও আল্লাহ শিশু হত্যাকে সংঘটিত হতে দেননি, তবুও ইব্রাহিমের এই ইচ্ছার মধ্যে প্রকৃত ধর্মীয় জীবনের উদাহরণ পাওয়া যায়, কারণ এর মাধ্যমে সর্বাবস্থায় আল্লাহর আদেশের অনুগামী হবার ক্ষেত্রে তার অঙ্গীকারকে তিনি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে বদ্ধপরিকর হবার মাধ্যমে পূর্ণ ও প্রকাশ করেছেন। এটা ছিল তার আন্তরিক বিশ্বাসের প্রমাণ ও প্রকাশ। বিশ্বাসে এ যথার্থতা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে ইব্রাহিম নিজের জীবনে একটি অর্থ সৃষ্টি করেছিলেন।

কিয়ার্কেগার্দের মতানুসারে জীবনের অর্থ একান্তই বিষয়ীগত (সাবজেক্টিভ) একটি ব্যাপার। তার উল্লেখ করা তিনটি জীবন-ঢংয়ের মধ্যে কোনটি সর্বোত্তম তা তার কাছে পরিষ্কার নয় বলে জানালেও তিনি মনে করেন, উক্ত তিন রূপের কোনো একটিকে নিজের জন্য দৃঢ়সংকল্পসহ নির্ধারণ করার মাধ্যমে একজন নিজের জীবনের অর্থ সৃষ্টি করতে পারেন। একই ব্যক্তির পক্ষে জীবনের স্টাইল বদলানও সম্ভব। প্রাথমিক জীবনে একজন নান্দনিক জীবন-ভঙ্গি বেছে নিতে পারেন। ধারণা করতে পারেন যে, সম্পদ, খ্যাতি, সুখ অন্বেষণ করা, পেশাগত সাফল্য বা প্রতিভা প্রকাশের মধ্যেই জীবনের অর্থ নিহিত। কিন্তু পরে একই ব্যক্তি অনুভব করতে পারেন যে, এরূপ জীবনের মধ্যে কোনো অর্থ নেই এবং নৈতিক জীবনে গিয়ে উপনীত হতে পারেন। নৈতিক স্তরেও তিনি স্থায়ী না-ও হতে পারেন। তিনি অনুভব করতে পারেন যে, নৈতিক নিয়মগুলো অত্যন্ত কঠিন বিধায় তিনি তা নিখুঁতভাবে অনুসরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন, কোনো না কোনোভাবে ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে এবং তিনি আল্লাহ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। এখানে এসে তিনি ধর্মীয় জীবনে উপনীত হতে পারেন। তবে কিয়ার্কেগার্দের এ বিভাজন কারও জীবনে লুপ্তও হয়ে যেতে পারে। ধর্মীয় জীবন নৈতিক না হলে বিপদজনক বটে, আবার ধর্মীয় ও নৈতিক জীবনে নান্দনিকতার উপাদানগুলোও প্রকাশিত হতে পারে। তবে একথা ঠিক, ঈশ্বরের ধারণা সম্বলিত ধর্মীয় জীবনে ঈশ্বরের স্থানই সর্বোচ্চে এবং তা থেকেই নৈতিকতা উৎসারিত হতে পারে এবং নান্দনিকতার উপাদানগুলোও আনুষঙ্গিকভাবে আসতে পারে।

অস্তিত্ববাদের আরেক দিকপাল জ্যাঁ পল সার্ত্রে একইভাবে মনে করেন যে, জীবনের অর্থ ব্যক্তির নির্বাচনের মধ্যেই নিহিত; এ নির্বাচনই হচ্ছে অর্থ ও মূল্যমানের উৎস। ঈশ্বরের ধারণা বা মানবজাতির প্রগতির ধারণা—কোনটিই কারও জীবনে অর্থ এনে দেয় না, যদি তিনি একে নিজের জীবনের জন্য আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে নির্বাচন না করেন, গ্রহণ না করেন, তার প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ না হন এবং নিজের জীবনকে সে আদলে গড়ে তোলার সাধনায় নিয়োজিত না হন।

সার্ত্রে মনে করেন, যদি ঈশ্বরের অস্তিত্ব না থাকে তবে পূর্বতঃ বিদ্যমান কোনো মূল্যমান বা নির্দেশনাও থাকে না; ব্যক্তি এ ক্ষেত্রে একা হয়ে পড়েন এবং তাকেই মূল্যমান ও অর্থ সৃষ্টি করার দায়িত্ব নিতে হয়। নিরীশ্বরবাদী সার্ত্রের তাই সিদ্ধান্ত এই যে, কোনো পূর্বনির্ধারিত মূল্যমান নেই যা আমাদের জীবনকে অর্থ প্রদান করতে পারে। এতদসংক্রান্তে কোনো কিছু নির্বাচন না করা পর্যন্ত জীবনের কোনো স্থির উদ্দেশ্য নেই, কোনো নির্ধারিত মূল্যমান নেই, কোনো বিষয়গত (অবজেক্টিভ) অর্থ নেই।

কিন্তু সার্ত্রের সিদ্ধান্ত থেকে আমরা কোনো পথ খুঁজে পাই না। নির্বাচনের আগে যদি মূল্যবান কিছুই না থাকে, এটা বা ওটা সবই যদি সমভাবে মূল্যবর্জিত হয়, তবে যা ইচ্ছা তা-ই নির্বাচন করে আমরা আমাদের জীবনে অর্থ আরোপ করতে পারি। সার্ত্রে যদি সঠিক হন তবে ক্রমাগতভাবে দিনভর সুতা বুনে রাতে তা খুলে ফেলার কাজে নিজেকে নিয়োজিত ও নিবেদিত করেও একজন জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তুলতে পারবেন। কিন্তু সম্ভবত কেউই এটাকে সঠিক বলে মনে করবেন না। স্পষ্টতই, জীবনকে অর্থপূর্ণ করতে হলে এমন মূল্যমান থাকা দরকার যা নির্বাচন-নিরপেক্ষ।

আমার ব্যক্তিগত ধারণা, নিহিলীয়রা ব্যক্তিদের মধ্যে এই স্বনির্বাচিত লক্ষ্যের উপস্থিতি দেখতে নিশ্চয়ই ব্যর্থ হননি। তাদের মূল দাবীটা এই নির্বাচিত লক্ষ্য ও বিশ্বাসের উপস্থিতির কারণে নাকচ হয়ে যায় না। এ ধরণের লক্ষ্য ও বিশ্বাস নিয়েই মানবজাতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বহমান থাকছে এবং তা সত্ত্বেও একই প্রকৃতির কাজের পুনরাবৃত্তি ও সব কাজের চূড়ান্ত নিষ্ফলতাও বিদ্যমানই থাকছে। কিন্তু যেহেতু বিচিত্রসব স্বনির্বাচিত লক্ষ্য নিয়ে মানুষের জীবন যাপনের এ পরিস্থিতি একটি বাস্তবতা, সেহেতু এ-বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে জীবনের অর্থ সংক্রান্তে একটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে স্বনির্বাচিত লক্ষ্যের বিষয়ে আলোচনা করা সম্ভব। এর ভিতগত কথাটি হচ্ছে, আন্তরিক, খাঁটি ও অসঙ্গতিবর্জিত নির্বাচন জীবনকে অর্থযুক্ত করতে পারে।

মনে করুন, কেউ আল্লাহর মধ্যে জীবনের অর্থ খুঁজে পেলেন। এখন আল্লাহ-কেন্দ্রিক জীবন নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি জীবনকে অর্থপূর্ণ করতে পারেন। এখানে নির্বাচন বলতে বোঝাবে, জীবনকে আল্লাহর রংয়ে রাঙিয়ে তোলার বা আল্লাহর বৈশিষ্ট্যে নিজের চরিত্রকে গড়ে তোলার সাধনায় আন্তরিকভাবে, অকৃত্রিমভাবে, নিষ্ঠার সাথে নিজেকে নিয়োজিত করা। অর্থাৎ ঈশ্বরে বিশ্বাস কারও জীবনকে অর্থপূর্ণ করতে পারে যদি তার জীবনে ঈশ্বরের উপস্থিতি উদ্ভাসিত হয়। একইভাবে, কেউ যদি ধারণা করেন যে, জীবনের কোনো অর্থ নেই বা জীবন শশবিষাণ বা এবসার্ড, তবে তার জীবনও অর্থপূর্ণ হতে পারে যদি তিনি এমন জীবন যাপন করতে পারেন, যে জীবন তার এই অর্থহীনতার বা এবসারডিটির ধারণাকে অভিব্যক্ত করে। অর্থাৎ নিজের বিশ্বাস বা নির্বাচিত বিষয়ের অবতার বা ইনকারনেশন অথবা মূর্তরূপ বা এমবডিমেন্ট হতে পারলেই জীবন অর্থপূর্ণ হয়। বিশ্বাসের সাথে সঙ্গতিহীন বা যৌক্তিক অসঙ্গতিতে পূর্ণ জীবন পর্যবসিত হয় অর্থহীন জীবনে।

***
লেখাটি প্রায় সর্বাংশেই Manuel Velasquez এর Philosophy: A Text With Readings বইটির দুটো অনুচ্ছেদের অনুবাদ।

সূত্র:
Philosophy: A Text With Readings by Manuel Velasquez.
Essays and Aphorisms by Arthur Schopenhauer.
The Meaning of Life by Richard Taylor.
The Meaning of Life by R. M. Hare.
Either/Or by Søren Kierkegaard.
Fear and Trembling by Søren Kierkegaard.
Existentialism and Human Emotions by Jean-Paul Sartre.

***
অর্থ সংক্রান্ত আগের লেখাগুলো:
জীবনের অর্থ—অর্থ অন্বেষণ
জীবনের অর্থ—অনর্থ অন্বেষণ
জীবনের অর্থ—প্রগতির জন্য সংগ্রাম?
.
n

বিষয়ভিত্তিক বিভাজনসহ ব্লগসূচি