ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

অফিস থেকে ফিরে ঘুমোতে চাচ্ছিলাম। ব্লগ লেখা নিয়ে অনেকটা সময় কম্পিউটার নিয়ে কাটিয়েছি গত মাস দুয়েক। এতে চিন্তাও করতে হয় বেশী। মাথার উপর চোখের উপর চাপ পড়ে। অফিসের কাজ তো আছেই। আজ বৃহস্পতিবার। দুদিন টানা ছুটি। ভাণ্ডারে টান পড়ছে। অর্থাৎ নতুন লেখা কষ্টকর হয়ে উঠছে। সব মিলিয়ে কম্পিউটারমুক্ত, প্রচুর ঘুমযুক্ত কয়েকটি দিন দরকার।

ঝিমোচ্ছিলাম। টিভিটাও চলছিল। মা-মেয়েতে ঠেলাঠেলিও চলছিল চ্যানেলের অধিকার নিয়ে। কানে ভেসে এলো বক্তৃতা। কে যেন চিৎকার করে এরকম কিছু বলছেন: পিয়নের সাততলা বাড়ী … নতুন গাড়ী … পিয়ন কোথা থেকে টাকা পায় … এ লজ্জা আমাদের … । বালিশে মুখ গুঁজে রেখেই বউকে জিজ্ঞেস করলাম, কই সংসদে নাকি? তিনি বললেন, না রিহ্যাব’য়ের মেলায় মনে হয়।

মনে পড়ে গেল অনেক আগে শোনা দুটি কথা। একজন আঙ্গুল উঁচিয়ে বলছিলেন: চাকর-নফর দিয়ে দেশ চালানো হচ্ছে। আরেকজন বলেছিলেন: ফকিন্নির হাতে মোবাইল দিলেই দেশের উন্নতি হয় না।

একথাগুলো আমার কোনো কোনো বন্ধুকেও বলেছিলাম তাদের প্রতিক্রিয়া জানতে। প্রশ্ন করেছিলাম, এগুলো বলা কি ঠিক হচ্ছে? বেশির ভাগই ‘কথা তো ঠিকই’ বলে মত দিয়েছিলেন। ব্যাখ্যা করে বলার পরও খুব একটি কানে তোলেননি তারা। আরও বলেছিলাম যে, দেখ, সামনে দাঁড়ানো সাংবাদিকেরা পর্যন্ত চুপ। কত প্রশ্ন জিগায় তারা কিন্তু ‘চাকর-নফর’ বা ‘ফকিন্নি’ শুনেও বক্তাকে চ্যালেঞ্জ করলো না কেউ।

অফিসে কলিগদের মুখেও শুনি: ব্যাটা কেরানির এতো সাহস! অথবা: এত ছোট মুখে এত বড় কথা! বেয়াদব কোথাকার! এই দ্যাশ শেষ!

যদি শুনতাম “গুণ্ডা বদমাইশ দিয়ে দেশ চালানো হচ্ছে” তাহলেও না হয় বুঝতাম। চোর-বাটপার, গুণ্ডা-বদমাইশেরা দেশ কেন চালাবে? কিন্তু চাকর-নফর? তারা কোন দোষে দেশ চালানোর অধিকার হারালো? আজকের চাকর কাল প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না কেন? বলা যেতো, দেশের সবাইর হাতে মোবাইল দিলেই দেশ উন্নত হয়ে যাবে না। কিন্তু “ফকিন্নি” শব্দটি আসল কেন মুখে?

মনের ভিতরের অবস্থাটি কী? চেতনার কাঠামোটি কী? এসব কথা মুখ দিয়ে বের হয় কোন মানসিকতা থেকে? স্রেফ আশরাফি ভাব থেকে। অবশ্যই অবশ্যই অবশ্যই—তিন অবশ্য। এটা বর্ণবাদ, রেইসিজম, জমিদারী, রাজাগিরি মার্কা …। এই মাথায় টুপি দিয়ে গায়ে আতর মেখে আমরা আবার মসজিদে যাই এক কাতারে দাঁড়ানোর জন্য।

এমন কথা শুনলে মুখের উপর সাংবাদিকরা কবে চ্যালেঞ্জ করতে শিখবেন?

n

বিষয়ভিত্তিক বিভাজনসহ ব্লগসূচী