ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

ইলেকট্রনিকস ও কম্পিউটার বিজ্ঞানে একটি প্রপঞ্চ আছে। এর নাম বুটস্ট্র্যাপিং। এ হলো নিজের জুতোর ফিতা টেনে নিজেকে উপরে উঠানো। কম্পিউটারের ক্ষেত্রে আমরা হরহামেশা বলে থাকি ‘কম্পিউটার বুট কর’ বা ‘কম্পিউটার বুট হচ্ছে’ এইসব। এই বুট হলো বুটস্ট্র্যাপিংয়ের সংক্ষিপ্ত রূপ। একটি গল্প থেকে ব্যাপারটা আরও ভাল বুঝা যাবে। মনে করুন, জামালের তাড়া খেয়ে কামাল দৌড়ে পালাতে গিয়ে পড়ল এক চোরাবালিতে। অবস্থা বেগতিক দেখে জামাল ছুট দিলো মায়ের কাছে; গিয়ে সাধুটি সেজে বসে থাকল। কামাল কী আর করে! শেষে বুদ্ধি করে নিজের চুলের মুঠি ধরে নিজেই নিজেকে উদ্ধার করে পাড়ে তুলল। বুটস্ট্র্যাপিং এ ধরণেরই একটি কাণ্ড।

নিউটনের তৃতীয় সূত্র মতে প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকায় আমার বেলায় বুটস্ট্র্যাপিং কোনো কাজে লাগে না, কেবল পা-টাই উপরে ওঠে; আমার পায়ের তলার মাটি কোনো সুফল দেয় না। কিন্তু অন্যের জুতোর ফিতা বা তার চুলের মুঠি ধরে টানাটানি করার সময় আমার পায়ের নিচের মাটি আমাকে সেই বিপরীত প্রতিক্রিয়াটি দিতে পারে বিধায় তাতে অনেক কাজ করা যায়। এ কারণে আমার হাত দুটো বন্ধুকে মাথায় তুলতে ও শত্রুকে আছাড় দিতে বেশ সিদ্ধহস্ত।

আমার চোখ দুটো গড়ে উঠেছে অর্ধ-ঘূর্ণন-পরিসর নিয়ে। তাই এরা সামনের দিকে মোটামুটি ১৮০ ডিগ্রি এদিক ওদিক ঘুরতে পারে। কিন্তু যা পারে না তা হলে নিজের দিকে তাকাতে। একারণে আমি নিজেকে না খুঁজে সদাই খুঁজে বেড়াই বন্ধু আর শত্রুদের; সেই সাথে মস্ত বড় দুনিয়ায় খুঁজে বেড়াই খাই দাই ফুর্তির সামগ্রী, আর খুঁজি লাঠি বেন্দা দড়ি ছুরি।

মুজতবা আলী মাছি মারা কেরানি নিয়ে রসিকতা করতে গিয়ে মাছির চোখ অবধি গিয়ে ঠেকেছিলেন। মাছির চোখ নাকি আদতে গাদা গাদা চোখের পুঞ্জ যা চক্রাকারে মাথার উপর বসানো আছে; যা কিনা পুরো ৩৬০ ডিগ্রি জুরে সমস্ত পৃথিবীটা একসাথে দেখতে পায়। মাছির চোখের মতো চোখ না পাওয়ায় আনাতোল ফ্রাঁসের দুঃখের শেষ ছিল না। কিন্তু পেলে যে তাঁর কী লাভ হতো কে জানে। আমি জানি আমার স্বভাবে তাতে কোনো হেরফের হতো না। দুনিয়াটা একসাথেই দেখি আর ঘুরেফিরেই দেখি, নিজেকে দেখার সুযোগ তখনও পেতাম না।

বাস্তব জীবনে আমি স্বেচ্ছাচারী, অবিবেচক ও অসহিষ্ণু। যখন বিডিনিউজ২৪.কম ব্লগে মন্তব্য লিখি তখন আমি তো বাস্তব জীবনাচারে যুক্ত হই। আর তখনই আমার আসল রূপটি মাঝে মাঝে অনাবৃত হয়ে পড়ে; আমি অন্যদের আহত করে বসি।

এবার জিদ ধরেছি আর নয়। হয় ভাল কিছু মন্তব্য করবো নয়তো চুপচাপ থাকবো।

বিডিনিউজ২৪.কম ব্লগ আমাকে দিয়েছেও অনেক কিছু। আমি কিছুটা বদলেছিও। তাছাড়া এই ব্লগ কর্তৃপক্ষ ব্যক্তির স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি যে অবিচল নিষ্ঠার পরিচয় দিয়ে চলেছেন তাও নজরে পড়ার মতো—যা আমাদের দেশে খুব একটি দেখা যায় না।

পরিশেষে, যারা আমার কথায় আহত হয়েছেন তাদের সকলের ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি প্রত্যাশা করছি।

n

বিষয়ভিত্তিক বিভাজনসহ ব্লগসূচী