ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা জন্য একটি প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির অভ্যুদয় হয়েছিল। এ যুদ্ধে ধর্ম-মতাদর্শ নির্বিশেষে এই ভূখণ্ডের সাধারণ মানুষেরা অংশ নিয়েছিল। এই সংগ্রামের এই যুদ্ধের নেতা সকলের নিকট সহায়তা ও সমর্থন আহ্বান করেছিলেন এবং তাতে সকলে সাড়া দিয়েছিল, কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করেছিল। এ কথা অন্য দলগুলো মানুক আর না-ই মানুক, বর্তমান সরকারী দল তো তা ভাল ভাবেই জানে।

অন্য দলগুলো পরবর্তীতে সংবিধানের যা-ই পরিবর্তন করুক, বর্তমান সরকারের ভূমিকা তাদের সাথে তুল্য নয়। কারণ প্রতিরক্ষার এই যুদ্ধে আপামর জনগণ সাড়া দিয়েছিল বর্তমান সরকারী দলের আহ্বানে। তাই তাদের যে অঙ্গিকার ও অঙ্গিকার জাত দায়িত্ব তা অন্য দলগুলোর ছিল না ও নেই।

কিন্তু আজ আমরা যে সংবিধান পেলাম তা বর্তমান সরকারি দলের এনডোরস করা সংবিধান। যা কিছু অযৌক্তিক ও অবিচারমূলক তা এখন চূড়ান্ত বৈধতা পেল। এটা অবিচার কেন তা পরিষ্কার হওয়া দরকার। ধর্ম নির্বিশেষে সকল নাগরিকের কাছ থেকে সমান কর নিচ্ছে রাষ্ট্র, সকল নাগরিকের উপর প্রতিরক্ষার দায়িত্ব সমভাবে অর্পণ করেছে অথচ রাষ্ট্রের ধর্ম করেছে ইসলাম।

যে রাষ্ট্রের ধর্ম ইসলাম তার ব্যয়ভার ও প্রতিরক্ষার ভার কেবল মুসলিমদেরই বহন করার কথা। আমাদের রাষ্ট্র সেভাবে গড়ে উঠেনি এবং সংবিধানও সে আলোকে তৈরি হয়নি। এখন জাতীয়তার নীতিতে সকল নাগরিকের সমান অংশ গ্রহণ ভিত্তিক যে রাষ্ট্রের ধারণা অত্যন্ত মজবুত ও কার্যকর তা পরিহার করার কোনো যুক্তিও অন্তত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নেই।

কিন্তু আজ যে সংবিধান চূড়ান্ত হলো তা হিন্দু-খৃষ্টান-বৌদ্ধরা নিজেদের সংবিধান বলে ভাবতে পারবে কি? রাষ্ট্রের প্রতি তাদের স্বতঃস্ফূর্ত আনুগত্য আশা করার ও তা বাধ্যতামূলক মনে করার কী অধিকার, কী যুক্তি থাকল মুসলিমদের কাছে এখন?

আমরা কেউ কাউকে বুঝতে চাই না। কেউ কারও কাছে আসতে চাই না। কোনো পক্ষই প্রতিপক্ষকে সম্মান করি না। আমরা একে অপরকে বিনাশ করার ইচ্ছা নিয়ে চলি। এই হিংসা ও জিঘাংসার টানাপোড়নে, স্ট্রেস আর টেনশনের ফল হিসেবে আমরা যুক্তিসঙ্গত সংবিধান থেকে নিজেদেরকে বঞ্চিত করলাম।

এই দায় উভয় পক্ষের।

n

বিষয়ভিত্তিক বিভাজনসহ ব্লগসূচী