ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

একথা মোটেই অতিরঞ্জিত নয় যে, অনলাইন সামাজিক নেটওয়ার্কগুলো বিশ্বব্যাপী ওয়েবে বিপ্লব এনেছে। এরাই ওয়েব ২.০ আন্দোলনে পথিকৃৎ। ফেসবুক এদের মধ্যে একটি। ফেসবুক জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থানকারী কয়েকটি সামাজিক ওয়েব সার্ভিসের অন্যতম। ফেসবুকের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে এর ইউজার বেস।

এখানে ডেভেলপারদের দেয়া হচ্ছে নানাধরণের এপ্লিকেশন তৈরির সুযোগ। তারা ছোট ছোট প্রোগ্রাম তৈরি করে ও ফেসবুককে ব্যবহার করে প্ল্যাটফর্ম হিসেবে। অর্থাৎ ফেসবুক সার্ভিস এখানে কাজ করে অনেকটা অপারেটিং সিস্টেমের মত; ক্ষুদে এপ্লিকেশনগুলো একে ব্যবহার করে ভিত্তি হিসেবে এবং সুযোগ করে নেয় নেটওয়ার্কের রিসোর্স ব্যবহারের, যেখানে সবচেয়ে বড় রিসোর্স হচ্ছে ইউজার বেস।

ফান এপ্‌স ও এড এপ্‌স এর জন্যই প্রধানত এই ওপেন সুযোগটি দেয়া হয়েছে। কিন্তু এধরণের সুযোগের সাথে সাথে যা আসে তা হলো দুষ্ট প্রোগ্রামারদের নষ্টামি ও অত্যাচার অর্থাৎ ভাইরাস ও স্ক্যাম। ফেসবুক বা এর মত অন্য ওয়েব সার্ভিসগুলো তাই হয়ে উঠেছে ভাইরাস ও স্ক্যামের নতুন ভিত্তি ও পেয়ে যাচ্ছে সংক্রমণের জন্য বিশাল রেডিমেড ইউজার বেস।

হ্যাকার ও স্প্যামারদের আক্রমণের জন্য উর্বর ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে এটি। একাউন্ট বেদখল হচ্ছে প্রতিনিয়ত এবং এভাবে দখল করা অন্যের একাউন্ট থেকে দুষ্টরা পরিচালনা করছে নানা রকম স্ক্যাম স্কীম। চটকদার বিজ্ঞাপন হচ্ছে প্রলোভিত করার উপায়। যদিও ফেসবুক বিজ্ঞাপন নিয়ে সতর্কতা বাড়াচ্ছে তবুও দুষ্টদের পুরোপুরি দমন করা যাচ্ছে না—এরাও নানা নতুন কায়দা অবলম্বন করে চলেছে।

ক্ষতিকর প্রোগ্রামাররা অসলো ট্র্যাজেডিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করছে। ওয়েবসেন্‌স সিকিউরিটি ল্যাব এর নজরে পড়েছে যে, ফেসবুক স্ক্যামের সংখ্যা বিপদজনক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি সেকেন্ডে একটি কম্পিউটার আক্রান্ত হচ্ছে তাদের সাইবার স্ক্যাম দ্বারা।

এগুলো হচ্ছে ‘ক্লিকজ্যাকিং’ ধরণের; তৈরি করা হচ্ছে অসলো ব্লাস্ট ও উটোইয়া শুটিং বিষয়ক চমকদার কিন্তু মিথ্যা পোস্টের লিংক সহ, যা ক্লিক করলে স্ক্যামটি নিজেকে প্রজনিত করতে পারে ইউজারের ফেসবুক ওয়ালে নিউজ ফীড হিসেবে। খবর, ভিডিও বা ছবির প্রতি মানুষের দুর্বলতাকে পূঁজি করে এগুলো ছড়ানো হচ্ছে ও নিউজ ফিডের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে বন্ধুদের মধ্যে।

কাজেই অপরিচিত লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকা এখন খুবই জরুরী। খবরের জন্য এমন সব সাইট ব্যবহার করা ভাল যেগুলো সিএএন, বিবিসি, এবিসি ইত্যাদির মত বড় বড় সংবাদ সংস্থার অফিসিয়াল সাইট। অপরিচিত সাইটের লিংক এর ব্যাপারে সাবধানতা পরিহার করলে বিপদের আশঙ্কা থাকে।

শুধু ফেসবুক নয়, ইউটিউব সহ অনেক সাইটই এখন বিপদজনক হয়ে উঠছে। গুগল বা বিঙ দিয়ে সার্চ করে পাওয়া লিস্টেও থাকছে দুষ্টদের লিংক। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্নোগ্রাফিক সাইট ও এ সংক্রান্ত সার্চ রেজাল্টের চেয়ে আরও অনেক বেশী বিপদ সম্ভাবী হয়ে দাঁড়িয়েছে সামাজিক নেটওয়ার্কগুলো ও ব্রেকিং নিউজ সম্পর্কিত সার্চ রেজাল্ট।

তথ্যসূত্র:
[পিসি ওয়ার্ল্ড]
[ওয়েব সেন্‌স]
[হাউ স্টাফ ওয়ার্কস]

n

বিষয়ভিত্তিক বিভাজনসহ ব্লগসূচী