ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

গল্পটি পুরনো—অনেকেই শুনে থাকবেন। বাংলাদেশের মাটি হাতে নিয়ে এক জাপানী বলল, এ মাটি পেতাম যদি আমরা না খেয়ে হলেও পরিশ্রম করে তা সোনা বানিয়ে ফেলতাম। আমাদের পায়ের নিচে এ মাটি তো সেই কতকাল ধরেই বিরাজমান। কী করেছি না করেছি তা তো সকলেরই জানা। এই গড়ার জন্য করার ব্যাপারে আমাদের ইতিহাস বা অর্জন কতখানি পূর্ণ বা শূন্য তার মীমাংসাও কঠিন নয়। কিন্তু কী হলে কী করতে পারতাম সেসব শর্তসাপেক্ষ তত্ত্ব বিলাসে আমরা যে খুবই পারঙ্গম তা আমাদের মুখে কথার খৈ ফুটানোর দক্ষতার মধ্যে দৃশ্যমান।

‘কথার খৈ ফুটানো’ জাতীয় সরস বাগধারা ভাষা-গর্বী কোনো আরবও তাদের ভাষায় আছে বলে দেখাতে পারবে কি না জানার আগ্রহ একজনের মধ্যে দেখলে তাকে আপনি দোষ দিতে পারেন না। এ প্রসঙ্গে আরেকটি গল্প মনে হল। কোনো রাজনীতিবিদ বলেছিলেন, বাঙালীরা আজ যা চিন্তা করে সারা ভারতের তা চিন্তা করতে শিখতে আরও শত বছর লাগে। কিন্তু যেটি অনুক্ত রয়ে গেছে এখানে তা হলো, সারা ভারত শত বছর আগেই যা করে ফেলেছে, আমরা তা আজ করতে পারলাম মাত্র।

যাই হোক, সেই জাপানীর গল্পে ফিরে যাই। জাপানীর কথা শুনে বাঙালী বলেছিল, তোমরা খেয়ে না খেয়ে পরিশ্রম করে মাটিকে সোনা বানিয়ে দাও, তারপর দেখ ক’বছরে আমরা সেই সোনা কিভাবে বেমালুম খেয়ে হজম করে ফেলি। এখান থেকেই শুরু কম-বেশী খাওয়ার ব্যাপার-স্যাপার। আমরা যে দিব্যি খেয়ে যাচ্ছি: অফিসে, দোকানে, ময়দানে, রাস্তায়—পার্কে, সার্কাসে, চিড়িয়াখানায়—এমনকি সেহরিতে ইফতারে। আমার মতো ওঝা-বৈদ্য থেকে শুরু করে তোমার মত ডাক্তার-গবেষক সকলেই তারস্বরে বলে যাচ্ছে, ওরে এতো খাসনে, রসনায় রাশ দে, কম খা। কিন্তু কে শোনে কার কথা! খাওয়ায় বিরাম নেই।

কিন্তু এত খেয়েও খাওয়ার খোটা দিতেও যেন আমরা কম উস্তাদ নই। দুদিন খাইয়েই বউকে শুনিয়ে দিলাম খাওয়ার খোটা। দুদিন যেতে না যেতেই ঘরজামাইকে শুনতে হয় খাওয়ার খোটা। এবারও আমরা দুঃখের সাথে শুনলাম খাওয়ার খোটা। একজন হিতোপদেশ দিলেন, ওরে কম খা। অমনি আরেকজন খাওয়ার খোটা দিয়ে বসলেন, আরে! ও তো একাই সারা টেবিলের খাবার সাবাড় করে ফেলতো।

দুজনেই এক নগরের বাসিন্দা ছিলেন বলেই হয়তো পরস্পরকে ভাল চেনেন। তাছাড়া সকল-বিকাল দৌড়ের উপর থাকলে খাওয়াটা বেশী প্রয়োজন হয়। এমতাবস্থায় নিজের খাদ্যের পরিমাণটি নিয়ে চিন্তার সাথে সাথে অন্যের ক্ষুধা থেকে সেই পরিমাণ খাদ্য রক্ষার চিন্তাও বেজায় চিন্তায় পরিণত হয়, তা দৌড়ের উপর যারা কম-বেশী থাকে তারা ভাল জানে।

এ প্রসঙ্গে মনে পড়ে গেল আরেক গল্পের কথা। নতুন। ডাইনিং হলে যাওয়া হল শুধু হাফ প্যান্ট পরে, গেঞ্জিটা হাতে, তখনও পরা হয় নি। আর পরার সময় কই! খাওয়া যে সামনে। পড়া গেল প্রিফেকটের হাতে, শোনা গেল, আগে খাইয়া লই পরে পরমু। মানুষ জামা-কাপড় পরে নিজেকে সুন্দর করার জন্য। অভাবের ছুতায় খাওয়াটা শুরু হয়, পরে অভ্যাস হয়ে গেলে এবং রপ্ত হয়ে গেলে যেন নেশা ধরে যায়। কেবলই বলতে থাকে, আগে খাইয়া লই। সুন্দর হওয়ার অবসর আর যেন জুটে না।

n

বিষয়ভিত্তিক বিভাজনসহ ব্লগসূচী