ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

enclave

বাংলাদেশের ভেতরে ভারতের শতাধিক ছিটমহল রয়েছে এবং ভারতের ভিতরে রয়েছে বাংলাদেশের প্রায় অর্ধশত। বিদায়ের কালে ইংরেজরা এভাবেই সীমানা ঠিক করে দিয়ে গিয়েছে। তারপর অনেক কাল। ১৯৭১ এর পর প্রথম এই সমস্যার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হয় এবং সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চুক্তি হয়। তারপরও সব কিছু যেন হিমঘরেই থেকে যাচ্ছে।

এখানে জমির পরিমাণ বা জনসংখ্যা তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু নয়। এর নীচে ধনসম্পদ লুকিয়ে থাকার সম্ভাবনা নিয়েও কেউ ভাবে না। ফলে উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে সেখানকার মানুষের দুঃখ ও অপমানের বিষয়টি। আমরা ভারত বা বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের অধিবাসীরা এবং ছিটমহলবাসীরা সকলেই ইংরেজদের কাছে ছিলাম পর। কিন্তু আমরা নিজেরা তো নিজেদের পর ছিলাম না। বাংলাদেশের অভ্যন্তরের ছিটমহলবাসীরা বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের অন্যান্য জনপদের সাথেই সম্পর্কিত ছিল প্রাণের টানে। একই রকম অবস্থা ছিল ভারতের ভেতরকার বাংলাদেশের ছিটমহলগুলোর।

ইংরেজের কাজ ইংরেজ করেছে। করে চলেও গিয়েছে। কিন্তু সমস্যা তো আমাদের, জাতিগতভাবে আমাদের নিজেদের স্বজনদের নিয়েই তো এই সমস্যা। কিন্তু কোন নির্মম প্রাণহীনতা নিয়ে আমরা দু’দেশের মূল ভূখণ্ডবাসীরা যে তাদের এতকাল উপেক্ষা করে চলেছি সে দায় আমাদের উপর থেকেই যাচ্ছে। একজন মানুষের নিরাপত্তাহীনতার দায়ও সমস্ত জাতির উপর বর্তায়। যাদের রাষ্ট্র থেকেও রাষ্ট্র নেই তাদের জীবনে আছে কী?

ছিটমহলবাসীদের জীবন কেমন? তারা নিজেদেরকে নিয়ে কী ভাবেন? কী পরিচয় আছে বলে তারা মনে করেন? রাষ্ট্রের সহায়তা বলতে যা বোঝায় তা তাদের নাগালের মধ্যে কতটুকু? রাষ্ট্রদুটো তাদের নিজেদের নাগরিকদের নিয়ে কী ভাবে? এসব প্রশ্নের উত্তরের চেয়ে প্রশ্নগুলোই বেশী কিছু বলে। একটি রাষ্ট্র পাষাণ না হলে নিজের নাগরিক বলে দাবী করে নিজের নাগরিকদেরকে এভাবে প্রতারিত ও বঞ্চিত করতে পারে কি? আর সে রাষ্ট্রের নাগরিক হয়ে আমরা মূল ভূখণ্ডবাসীরাই বা কিভাবে নির্লিপ্ত থাকতে পারি? আমরা ছিটমহলবাসী হতেও তো পারতাম; তখন কী হতো আমাদের?

ছিটমহল বিনিময় করা ছাড়া এর কোন সমাধান নেই। কিন্তু এখানে রয়েছে নানা রকমের আইনগত সমস্যার সম্ভাবনা। ছিটমহলবাসীদের যারা নাগরিকত্ব বদলাতে চাইবেন না তাদের সংখ্যা বেশী হলে স্থানান্তরের বিষয়টি বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু এটিতো কেবল সম্ভাবনা মাত্র। প্রকৃত অবস্থা উল্টো হতেও পারে। অর্থাৎ বাংলাদেশের ভেতরের ছিটমহলবাসীরা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব-আকাঙ্ক্ষী হওয়ার এবং ভারতের ভেতরের ছিটমহলবাসীরা ভারতের নাগরিক হতে চাওয়ার সম্ভাবনাই বেশী।

কাজেই বাস্তব কাজ শুরু করা কর্তব্য দুই দেশের পক্ষেই এবং যত দ্রুত সম্ভব – এটা হলে কী হবে বা ওটা হলে কী হবে এইসব জল্পনা-কল্পনার কোন মূল্য নেই এখানে। মানুষের পরিচয়, অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার বিষয় এটি – তারা যত কম সংখ্যকই হোন না কেন। এই সমস্যা তিস্তা বা ট্রানজিট সমস্যার চেয়েও বেশী অগ্রাধিকার পাওয়ার মত সমস্যা। দু’দেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে এ বিষয়ে সক্রিয় ও সোচ্চার হওয়া দরকার।

n

ছিটমহলের ইতিহাস – মোগল থেকে মনমোহন

বিষয়ভিত্তিক বিভাজনসহ ব্লগসূচী