ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

বিশ্ব ছোট হয়ে আসছে। ইন্টারনেট একটানে পৃথিবীর একপ্রান্তের মানুষকে নিয়ে এসেছে অন্য প্রান্তের মানুষের কাছে। নেট মানুষকে পরস্পরের যত নিকটবর্তী করেছে তার তুলনায় পাশের ঘরে বাসকারী ভাইটিও যেন অনেক দূরের মানুষ। যত দূরেই থাকি না কেন, আমরা এখন একে অপরের কাছাকাছি। এককালে ভিনদেশী মানুষের কথা শোনার জন্য রবীন্দ্রনাথ বা মুজতবা আলীর বই নিয়ে বসতে হতো; এখন নিজেরাই সরাসরি ভাব বিনিময় করতে পারি ইন্টারনেটের মাধ্যমে। আমাদের সামনে উন্মোচিত হয়েছে এক সুন্দর সুবর্ণ সম্ভাবনা – আমরা একে অপরের চিন্তা, বিশ্বাস, ভাবনা ও জ্ঞানের সাথে পরিচিত হতে পারি সহজেই।

মানুষ স্বভাবতই মন্দ – এরকম বিশ্বাস নিয়ে যারা চলেন তারা মন্দের পিছু ধাওয়া করতে করতে কবর অবধি গিয়ে পৌঁছেন। এ যেন আলোর উৎস না খুঁজে অন্ধকারকে ঝাঁটা দিয়ে ঝেঁটিয়ে বিদূরিত করার চেষ্টা। যারা গণমানুষের উপর, তাদের শক্তি ও সম্ভাবনার উপর আস্থা রাখার যুক্তি দেখতে পান না তারা অল্পতেই অস্থির হয়ে উঠেন এবং নিজেকে অযথাই নিঃশেষিত করেন। যিনি নিজেকে সত্যাধিকারী ও শুদ্ধাচারী মনে করেন তিনি অন্যের মতান্তর বা সমালোচনা বা বিরোধিতা বা আক্রমণে সহজেই উত্তেজিত হয়ে উঠেন এবং নিজেকে নিজেই বন্দী করে রাখেন।

আমরা নানা দেশের গণমানুষ ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে সেতু তৈরি করতে পারি, পারি নিজেদের ভুলগুলো চিহ্নিত করে ক্রমান্বয়ে পরিহার করতে, এবং পরস্পর সম্বন্ধে ভুল ধারণাগুলো দূরীভূত করতে। নিজেদেরকে গড়া, পরস্পরকে জানা ও হৃদ্যতার বন্ধন তৈরি করা এখন আমাদের সকলের ভাল ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজন। এই প্রয়োজনীয় ইতিবাচক কাজটি কোন কোন ক্ষেত্রে আমরা করতে পারছি না, বরং উল্টোটা করে বসছি।

কোন কোন ইসলামপন্থী ভাইয়ের মন্তব্য দেখে আমার এরকমই মনে হচ্ছে। প্রথমেই আমি এই দাবী করতে চাই: যারা নিজেদেরকে ইসলামপন্থী মনে করেন তাদের উপর আমার একটি অধিকার রয়েছে। আমি কোরান ও সুন্নাহর কোন শিক্ষাকে উপস্থাপন করলে তারা আমার কথা মন দিয়ে শুনবেন – এমন প্রত্যাশা আমার জন্য অনুচিত হবে কেন?

মন্তব্যগুলো পড়ে বা যে লেখার প্রতিক্রিয়ায় মন্তব্য তা পড়ে ধারণা হয় যে তারা ইসলামপন্থী। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে মন্তব্যগুলোতে স্থান করে নিচ্ছে মডারেটরের লাল অক্ষরের লেখা। মন্তব্যে অশোভন শব্দের ব্যবহার এর কারণ। এই ব্লগের মডারেটরদের উপর আমার যথেষ্ট আস্থা আছে, কাজেই একথা বিশ্বাস করা খুবই কঠিন যে, মডারেটরগণ যথেচ্ছা লেখালেখি বা কাটাছেঁড়া করেন।

আমরা ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’ বা অজ্ঞতার যুগের কথা শুনেছি। সেকালে আবুলাহাব বা আবুজেহেল তাদের পিতাদের ধর্ম ও ঐতিহ্যকে রক্ষা করার নামে নবীর মুখোমুখি হয়েছিলেন। এজন্য তাদের ভাষা ছিল, ছিল কর্মকাণ্ড। এর পেছনে তাদের কৌশল ছিল, ছিল একধরণের মনোভঙ্গি। তাদের মত মনোকাঠামো নিয়ে, তাদের মত কৌশল নিয়ে, তাদের ভাষা নিয়ে – এক কথায়, তাদের সুন্নাহ অবলম্বন করে আপনি ইসলাম, কোরান বা নবীকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসতে পারেন না, যদি আপনি আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করে থাকেন।

নিজ মত এবং অন্যের মতের বিপরীতে দ্বিমত প্রকাশের নীতি কোরানে বিধৃত আছে। এখানে হিকমাহ ও হাসান শব্দ দুটো ব্যবহৃত হয়েছে। হিকমাহ অর্থ প্রজ্ঞা এবং হাসান বা আহসান অর্থ সুন্দর। প্রজ্ঞা মনের একটি জ্ঞানমূলক ও বিচারমূলক অবস্থা, আর বাচনিক সৌন্দর্য হচ্ছে প্রজ্ঞাপ্রসূত কথামালার রূপ। প্রজ্ঞার বিপরীত অবস্থা হচ্ছে জাহিলিয়াত, যেখানে প্রতিক্রিয়াটি ঘটে মতান্ধতা, বিদ্বেষ ও ক্রোধের তাড়নায়।

ইসলাম ডুবল কি ভাসল তার ফিকির ও পরিকল্পনার ভার এটি যাঁর কাছ থেকে এসেছে তাঁর উপরই ছেড়ে দিন। কোরানের শিক্ষা ও নবীর আদর্শকে অবলম্বন করায় যদি ইসলাম ডোবে তো সেটিকে ডুবতে দিন। আবুজেহেলের সুন্নাহ অনুসরণ করে ভাসানোর চেষ্টা করা পরিহার করলে ইসলামের ভাগ্যে যা-ই জুটুক, আমি নিজে তো রক্ষা পাই। তাছাড়া ভেবে দেখলে দেখতে পাবেন, আবুজেহেলের সুন্নাহ অনুসরণ করে ইসলামকে ভাসানোর চেষ্টা করে আমরা তাকে কেবল ডুবাতেই থাকব।

n

বিষয়ভিত্তিক বিভাজনসহ ব্লগসূচী