ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

 

ঘটনা প্রবাহের সূত্রপাত বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে হত্যা ও নির্যাতন থেকে। নির্যাতন একটি অসভ্যতার নির্দেশক কাজ। একাজকে কোনভাবেই সমর্থন করা যায় না। নির্যাতনের প্রতিক্রিয়ায় নির্যাতনও সমর্থনযোগ্য নয়। বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষীরা যদি ভারতীয় নাগরিকদের উপর নির্যাতন করে, তাদের সম্মানের হানি ঘটায় তবে তাও বাংলাদেশীদের দ্বারা সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। আমরা বলতে পারি না যে, ভাল হয়েছে, সমুচিত শাস্তি হয়েছে। অথবা বলতে পারি না যে, ঢিলটি ছুড়লে পাটকেলটি খেতে হয়। অথবা আমরা মনে মনেও আনন্দ বোধ করতে পারি না। মানুষের উপর মানুষের নির্যাতন সকল অবস্থায়ই মানুষকে চিন্তিত করবে, উদ্বিগ্ন করবে ও মর্মাহত করবে।

সীমান্তে বিএসএফ-এর হত্যাকাণ্ড বন্ধ হওয়া একান্ত প্রয়োজন। অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে অন্যদেশে যাওয়া সেদেশের আইনে অবৈধ। কিন্তু সাধারণ ও নিরীহ মানুষের ক্ষেত্রে তার প্রতিবিধান জীবন দিয়ে দিতে হবে – এটিও গ্রহণ করা কষ্টকর। হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমঝোতা দরকার, দরকার বাংলাদেশের নাগরিকদের সচেতনতা এবং বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় অবস্থান। আমাদের কর্তব্য আমাদের সরকারের কাছে এই দৃঢ় অবস্থান দৃঢ়তার সাথে দাবী করা।

সীমান্তে হত্যা বিষয়ে আমাদের সরকারের দায়িত্বশীলগণের কারও কারও কথায় মনে হয়েছে তাঁরা যেন ভারতীয় পক্ষের মুখপাত্র। আমাদের পক্ষের ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে আমরা দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, হতাশা, দৃঢ়তা ও ক্রোধের প্রকাশ দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যে আশ্বাসের কথা, ক্ষত পূরণের কথা আমরা ভারতীয় পক্ষের নিকট থেকে শুনতে চাইছি তা তাদের কাছ থেকে না শুনে আমাদেরকে শুনতে হচ্ছে আমাদের নিজেদের পক্ষ থেকেই। এরকম প্রতিক্রিয়া মনমোহনের সফর পরবর্তী সময়েও আমাদেরকে শুনতে হয়েছে।

এবার আসা যাক আসল কথায়। কিছুদিন ধরে বাংলাদেশের কথিত ‘সাইবার গেরিলা’রা যা করেছে তা নিয়ে সংবাদ মেডিয়া ও ওয়েব সার্ভিসগুলোতে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক কথা হচ্ছে। এ নিয়ে আমাদের সরকারী মহল থেকেও প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। আমি বিশ্বাস করি, যুদ্ধ – তা সেটি সাইবার হোক বা বাস্তব হোক – সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয় ও সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হওয়ার বিষয়। তাছাড়া যুদ্ধে কৌশলগত আক্রমণ নির্ধারণ করতে হয় তার কার্যকারিতার সম্ভাবনাকে সামনে রেখে। সাইবার আক্রমণগুলো সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে পারবে না, যা এই আক্রমণের উদ্দেশ্য। তার উপর, আমাদের নিজেদের সাইটগুলো পাল্টা আক্রমণের শিকার হবে।

তাছাড়া বিষয়টির সাথে নৈতিকতার সম্পর্কও রয়েছে। যুদ্ধেও নৈতিকতার প্রশ্ন রয়েছে। বিএসএফ-এর কোন সদস্য গুলি করলেই আমরা গিয়ে তার স্ত্রী-সন্তানদের উপর আক্রমণ করতে পারি না। ওয়েবসাইটগুলো ভারতের নানা প্রতিষ্ঠানের যেগুলো সীমান্তে হত্যা-নির্যাতনের সাথে সম্পৃক্ত নয়। এভাবে সেগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তোলা একটি নির্বিচার কাজ।

বলা যেতে পারে, অন্য উপায় না পেয়ে কিছু ক্রুদ্ধ তরুণের কাজ এটি। আমাদের সরকারী মুখপাত্রগণের কর্তব্য এই ক্রোধকে প্রশমিত করার উপায় বের করা ও তাদের প্রতি একাজে থেকে বিরত হওয়ার আবেদন করা। কিন্তু প্রথমেই যেভাবে এটিকে দেশদ্রোহী, সন্ত্রাসী কাজ বলে বসা হলো তাতে ফল ভাল না হয়ে আরও মন্দ হতে পারে।

আমরা সরকারের কাছে ভারত-বিদ্বেষী হওয়ার দাবী করছি না, সীমান্তে ভারতীয় নাগরিকদের পাল্টা হত্যা করার কথা বলছি না। আমরা সরকারের কাছে শুধু জোর দাবী করছি, তারা যেন এমন কথা বলেন ও এমন প্রতিক্রিয়া দেখান যা থেকে জনগণ বুঝতে পারে যে, তারা বাংলাদেশের সরকারের অংশ। আমরা দাবী করছি, এমন ভাবে দাঁড়ান যেন দেখলে মনে হয় যে, নিজের পায়েই দাঁড়িয়েছেন। আর সাইবার আক্রমণের সাথে যদি বাংলাদেশের তরুণরা সত্যিই জড়িত থাকেন তবে তাদের কাছে আবেদন তারা যেন একাজ থেকে বিরত হন।

n

বিষয়ভিত্তিক বিভাজনসহ ব্লগসূচী