ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আমাদের অনেকেই এবিষয়ে একমত হবেন যে, জনগণের ইচ্ছায় জনগণের সরকার গঠিত হোক এবং জনগণের অর্থে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সরকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখুক। অন্যদিকে, জনগণ একটি বা একাধিক রাজনৈতিক দলের সদস্যদেরকে নির্বাচন করে সংসদ ও সরকার গঠনের জন্য। কিন্তু তারপরও সরকার ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে ফারাকটি বিদ্যমান থাকে এবং স্পষ্ট-নির্দিষ্টভাবেই বিদ্যমান থাকে যেখানে যুক্তিসঙ্গতভাবে বিভ্রান্তি বা অনির্দিষ্টতার কোন অবকাশ নেই। অর্থাৎ রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করে বটে, তবে গঠিত সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করার এখতিয়ারই কেবল পায় এবং এটাই তার দায়িত্ব ও কর্তব্যের পরিসীমা। জনগণেরও আনুগত্য সরকারের প্রতি, পার্টির প্রতি নয়।

পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে করা বিনে পয়সার সেবার ধারণা আমাদের নৈতিক জীবনের অংশ, রাষ্ট্র পরিচালনার পরিসরে প্রযোজ্য নয়। জনগণ যে নিরাপত্তা লাভের অধিকারী তা জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকেই এবং কেবলমাত্র তাদের কাছ থেকেই জনগণ প্রত্যাশা করতে পারে। একতরফা সিদ্ধান্ত প্রসূত বিনে পয়সার সেবা জনগণের জন্য সম্মানজনক নয়, জনগণ তা প্রত্যাশা করতে পারে না এবং এরকম প্রত্যাশার কোন প্রয়োজনও নেই। জনগণ সকল সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রীর কাজের বিপরীতে তাদেরকে পর্যন্ত বেতনভাতা প্রদান করে।

এটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুনতে হচ্ছে যে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সাথে সরকারি দলের ও তার ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় অংশ গ্রহণ করবে, নাশকতামূলক কাজ ঠেকাতে তারাও মাঠে থাকবে ইত্যাদি। আর তাদের মাঠে থাকার নমুনাও দেখা যাচ্ছে। সরকার একদিকে বিরোধী দল কর্তৃক নাশকতামূলক কাজের আশংকা প্রকাশ করছে আবার একই সাথে নিজ দলের কর্মীদেরকে মাঠে নামাচ্ছে যা নাশকতার উস্কানি হিসেবেই কেবল ব্যাখ্যা করা চলে।

এখানে একটি প্রশ্ন করা যেতে পারে। নিজ পার্টিকর্মীদেরকে একাজে নিয়োগ করার এখতিয়ার সরকার বা সরকারী দল কোথায় পেল? একাজ করার জন্য সরকারকে তো জনগণ নিজেদের অর্থে পরিচালিত এবং যথেষ্ট পরিমাণে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান – পুলিশ, র‍্যাব ইত্যাদি – প্রদান করেছে। কাজেই পারিশ্রমিকবিহীনভাবে স্বনিয়োজিত পার্টিকর্মী বাহিনীর এই দান-খয়রাতি সেবা জনগণের কোন কাজে আসছে? বা জনগণ এরূপ খয়রাতি সেবার প্রত্যাশী – এই ধারণা সরকারের কিভাবে হলো?

সরকারের মুখপাত্রদের প্রতি আবেদন, তারা যেন কথা বলার সময় সরকার ও পার্টির পার্থক্যটি বিবেচনায় রাখেন এবং প্রজ্ঞার প্রকাশ ঘটে এমন কথাবার্তা বলেন। সরকারের নিকট আবেদন করা যায় যে, সে যেন জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংবিধানসম্মতভাবে ব্যবহার করেই শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করে এবং তার পার্টির খয়রাতি সেবা হজম করা থেকে জনগণকে অব্যাহতি দেয়। এই আবেদন করেই এই লেখার ইতি টানা গেল।

n

বিষয়ভিত্তিক বিভাজনসহ ব্লগসূচী