ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

চলতি বছরের ৮ মাসে খুন হয়েছেন ৫৫ জন। গত মঙ্গলবারও খুন হয়েছেন একজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ ৩ জন। সাম্প্রতিক সময়ে হত্যা-খুন এবং অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের ঘটনাগুলো রীতিমত আতঙ্কিত করে তুলেছে সর্বস্তরের মানুষকে। সবার মধ্যে ভয়, আবার কে কখন খুনিদের টার্গেটে পরিণত হয়। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে খুন ও লুটতরাজের ঘটনা। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ড এবং অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের ঘটনাগুলো নিছক বিচ্ছিন্ন ঘটনা। সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো।

গত ২৮ আগস্ট মঙ্গলবার পদ্মানদীর মাঝখানে সন্ত্রাসীরা আমবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান নূর ইসলাম, আনছার ও ভুট্টোকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি এবং জবাই করে হত্যা করে। আনছার ও চেয়ারম্যান নূর ইসলামের মস্তকবিহীন লাশ পদ্মানদীতে ফেলে দেয়। সন্ত্রাসীরা চেয়ারম্যানের মাথা নিয়ে উল্লাস করতে করতে চলে যায়। এর আগেও কুষ্টিয়ায় চারটি মস্তক উদ্ধার নিয়ে সারা দেশে ব্যাপক তোলপাড় হয়েছিল।

লোমহর্ষক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কারণে সমগ্র জেলা আতঙ্কের জনপদে হয়েছে পরিণত। পুলিশ প্রশাসন খুন ঠেকাতে দিয়েছে ব্যর্থতার পরিচয়। ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, শ্রমিক, চালক-মালিক, অজ্ঞাত ব্যক্তি, শিশু ও নারীসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে খুন করা হয়েছে।

এক সময়ের নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী অধ্যুষিত এলাকা বলে খ্যাত কুষ্টিয়ার জনপদ এখন খুনের জনপদে হয়েছে পরিণত। জেলায় এ বছর বিভিন্ন সময়ে খুনের ঘটনা ঘটেছে ৫৫টি। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ৫, ফেব্রুয়ারি ১, মার্চে ৫, এপ্রিলে ২, মে মাসে ৫, জুনে ৬, জুলাইতে ১৩টি এবং আগস্ট মাসেও খুন হয়েছে ১৫টি। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ একের পর এক লাশ উদ্ধার করলেও আইন-শৃঙ্খলা আগের তুলনায় অনেক ভালো বলে দাবি করছেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মফিজ উদ্দিন আহমেদ।