ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

ফাঁসির আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরছে অথচ পুলিশ বাহিনী নিরীহ মানুষকে নির্যাতনের প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত । বিশ্বাস না হয় দেখুন –

ঢাকার অদূরে দোহারে চাঞ্চল্যকর জামাল হত্যাকাণ্ডের ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তিন বছর পার হলেও এখনও জামাল হত্যাকাণ্ডের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি গ্রেফতার হয়নি। ফাঁসির আসামি আরিফুল হাসান ওরফে মেশিন পোয়া ও শিপলু মামলা থেকে পার পেতে নানা তত্পরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু জামালকেই খুন করে থেমে থাকেনি দুর্বৃত্তরা, মামলা পরিচালনায় সক্রিয় থাকায় জামালের চাচা সাত্তার মুন্সিকেও খুন করে তারা। এ অবস্থায় নিহত জামালের পরিবার উদ্বিগ্ন। তারা দ্রুত আদালতের রায় বাস্তবায়ন এবং খুনিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে। জানা গেছে, দোহারের লক্ষ্মীপ্রসাদ গ্রামের জামাল মুন্সিকে ২০০৯ সালের ১৭ জুলাই বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে ও গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহতের স্বজনরা জানান, জামালকে এলাকার সবাই ভদ্র স্বভাবের এবং পরোপকারী ছেলে বলে জানত। তিনি বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হঠাত্ ১৭ জুলাই বিকালে বাড়ি থেকে জামালকে ডেকে নিয়ে যায় তার বন্ধু রুবেল। রুবেলের মোটরসাইকেলে করে জামাল কাচারিঘাট বাজারে মজিবরের স’মিলের কাছে পৌঁছলে ওঁেপতে থাকা মেশিন পোয়া, কামাল হোসেন, আমির হোসেন, শিপলু ও পল্লবসহ ৬-৭ সন্ত্রাসী জামালকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়। এরপর কয়েক সন্ত্রাসী বুকের ওপর ওঠে উল্লাস করে জামালকে ছুৃরিকাঘাত করে। একপর্যায়ে অস্ত্র বের করে এলোপাতাড়ি গুলি করে তারা। জামালের মামা মজিবুর এগিয়ে এলে তাকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। গুরুতর আহত জামালকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন। জামালের বাবা ফালু মুন্সি বলেন, এ ঘটনায় তিনি ১১ জনকে আসামি করে দোহার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা পরিচালনায় থানা ও আদালতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন বাদীর ভাই সাত্তার মুন্সি। তিনি পুরান ঢাকায় জেনারেটরের ব্যবসা করতেন। জামাল হত্যাকাণ্ডের পর খুনিচক্র সাত্তার মুন্সিকেও পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করে। জামালকে হত্যার এক মাসের মাথায় পুরান ঢাকা এলাকায় দুর্বৃত্তরা সাত্তার মুন্সিকেও একই কায়দায় খুন করে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও র্যাব ১১ আসামিকে গ্রেফতার করে। দোহার থানা পুলিশ মামলার চার্জশিট দেয়। আদালতে এ মামলায় আরিফুল হাসান ওরফে মেশিন পোয়া, আমির হোসেন, পল্লব ও শিপলুকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। কামাল ও আনোয়ার হোসেনকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়। মামলার অপর পাঁচ আসামিকে খালাস দেয়া হয়। নিহতের বাবা ফালু মুন্সি বলেন, উচ্চ আদালতে এখনও এ মামলার কার্যক্রম চলছে। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ও প্রধান আসামি মেশিন পোয়া ও শিপলু প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ ও র্যাব তাদের খুঁজে পাচ্ছে না বললেও অনেকেই তাদের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে দেখছে। এমতাবস্থায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। যে কোনো সময় তারা বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমাদেরও হত্যা করতে পারে।

এবার দেখুন নিরীহ মানুষদেরকে নির্যাতনের সামান্য কিছু চিত্র

আপনারা দেখেছেন পুলিশ কোন কাজে ব্যস্ত। পুলিশ যদি এ কাজেই ব্যস্ত থাকে তাহলে সন্ত্রাসীরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে উল্লাস করবে, নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াবে, এটাই স্বাভাবিক

পুলিশের দায়িত্ব কি নিরীহ জনতাকে নির্যাতন করা ? নাকি এসব চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের শাস্তির বিধান করে সাধারণ মানুষের শান্তি নিশ্চিত করা?