ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, শিল্প-সংস্কৃতি

 

রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, আমাদের পরিচয়ের একটা ভাগ উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বলে পাকা এবং অপরিবর্তনীয়- যেমন জাতিসত্তার পরিচয়। আরেক ভাগ বিদ্যা বা ব্যবহারসূত্রে অর্জিত বিধায় পরিবর্তনীয়- যেমন ধর্মমতের পরিচয়। মতের শিকড়ের চেয়ে জাতির শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত এবং সুদূরে প্রসারিত। তাই মতের প্রতিরোপণে সত্তার প্রতিস্থাপন ঘটে না। অর্থাৎ মতের পরিবর্তনে জাতির পরিবর্তন ঘটে না। বঙ্গদেশ থেকে পূর্বপাকিস্তান, আবার পূর্বপাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ- এসব পরিবর্তন জাতিসত্তাঘটিত নয়, রাজনীতিক মতপ্রসূত। অর্থাৎ এসব জাতিসত্তার চরিত্রের পরিবর্তন নয়, জাতিদেহের পোশাকের পরিবর্তন মাত্র।
এর কারণ যে-কোনো লোকবসতির গোষ্ঠীগত দানাটা বাঁধার ক্ষণ থেকেই গোষ্ঠীটির লোকসংস্কৃতির বুনট শুরু হয়ে যায়। ধর্ম আসে পরে। তাই সে তার আগে থেকে শিকড়-গাড়া সংস্কৃতিকে বেদখল করতে পারে না। ইসলাম ধর্ম এসে পারস্যের অ্যানিমিজম, পেগানিজম, এমনকি জোরোয়াস্ট্রিয়ানিজমকেও হটিয়ে দিল চৌদ্দশ বছর আগে। ইসলামি খলিফাগণ বাতিল করে দেন জরাথুষ্ট্রেরও অনেক আগের এমনকি পুরাণকথা বা অতিকথার পারস্যরাজ জামশেদ-কায়খসরুর কাল থেকে প্রাক-ইসলামিক শেষ পারস্যরাজ ইয়াজদিগার্দ পর্যন্ত চলে আসা নওরোজ বা নতুনদিন-নামক নববর্ষ-উৎসবটিকেও। কিন্তু খলিফাদের আমলশেষে সামানিদ-বুয়িদ ইত্যাদি সম্রারাটদের আমলে পুনরায় স্বতঃস্ফূর্তভাবেই চালু হয়ে যায় নওরোজ, আরো বর্ধিত উৎসাহ ও উদ্দীপনা সহকারে।

ওমর খৈয়াম তাঁর নওরোজনামায় লেখেন যে হানাদার তুর্কি-মোঙ্গলরাও পারশ্যের এই নববর্ষ-উৎসবটিকে বাতিল করতে চায়নি। কট্টর মুসলিম দেশটিতে জোরোয়াস্ট্রিয়ান বর্ষবরণ উৎসব নওরোজ উত্তরোত্তর অধিক থেকে অধিকতর মর্যাদা পেতে থাকে। এতখানি যে আবহমান ইরানের অজানিত বছর থেকে উদযাপিত নওরোজকে ২০১০ সালের একুশে মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ইউনেস্কোর ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অফ হিউম্যানিটি কিংবা মানবসম্প্রদায়ের অনির্বচনীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য-তালিকায় নিবন্ধিত করা হয়েছে।

তিনটিমাত্র দৃষ্টান্তেই ইরানের নববর্ষ-উৎসবের এককত্ব বোঝা যাবে। এক, সেখানে একুশে মার্চ থেকে স্কুল-কলেজে সাতদিন ছুটি সহকারে নওরোজ উদযাপিত হয় সপ্তাহব্যাপী। দুই, নগরবাসী ইরানিরা প্রতি বছর পর্ণমোচী মৌসুমশেষে বসন্তের প্রথমদিন নওরোজ উদযাপন উপলক্ষে সপরিবারে গ্রামে চলে যায় প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হতে। তিন, ইরান ছাড়া আফগানিস্তান, কুর্দিস্তানসহ সোভিয়েট রাশিয়া ও চীনের কোনো কোনো দেশেও উদযাপিত নওরোজকে বস্তুত আন্তর্জাতিক নববর্ষও গণ্য করা যায়।

সে যাক। বাংলাদেশেও পাকিস্তান আমলশেষে পয়লা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ উৎসব বৈশাখী ফিরে আসে যথা উৎসাহে এবং প্রতি বছরই বর্ধিত মাত্রা পেতে থাকে। আসবে না কেন। ইসলাম ধর্ম বঙ্গে এল প্রায় হাজার বছর হল। কিন্তু বৈশাখী মেলা এবং নবান্ন উৎসব বাঙালির আবহমান কালের লোকসংস্কৃতির অংশ। একই কারণে বাঙালি মুসলিমের সঙ্গে চৈনিক মুসলিমের কেবল ধর্মেরই কিছু মিল হবে। সংস্কৃতির মিল বেশি হবে তাদের স্বজাতি বৌদ্ধ এবং কনফুসীয়দের সঙ্গে। তেমনি ইন্দোনেশীয় ও পাকিস্তানি মুসলিমের সঙ্গে বাঙালি মুসলিমের মিল হবে কেবল ধর্মের, সংস্কৃতির নয়।

তাই বাঙালি তার প্রাচীন লোকসংস্কৃতির সঙ্গে অর্বাচীন পাকিস্তানী সংস্কৃতির গরমিলের কারণে পূর্বপাকিস্তানে থাকতে না-পেরে বাংলাদেশ বানিয়েছে- পাকিস্তানি না হয়ে বাঙালি থাকার জন্য। তাই বাঙালিত্বের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী নববর্ষ উপলক্ষে পালিত বৈশাখী উৎসব সম্প্রতি প্রতি বছরই নব নব মাত্রা পাচ্ছে। এ তো গেল আনন্দময় দিকটি। কিন্তু নববর্ষ উদযাপন নিয়ে একটি দায়িত্বশীল দিকও আছে। সেটিই আমার আজকের নববর্ষ নিয়ে নবভাবনা।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে টেলিভিশনের প্রচার ছাড়াও বেড়েছে ভিডিও চিত্রের বিস্ময়কর প্রসার। শহরাঞ্চলে ভিডিও-সংস্কৃতির প্রাবল্য নিশ্চয়ই সকলেই লক্ষ করেছেন। গ্রামবাংলায় কতগুলো ভিডিও রেকর্ডার-প্লেয়ার, কতগুলো ভিডিও প্রদর্শনের কক্ষ অথবা ব্যবস্থা আছে সে সম্বন্ধে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া সম্ভব নয়। সিনেমার হল যেখানে পাঁচ থেকে পনেরো মাইল দূরে, যাত্রা বা থিয়েটার যেখানে মৌসুমি হাওয়ার মতো আসে- সেখানে কেউ যদি ইলেকট্রনিক স্ক্রিনে উত্তেজক ছবির দোকানদারি লাগিয়ে দেয় তাহলে নিয়মিত দর্শকের অভাব হবার কথা নয়। তাই প্রমোদের প্রধান একটি মাধ্যম হিসাবে ভিডিওর অপ্রতিহত অগ্রগতি অবশ্যম্ভাবী। লোকসংস্কৃতির বিপদটি এখানেই।

মনে রাখতে হবে যে গ্রাম-শহরের তফাৎ এবং দূরত্ব এখন আর ধ্রুব নয়। তবু একথা অনস্বীকার্য যে অদূর ভবিষ্যতেও গ্রাম এবং শহরের মধ্যে একটা সীমারেখা থাকবেই, সেটা স্থানে স্থানে যতই অস্পষ্ট বা অনিশ্চিত হোক না কেন। গ্রামের বুকের মধ্যে দিয়ে বাস চললেই বা গ্রামের দোকানে শহুরে পণ্য বিক্রি হলেই তার জীবনযাত্রা নাগরিক হয়ে যায় না। তাই দেখতে হবে যে আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক মাধ্যম কীভাবে আমাদের গ্রামীণ সাংস্কৃতিক পরিম-লকে প্রভাবিত করছে এবং কতখানি।

লোকসংস্কৃতির কিছু ধারা আছে যেগুলি আচারনির্ভর নয় বা ইতিহাসের বিবর্তনে ধর্ম থেকে বিযুক্ত, যেমন নববর্ষ উপলক্ষে উদযাপিত বৈশাখী উৎসব। ঝুমুর বা ভাওয়াইয়া বা ভাটিয়ালি আসলে জাগতিক বা সেক্যুলার চরিত্রের গান এবং নান্দনিক ধারা হিসেবে জাতি-ধর্ম-বর্ণের গণ্ডিকে অতিক্রম করে যায়। কিন্তু লোকসংস্কৃতির সামাজিক ভিত্তি ও তার উৎসব-প্রধান চরিত্রটিকে কেবল দেখলেই চলবে না, পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে সর্বদা।

গ্রামীণ জীবনে সংস্কৃতির ভূমিকা থাকে নিজস্ব নিয়মেই, তার প্রয়োজন নিছক ধর্মাশ্রিত বা রিচুয়াল-নির্ভর নয়। এবং এইখানেই নাগরিক সংস্কৃতিক সঙ্গে তার তফাৎ পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। শহরের যে প্রমোদ মানুষের কাছে পৌঁছায় সেটা আসে মূলত নানারকমের বাজারের মধ্যস্থতায়। যিনি কবিতা বা উপন্যাস লেখেন তিনি পান্ডুলিপি হাতে দ্বারে দ্বারে শ্রোতার সন্ধানে ঘুরে বেড়ান না। ছাপা বই ছাড়া তিনি পাঠকের নাগালে আসতে পারেন না এবং ছাপানো সাহিত্যের জটিল বাজারে তাঁর পাঠ্যবস্তুর প্রবেশ এবং বণ্টন বাজারের নিয়মেই নিয়ন্ত্রিত।
অন্যান্য শিল্পকলাও একইভাবে কেবল বাজারের মাধ্যমেই লভ্য। সেখানে শ্রোতা বা দর্শকের ভূমিকা নিশ্চেষ্ট ভোগীর, শিল্পকলার নির্মাণে তার নিজস্ব অংশগ্রহণ সাধ্যাতীত এবং অযৌক্তিক। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে নাট্য-পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ না করে দর্শকের পক্ষে নাটকের উপভোগ কঠিন, কারণ যে পরিবেশে তাঁর মনন বিকশিত হতে পারে সেই পরিবেশকে চেষ্টা করে দূরে রাখার কায়দাই রপ্ত করেছে আধুনিক প্রসেনিয়াম-নির্ভর, সম্মোহন-বিস্তারী মঞ্চব্যবস্থা। সিনেমা আর টেলিভিশনও অগ্রসর হয়েছে একইভাবে দর্শকের চিন্তাকে দাবিয়ে রাখার প্রমোদ আত্মস্থ করে।

এদিক থেকে বলতেই হয় যে প্রযুক্তিনির্ভর, পুঁজিবহুল, বাজার-নিয়ন্ত্রিত নাগরিক আমোদপ্রমোদ বিশেষভাবে অগণতান্ত্রিক। এই মাধ্যমগুলি যেহেতু মানুষের সঙ্গে মানুষের সাযুজ্যকে ব্যবহার করে না, বরং গোষ্ঠী এবং সমাজ থেকে ব্যক্তিমানুষকে বিচ্ছিন্ন করে এক একক চৈতন্যের কাছে পৌঁছায়, যেহেতু প্রযুক্তির অগ্রসর ও বর্ধমান নিপুণতায় ছবি ও শব্দ অসংখ্য মানুষকে অনেক সময় ধরে সম্মোহিত করে রাখতে পারে- সেহেতু এগুলির সম্প্রচারে বিপরীত বা বিকল্প চিন্তার উদ্রেক বিশেষভাবে দমিয়ে রাখা হয়। এও দেখা যাচ্ছে যে শ্রেণীবিভক্ত সমাজের শাসকগোষ্ঠী এই মাধ্যমগুলির ব্যবহার ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছে, এবং এদের নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োগ নিজেদের কুক্ষিগত করে রাখার জন্য সর্বদা সজাগ রয়েছে।

এর পাশাপাশি দেখতে হয় খাঁটি লোকসংস্কৃতির সর্বজনীন গণতান্ত্রিক চেহারাটিকে। সেখানে শিল্পী ও দর্শকের মাঝখানে বাজারের প্রয়োজন নেই, কারণ অনেকসময়ে শ্রোতাই শিল্পী এবং শিল্পীই শ্রোতা। শিল্পনির্মাণ ও উপভোগের এটাই আদিমতম এবং প্রচলিত রূপ। যে খেতমজুর মাঠে লাঙল ধরেন তিনিই অবসরে গান করেন, যিনি সকাল-সন্ধ্যা নদীর বুকে জাল ফেলে মাছ ধরেন, তাঁর গলাতেই শোনা যায় ভাটিয়ালি, যাঁরা ছৌ নাচ বা রায়বেঁশে বা ঘোড়া নাচ পরিবেশন করেন তাঁরা দর্শকের বা শ্রোতার সামাজিক বাস্তবতায়ও অভিন্ন। সংস্কৃতি এখানে গোষ্ঠীগত জীবনের সঙ্গে জড়িত। শিল্পী ও শ্রোতা এখানে পরস্পরে সহমর্মিতায় একাত্ম।

কিন্তু আর এক ধরনের বদলও দেখা গেছে মহাযুদ্ধের ভাঙাগড়ার সময় থেকে, যে ভাঙাগড়া এবং সামাজিক-আর্থনীতিক পরিবর্তন দেশভাগের পর থেকে দ্রুততর হয়ে চলেছে। একদিকে দেখা যায় যে গ্রামীণ শিল্পীরাই বিষয়বস্তু এবং প্রয়োগ বদলে নিচ্ছেন সময়ের চাপে, অন্যদিকে লোকরীতি ব্যবহার করে কৃত্রিম ও মিশ্রিত একটি ঢং প্রচলিত হচ্ছে শহুরে প্রমোদ-বাজারের চাহিদায়। এই দুই প্রক্রিয়ার পিছনেই আছে সমাজব্যবস্থার নগরকেন্দ্রিক সংস্কৃতিধারণার চাপ।

বাউল গাইয়ে যখন তাঁর গানে বিজাতীয় স্বরক্ষেপ বা চটুল বাক্বিস্তার এনে ফেলেন তখন তাঁর চেতনায় কাজ করে নিজের গ্রামীণ গণ্ডির বাইরের সাংস্কৃতিক বাজারের চাকচিক্যময় সম্ভারের আদল। অন্যদিকে বাজারের জন্য তৈরি মিশ্রিত সংস্কৃতি অনবরতই জনরুচিবিরোধী ইন্দ্রিয়পরায়ণতায় পর্যবসিত হয়, যেমন ঊনবিংশ শতকে কলকাতা শহরের খেম্টা নাচ বা খেউড় গানে দেখা গিয়েছিল।

বাংলা নববর্ষ উদযাপনে সর্বস্তরের জনগণের উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখে মনে হয় লোকসংস্কৃতির ধারা এদেশে দূরভবিষ্যতেও জীবন্ত হয়ে থাকবে। কাজেই লোকসংস্কৃতির যেটা মূল সামাজিক অবস্থান- বাজারের মধ্যস্থতা ছাড়া মানুষের মাঝখানে প্রত্যক্ষ শিল্প নির্মাণ- সেই চরিত্রটি অক্ষুণœ রাখার প্রধান দায়িত্ব গিয়ে বর্তাচ্ছে সংশ্লিষ্ট জনসম্প্রদায়েরই ওপর, কি গ্রামীণ কি নাগরিক।

তাই আমি বলতে চাই- নববর্ষ উৎসবে ধানমন্ডি-লেকসাইডে বসে পান্তা খাওয়ার বদলে নগরবাসীগণ যেন নওরোজ উদযাপনকারী ইরানিদের মতো সপরিবারে গ্রামে গিয়ে পান্তাভোজীদের সঙ্গে পান্তা খেয়ে ফসল ফলানোর কাজে যান। শুধু বছরের প্রথম দিনটি কিংবা প্রথম সপ্তাহটির জন্যে হলেও। এরও কিছু প্রতীকী মূল্য আছে। বাংলা নববর্ষ তো ঘোষিতই হয়েছে ফসলের ও রাজস্বের হিসাব মাথায় রেখে। ফসলের কাজ ছাড়াও এই দেশটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সকল কাজই-যে গ্রাম থেকেই শুরু করতে হবে। কারণ বাংলাদেশ বলতে তো গ্রামবাংলাই, নগরবাংলা যেখানে অকিঞ্চিৎকর।

স্বদেশী সমাজ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, গ্রামেই আমাদের দেশের প্রাণ প্রতিষ্ঠিত। তাই গ্রামীণ মেলা, যাত্রা, কথকতা ইত্যাদির মাধ্যমে লোকশিক্ষা ও লোকসংস্কৃতির পুনর্জাগরণ সম্ভব। এই ধরনের নানাবিধ কর্মের মধ্য দিয়েই স্বদেশের আত্মআবিষ্কার ও আত্মকর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। স্বদেশ সম্পর্কে তাঁর চিন্তাভাবনা ও কর্মপরিকল্পনা আসলে গ্রামীণ-নাগরিক মিলিয়ে এক অখ- বাঙালি চেতনা বা সর্বায়ত বাঙালি মানসিকতা সৃষ্টির ঐতিহাসিক চেষ্টা। চেষ্টাটা কাজে লাগালে আমরা ভালো করবো- যত বিলম্বেই হোক না কেন। বেটার লেট দ্যান নেভার।
———————-
ফিচার ছবি: ইন্টারনেট