ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

বিস্মৃত রবীন্দ্রনাথ বলতে আমি রাজনীতিক রবীন্দ্রনাথকে বোঝাচ্ছি। তিনি রাজনীতিক ছিলেন না– এটাই যেন ভাসতে থাকে আমাদের মনের পর্দার ফুটেজের প্রথম লাইনে। দ্বিতীয় লাইনে থাকে– তাঁর শিল্পজীবন কাটিয়েছেন তিনি কেবল উপনিষদ, প্রেম, প্রকৃতি, সীমা আর অসীমের প্রভুকে নিয়ে। দুটি সংবাদই ভুল। কারণ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না-হলেও রবীন্দ্রনাথ অনেক সাময়িক আন্দোলনের সঙ্গে তো ছিলেনই, কৈশোর থেকে আমৃত্যুই ছিলেন জাতিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির তীক্ষ অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন পর্যবেক্ষক ও তীব্র অভিব্যক্তিসমৃদ্ধ বিশ্লেষক।

উনিশ শতকের শেষভাগ ছিল এক উদ্দাম সাম্রাজ্যবিস্তারের কাল। তখন স্পেন, পর্তুগাল, হল্যান্ড, ডেনমার্ক, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া প্রভৃতি ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী দেশ আমেরিকা, এশিয়া এবং আফ্রিকায় আপন-আপন ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য অবিরাম যুদ্ধবিগ্রহে লিপ্ত ছিল। সে আগ্রাসনে ব্রিটিশের প্রধান ঘাঁটি ছিল ভারতবর্ষ, যেখান থেকে চীন এবং সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তার সাম্রাজ্য ও বাণিজ্যপ্রসারের অভিযান চালনা করছিল সে, যার ব্যয়ভার জোগাতে ভারতবাসীর মুখ থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটছিল। সাম্রাজ্যবাদের বিশ্বজোড়া এই উন্মত্ত দানবিকতা ও পাশবিকতার বিরুদ্ধে এদেশে প্রথম প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছিল ১৬ বছর বয়সী বালককবি রবীন্দ্রনাথের কবি কাহিনীতেই :

“কি দারুণ অশান্তি এ মনুষ্যজগতে–
রক্তপাত, অত্যাচার, পাপ কোলাহল
দিতেছে মানবমনে বিষ মিশাইয়া!
কত কোটি কোটি লোক, অন্ধকারাগারে
অধীনতাশৃঙ্খলেতে আবদ্ধ হইয়া
ভরিছে স্বর্গের কর্ণ কাতর ক্রন্দনে,…
কত দেশ করিতেছে শ্মশান অরণ্য,
কোটি কোটি মানবের শান্তি স্বাধীনতা
রক্তময়পদাঘাতে দিতেছে ভাঙ্গিয়া,
তবুও মানুষ বলি গর্ব্ব করে তারা
তবু তারা সভ্য বলি করে অহঙ্কার! (অচলিত, প্রথম খ-)।
উল্লেখযোগ্য যে, ২২ বছর বয়সী রবীন্দ্রনাথই সর্বপ্রথম দেশের মডারেট নেতৃত্বের ইংরেজি বক্তৃতাবিলাসী আবেদন-নিবেদন-নির্ভর বাকসর্বস্ব রাজনীতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতী পত্রিকায় পরপর কয়েকটি প্রবন্ধ লেখেন ১২৮৯ সালের চৈত্র থেকে ১২৯০ সালের চৈত্র পর্যন্ত– চেঁচিয়ে বলা, জিহ্বা-আস্ফালন, ন্যাশনাল ফন্ড, টৌনহল তামাসা, হাতে কলমে, অকালকুষ্মা-।

ন্যাশনাল ফন্ড শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ রচনাটিতে কবি দেশের চলমান শিক্ষাসমস্যার সমাধানকল্পে জোরালো প্রস্তাব রাখেন। শিক্ষা বলতে কবি প্রধানত জনশিক্ষাই বুঝতেন– মুষ্টিমেয় কায়েমী স্বার্থভোগী শ্রেণির ছেলেমেয়েদের শিক্ষা নয়, যাদের ইংলিশ-মিডিয়াম স্কুলে পড়াবার জন্য অভিভাবকদের মধ্যে একটা ন্যক্কারজনক উন্মত্ততা দেখা দিয়েছিল। যুবককবি বললেন– ইংরাজীতে শিক্ষা কখনই দেশের সর্বত্র ছড়াইতে পারিবে না। অতএব দেশময় ছড়িয়ে দিতে হবে মাতৃভাষার বঙ্গবিদ্যালয়।

মৃত্যুর মাত্র দুমাস আগে রবীন্দ্রনাথ রোগশয্যা থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সাফাইগায়িকা মিস র¨]থবোনের উদ্দেশ্যে ভৎর্সনা-বক্তব্যে চাঞ্চল্যকর তথ্যের উল্লেখ করেছিলেন :

যদি ধরিয়া লওয়া হয় যে, ইংরাজী ভাষা ছাড়া আমাদের জ্ঞানালোক পাইবার অন্য পথ নাই, তবে কেন সেই ইংলন্ডীয় চিন্তাধারার উৎস হইতে আকণ্ঠ বারি পান করিবার ফলে দুই শতাব্দীব্যাপী ব্রিটিশ শাসনের পর ১৯৩১ সালে আমরা দেখিতে পাই, ভারতের সমগ্র জনসংখ্যার মাত্র একজন ইংরাজী ভাষায় লিখন পঠনক্ষম (literate) হইয়াছে। অন্যদিকে, রাশিয়ায় মাত্র ১৫ বৎসরের সোভিয়েট শাসনের ফলে ১৯৩২ সালে সোভিয়েট ইউনিয়নের শতকরা ৯৮টি বালকবালিকা শিক্ষালাভ করিয়াছে (এই সংখ্যাগুলি ইংরেজ প্রকাশিত স্টেটসম্যান ইয়ার বুক হইতে উদ্ধৃত)। এই বহির রাশিয়ার অনুকূলে পক্ষপাতভ্রান্ত হইবার সম্ভাবনা নাই।
১২৯৭ সালের ভারতী ও বালক পত্রিকার বৈশাখ-সংখ্যায় প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথের মন্ত্রি-অভিষেক একটা ঐতিহাসিক বক্তৃতা– তাঁর প্রথম রাজনৈতিক ভাষণ। প্রবন্ধটির পটভূমিতে ছিল ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল রিফর্ম বিল-এ নির্বাচিত সদস্য প্রেরণ সংক্রান্ত বিতর্ক। ১৮৮৬ সালে আয়ার্ল্যান্ডের হোমরুল সমর্থক বিল পাশ করাতে না পেরে পদ হারালেন উদারপন্থী প্রধানমন্ত্রী উইলিয়ম গ্ল্যাডস্টোন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী রবার্ট সলসবেরির ভারতসচিব লর্ড ক্রস কর্তৃক আনীত বিলে কেবল মনোনীত সদস্যের ব্যবস্থাই সমর্থিত ছিল, নির্বাচিত সদস্যের নয়। নির্বাচিত সদস্যের পক্ষ নিয়ে বিলটির বিরোধী প্রস্তাব আনলেন গ্ল্যাডস্টোনের সুযোগ্য শিষ্য চার্লস ব্র্যাড্ল।

প্রস্তাবটি প্রধানমন্ত্রী সলসবেরি নাকচ করলেন এই বলে যে নির্বাচন-ব্যবস্থা প্রাচ্যের ঐতিহ্যে কোনোকালেই ছিল না, তাই তা ভারতবর্ষীয় পরিপাকযন্ত্রে বিকারের সৃষ্টি করবে। ব্রিটিশরাজের এই বিকৃত যুক্তি উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে সমর্থিত হয় বাংলার ইংরেজভক্ত সংবাদপত্রসমূহ ও ইংরেজি-বলিয়ে বুদ্ধিজীবী মহল কর্তৃক। লর্ড ক্রসের সেই গণবিরোধী বিলটির বিরুদ্ধে আহূত জনসভায় রবীন্দ্রনাথ তাঁর মন্ত্রী-অভিষেক প্রবন্ধটি পাঠ করেন এমারল্ড থিয়েটার-গৃহে ১৮৯০ সালের ২৬ এপ্রিল। সভায় বক্তারা সকলেই, এমনকি স্বয়ং সভাপতি দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরও, ইংরেজিতে বক্তৃতা করেছিলেন। কেবলমাত্র রবীন্দ্রনাথই পাঠ করেছিলেন বাংলা ভাষায় রচিত মন্ত্রি-অভিষেক রচনাটি। ওই স্তরের মঞ্চে বাংলা ভাষায় রাজনৈতিক বক্তৃতা এটাই প্রথম।

রবীন্দ্রনাথের চীনে মরণের ব্যবসায় প্রবন্ধটি ভারতী পত্রিকায় ১২৮৮ সালের জ্যৈষ্ঠ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। প্রবন্ধের শুরুতেই কবি বললেন :

একটি সমগ্র জাতিকে অর্থের লোভে বলপূর্বক বিষপান করান হইল; এমনতর নিদারুণ ঠগী-বৃত্তি কখনো শুনা যায় নাই। চীন কাঁদিয়া কহিল, আমি অহিফেন খাইব না। ইংরাজ বণিক কহিল সে কি হয়? চীনের হাত দুটি বাঁধিয়া তাহার মুখের মধ্যে কামান দিয়া অহিফেন ঠাসিয়া দেওয়া হইল, দিয়া কহিল যে অহিফেন খাইলে তাহার দাম দাও। বহুদিন হইল ইংরাজেরা চীনে এইরূপ অপূর্ব বাণিজ্য চালাইতেছেন।…অর্থ সঞ্চয়ের এইরূপ উপায়কে ডাকাইতি না বলিয়া যদি বাণিজ্য বলা যায় তবে সে নিতান্তই ভদ্রতার খাতিরে।…

স্মরণ রাখা দরকার– রবীন্দ্রনাথ যখন এ প্রবন্ধ লিখছেন, জাতীয় কংগ্রেসের তখনো জন্ম হয়নি। রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ ও আনন্দমোহন বসু প্রমুখ কয়েক জন উচ্চশিক্ষিত বুদ্ধিজীবীর প্রচেষ্টায় ভারত সভা প্রতিষ্ঠিত হয় কয়েক বছর আগে। তাঁদের আন্দোলনের মূল বিষয়বস্তু ছিলো ভারতীয় সিবিলিয়ানদের যৎসামান্য দাবি-দাওয়া অর্জন। ব্রিটিশসভ্যতার উপর তাঁদের মনে এতটুকুও বিরাগ ছিল না। কিন্তু ২০ বছর বয়সী তরুণকবি অবতীর্ণ হয়ে গেলেন ব্রিটেন ও ফ্রান্সের অসভ্যতার বিরুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী রাজনৈতিক আলোচনায়। বস্তুতপক্ষে এইটিই রবীন্দ্রনাথের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রবন্ধ। প্রবন্ধটির উপসংহারে তিনি বলেন :
…কিন্তু আমরা খৃষ্টান জাতিকে ত চিনি! এই খৃষ্টান জাতিই ত প্রাচীন আমেরিকানদিগকে ধ্বংস করিয়াছেন! এই খ্রিষ্টান ইংরাজদের লোভদৃষ্টিতে কোন দুর্ব্বল হীদেন দেশ পড়িলে তাহারা কিরূপ খ্রিষ্টান উপায়ে তাহা আদায় করেন তাহাও ত আমরা জানি। এই খ্রিষ্টান ইংরাজগণ বর্ম্মায় কিরূপ খ্রিষ্টান নীতি অবলম্বন পূর্ব্বক অহিফেন প্রচলিত করেন তাহাও ত আমরা জানি।…

শুধু চীনের সমস্যা নিয়েই নয় এশিয়ার উদীয়মান শক্তি জাপান সম্পর্কেও কবির অভিমত আশ্চর্যরকম দূরদর্শী। ভারতী পত্রিকার ওই জ্যৈষ্ঠ সংখ্যাতেই তাঁর জাপানের মূলপত্তন শীর্ষক একটি রচনা এবং আষাঢ় সংখ্যায় জাপানের বর্তমান উন্নতি শীর্ষক আর একটি রচনা প্রকাশিত হয়। এ দুটি প্রবন্ধেই, বিশেষত শেষোক্ত রচনাটিতে, কবির বিচার-বিশ্লেষণ ও তীক্ষè পর্যবেক্ষণশক্তি বিস্ময়কর। এই প্রবন্ধে শুধু আধুনিক জাপানের অভ্যুদয়ের ও শক্তিসঞ্চয়ের রহস্য উদ্ঘাটনেরই নয়, চীন এবং জাপানের অবস্থার তারতম্য ও তুলনামূলক আলোচনারও চেষ্টা হয়েছে। সেই সময়ই তিনি জাপানের সাম্রাজ্যলালসা ও সাম্রাজ্যবাদী প্রবণতার লক্ষণ দেখতে পেয়েছিলেন এবং এই আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন যে, একদিন হয়ত ভারতবর্ষই জাপ-সাম্রাজ্যের কবলে পড়বে (পড়েছেও ৬২ বছর পরে)।

সোনার তরী রচনাকালে রবীন্দ্রনাথ সাধনা পত্রিকার ১২৯৮ সালের পৌষ সংখ্যায় সীমান্ত প্রদেশ ও আশ্রিতরাজ্য- নামে একটি প্রবন্ধ লেখেন। এতে জটিল রাজনীতি-কূটনীতি সংবলিত ব্রিটিশদের ফরওয়ার্ড পলিসি সম্পর্কে তাঁর বিচার বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ-শক্তি দেখে অবাকই মানতে হয়। প্রবন্ধটিতে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের সীমান্ত অগ্রসর নীতি ও ইংরেজের সাম্রাজ্যবাদী কূটনীতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে কবি বলেন : হিমালয়কে তাকিয়া করিয়া দুই পাশবালিশ লইয়া ইংরাজ এক মস্ত রাজশয্যা পাতিয়াছেন কিন্তু গদী যে আর বেশি অগ্রসর হইবে এমন সম্ভাবনা সম্প্রতি নাই (কারণ বিপরীত দিক থেকে রাশিয়াও অগ্রসর হইতেছে)।
শুধু ভারতবর্ষের চতুঃসীমানায় নয়, এ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ভূমধ্যসাগরের জিব্রালটারে, সাইপ্রাস দ্বীপে, লোহিত সমুদ্রের প্রান্তে এডেন-এ, ইজিপ্টে, এককথায় সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে ইংরেজের সাম্রাজ্যলোলুপ কূটনৈতিক চালগুলির অভ্রান্ত বিশ্লেষণই করেছেন।

সাধনা পত্রিকা সম্পাদনা কালেই ১২৯৮ সালে আমেরিকার সমাজচিত্র এবং আমেরিকানের রক্ত-পিপাসা-শীর্ষক দুটি গুরুত্বপূর্ণ রচনা প্রকাশিত হয়, যাতে কবি মার্কিন সমাজ ও সভ্যতা সম্পর্কে তীক্ষè পর্যালোচনা ও কঠোর মন্তব্য করেছেন। প্রথম রচনাটিতে তিনি লিখেছেন : মার্কিন পুরুষ ও মহিলা সমাজে– কোথাও তাঁদের মনন ও গভীর চিন্তা এবং স্থির সংস্কৃতি সচেতনতার লক্ষণ দেখা যায় না। দ্বিতীয় রচনায় কবি মার্কিনীদের রাজনীতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের যে ছবি আঁকলেন, তা যেমনই বীভৎস তেমনি ন্যক্কারজনক। মার্কিন কবি লোয়েলের একটি উক্তির উল্লেখ করে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন :

বিখ্যাত আমেরিকান কবি লোয়েল তাঁর কোন কবিতায় লিখেছেন, আমেরিকার দক্ষিণ থেকে উত্তর সীমা পর্যন্ত বিস্তারিত বৃহৎ জাতিটি রক্তের গন্ধ ভালবাসে। একজন ইংরাজ লেখক নভেম্বর মাসের কন্টেম্পোরারি রিভিয়ু পত্রিকায় এই কথার সাক্ষ্য দিয়াছেন।

উপসংহারে কবি লিখেছেন : মনুষ্য জাতির মধ্যে একটি বিষ আছে, যখন এক জাতি আর এক জাতিকে আহার করিতে বসে তখন ভক্ষ্য জাতি মরে এবং ভক্ষক জাতির শরীরেও বিষ প্রবেশ করে। আমেরিকানদেরও রক্তের মধ্যে বিষ গেছে।

সমসময়ের আর কোনো বাঙালি মননশীল সাহিত্যিককে মার্কিন সভ্যতার স্বরূপ এমন নির্ভুলভাবে নির্ণয় করতে দেখা যায়নি।

মৃত্যুর তিনমাস আগে লেখা সভ্যতার সঙ্কট প্রবন্ধটিতে রবীন্দ্রনাথ মনুষ্যত্বধ্বংসী বুর্জোয় সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে বাতিল বলেই ঘোষণা করেছেন। এরই মধ্যে ফাসিস্ত সন্ত্রাস তামাম বিশ্বকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছে। ফ্যাসিবাদ সোভিয়েতকে ধ্বংস করবে– এ ব্যাপারে সাম্রাজ্যবাদীরা নিশ্চিত ছিল বলে হিটলার প্রসঙ্গে আপসমূলক নীতি গ্রহণ করেছিল। আঁতে ঘা লাগতেই ভয় পেয়ে থমকে গেল। রবীন্দ্রনাথ দ্বিধাহীনচিত্তে সাম্রাজ্যবাদীদের ফ্যাসিবাদ তোষণের নীতিকে তিরস্কৃত করেও বিশ্বের জন্য আশু বিপদরূপে চিহ্নিত করলেন ফ্যাসিবাদকেই। সোভিয়েত আক্রান্ত হতেই রবীন্দ্রনাথের সমস্ত চিত্তবেগ ছুটে গেল আক্রান্ত সোভিয়েতের পূর্ণ সমর্থনে।

সারকথা– রবীন্দ্রনাথের জীবনপ্রভাতে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী এবং জীবনসন্ধ্যায় ফ্যাসিবাদবিরোধী রচনাবলি যুগের হুজুগে বর্তমানে বিস্মৃত মনে হলেও ভবিষ্যতে চিরস্মৃতই থাকবে।