ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 
150811185250-man-woman-scale-780x439

নারী-পুরুষ সাম্যাবস্থা

লজ্জা নারীর ভূষণ, পুরুষের ভূষণ কী? নাকি পুরুষ নির্লজ্জ? পর্দা নারীর মর্যাদার প্রতীক, আর পুরুষের মর্যাদার প্রতীক? নাকি পুরুষের পর্দার দরকার হয় না? প্রশ্নগুলো প্রশ্নরুপে স্থিতিশীল, কৈফিয়ৎগুলো নিখোঁজ। দু’হাজার সতেরতে এসে এমন প্রশ্নমালা নিতান্তই অবান্তর, তারপরেও উঠে আসছে।

পূর্ববঙ্গ, আমার স্বদেশভূমিতে এখনো উৎপন্ন হচ্ছে উত্তেজক বীজ। যে বীজগুলো নিজকে লিপিবদ্ধ করছে ধর্ষকের খাতায়, শালীনতাহীনর দায়ে অভিযুক্তদের খাতায়। জন্মের পরবর্তীকাল, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়ে ব্যস্ততা মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু মাঝ সড়কে নিখোঁজ নৈতিক শিক্ষা। না হলে কি সভ্যতার এই পর্যায়ে এসে প্রশ্ন তুলতে হয় নারীর পর্দা, ভূষণ নিয়ে। প্রশ্নগুলো কেনই বা তুলতে হয়?

নারীর পর্দা, নারীর লজ্জা, নারীর চলাচল নিয়ে অধিকাংশ সময় প্রশ্ন তুলে পুরুষ। এখন প্রশ্নউঠে পুরুষের শুদ্ধতা নিয়ে। আমি নিজে একজন পুরুষ হয়েও আমার মনে হয় পুরুষ লজ্জার কথা বলে নারীকে প্রায় পরাধীন করে রাখছে, পর্দার কথা বলে গৃহাবদ্ধ করে রাখছে যেন পুরুষের সাথে প্রতিযোগিতায় অংশ না নিতে পারে। বিষয়টা এমন দাঁড়াচ্ছে নারীকে হাতমুটোতে রেখে পুরুষের স্বাধীনতা অর্জন। তাই হয়তো নারীর অবস্থার উন্নতি নেই।

হুমায়ুন আজাদ স্যারের কথ্যমতে ‘গত দু-শো বছরে গবাদিপশুর অবস্থার যতোটা উন্নতি ঘটেছে নারীর অবস্থার ততোটা উন্নতি ঘটেনি।’

আর বেলাশেষে দেখা যাবে প্রশ্নমালা প্রশ্নরূপে থেকে যাচ্ছে।