ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

এবারের আমার ভারত ভ্রমণের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আমাদের জাতীয় কবি কাজি নজরুল ইসলামের জন্মভূমি চুরুলিয়ায় কথিত ‘কবি তীর্থ’ ঘুরে তাঁর স্মৃতি ধন্য স্থানগুলি দেখে আসা। আসানসোল থেকে বাসে চুরুলিয়া বাজারে নেমে কবি তীর্থের নাম ফলক [দিক নির্দেশনা] না দেখে এক দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করতে সে বলল, ঐ রাস্তা ধরে সোজা চলে যান। আধ্ মাইল গেলেই নজরুল একাডেমী পাবেন। এবড়ো থেবড়ো ভাঙ্গাচুরা, খাদা খন্দকে, জল কাদায় ভরা [সামান্য বৃষ্টি হয়েছিল] এই নজরুলের বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা? দুই পার্শ্বে গরু মহিষের গোবরের স্তুপ।ময়লা আবর্জনার স্তূপ। রাস্তার পার্শ্বের ভাঙ্গা দেয়ালে গোবর মেরে মেরে গুটণী তৈরি করছে বয়স্ক মহিলারা। পায়খানা করছে ন্যাংটো এক বাচ্চা। এরই নাম রাস্তা/ ?বাংলা দেশের জাতীয় কবি, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান কবি, ভারতের স্বাধীনতার প্রধান ও প্রথম ঘোষক,বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের ‘কবি তীর্থে’ যাওয়ার রাস্তা কি এমনি হওয়ার কথা? ভারতের কোন অজ পাড়া গাঁয়ে এমন বে-হাল দশার রাস্তা কি আছে? এক কথায় বলা ্যাবে , নাই। তাহলে এই অবহেলার কারণ কি তাঁর মুসলমান হওয়া/?

দায়ীকতার বিরুদ্ধে কবি আজীবন সংগ্রাম করেছেন তাঁর প্রতি এই সাম্প্রদায়িক আচরণ কেন? যথা সময়ে এই ভাঙ্গা রাস্তা হয়ে নজরুল একাডেমীতে পৌঁছলাম। এই একাডেমিটি কবির জন্ম ভিটার উপর নির্মিত। কবি তীর্থে যাওয়ার রাস্তা দেখে যতোটা বিস্মিত হয়ে ছিলাম তার চেয়ে বেশি বিস্মিত হলাম কবির স্মৃতিধন্য পীর পুকুর দেখে। এই পুকুরে কবি স্নান,অজু করেছেন,পুকুর পাড়ের মসজিদে নামাজ পড়েছেন, ইমামতি করেছেন। এই পুকুর পাড়ের অলিয়ে কামেল হাজী পালোয়ান শা’র দরগায় খাদেম গিরি করেছেন। সেই ঐতিহাসিক পীর পুকুরের আজ বেহাল অবস্থা।সবগুলি পাড় ভাঙ্গা।পুরা এলাকার নালার[ড্রেন লাইন ]মেইন মুখ পীর পুকুরের মধ্যে ফেলা হচ্ছে।এলাকার যাবতীয় ময়লার আধার আজ এই পীর পুকুর।অথচ পার্শ্বেই গ্রাম পঞ্চায়েতের হেড অফিস।এই গুলি যে কবিরুলকে, তাঁর নামের ‘কবি তীর্থ’ কে হেয় করার জন্য ভারত সরকার ইচ্ছে করেই করছে তা কি বলার অপেক্ষা রাখে? নজরুলের নামে করা গেস্ট হাউসের ও লট ভট জরাজীর্ণ অবস্থা। দরজা জানালা ভাঙ্গা, বৃষ্টির পানিতে কামরা গুলি সয়লাব হয়ে গেছে।দেখার,যত্ন নেয়ার কেউ নেই। গণ মানুষের, নির্যাতিত, নিপীড়িতের ,অবিভক্ত বাংলার জাতীয় কবির প্রতি এই অবজ্ঞা কেন? তা ছাড়া পশ্চিম বাংলায় নজরুল গবেষণা নেই, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুল পাঠ্য নেই। জাতীয় কবি আজ জাতীয় বিদ্বেষের শিকার।এক মহা চক্রান্তের শিকার।

বাংলাদেশেও জাতীয় কবির বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে নজরুল গবেষক নাম ধারি একটি চক্র।এদের নেতা অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। তিনি ততকালিন সেনাবাহিনী প্রধান মইন ইউ আহম্মদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান ফখরুদ্দীন আহম্মদের সাথে চক্রান্ত করে নজরুল স্মৃতি সৌধ এলাকাকে গণ কবরস্থানে পরিণত করার প্ল্যান বাস্তবায়ন করছেন। ছত্রিশ হাজার বর্গ মাইলের বাংলাদেশ বাদ দিয়ে এখন নজরুল স্মৃতিসৌধ এলাকার ভিতরে হবে শিল্পাচার্যের সমাধিসৌধ। হবে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিসৌধ। একটি সমাধিসৌধ এলাকায় অন্যদের নামে বহু সমাধিসৌধ পৃথিবীতে কোথাও আছে? জাতীয় কবিকে খাট করার এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে। নজরুল বাংলাদেশের জাতীয় কবি।বাংলাদেশের স্বপ্ন দ্রষ্টা কবি। বাংলা দেশের জন গন কে তাদের সুখে দুখে প্রতিবাদ সংগ্রামে বার বার তাঁর কাছে যেতে হবে।আসুন আমরা সবাই মিলে প্রতিবাদ করি।