ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আজকের প্রথম আলোতে মহিউদ্দিনের দরকষাকষি পড়ে মনে হল এই দেশে মীরজাফর একবার জন্ম গ্রহণ করেনি । যুগ যুগ ধরে বহু মীরজাফর এসেছে । কিছুদিন আগে টিপাইমুখের বাঁধ নিয়ে লিখেছে আর আজকে ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক কেমন হবে তা নিয়ে ।

তার লেখা পড়ে যা বুঝা গেল ,
১৯২০-এর দশকে হসরত মোহানির প্রস্তাব অনুযায়ী, যদি এ অঞ্চলে একটি ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র (ইউনাইটেড স্টেটস অব ইন্ডিয়া) গঠন করা যেত , কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়াল নাকি আমাদের হিন্দু মুসলিম নেতারা । আসলে কি তাই , হিন্দু মুসলিম বিভাজন তো হিন্দু মুসলিমের করা না , করেছিল ব্রিটিশরা ।

লেখার মাঝেখানে লিখলেন ,
আমি মনে করি, আমাদের সামনে তিনটি বিকল্প খোলা আছে। প্রথমত, আমরা ভারতকে বুঝিয়ে বলতে পারি, আমরা তোমাদের বন্ধু। আমরাও তোমাদের বন্ধুতা চাই। তোমরা এমন কোনো কাজ কোরো না, যাতে আমাদের ক্ষতি হয়। আমরাও এমন কিছু করব না, যাতে তোমাদের ক্ষতি হয়। এটাই সম্ভবত সবচেয়ে উত্তম বিকল্প। কিন্তু এটা কাজ করছে না। এ জন্য দুটো দেশই দায়ী। তবে বিতর্ক হতে পারে, কে বেশি দায়ী, কে কম দায়ী।

দ্বিতীয় বিকল্প হচ্ছে, আমরা ভারতের করুণাপ্রার্থী হয়ে থাকব এবং ভারতের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রীতি ও কর্মসূচির আওতায় উপগ্রহের মতো বিরাজ করব। মাঝেমধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচি করব, আবার তাদের ব্যবস্থাপত্র মেনে নেব।

তৃতীয় বিকল্প হলো, আমরা এমন একটি রাষ্ট্র হয়ে উঠব, যখন ভারত আমাদের সমীহ করবে এবং আমাদের ঘাঁটাতে সাহস করবে না। অর্থাৎ আমাদের হয়ে উঠতে হবে এ অঞ্চলে ইসরায়েলের মতো। ইসরায়েলের যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি মুরব্বি আছে, আমাদেরও তেমন মুরব্বি দরকার। বাংলায় একটি প্রবচন আছে, ছাগল নাচে খুঁটার জোরে। আমাদের ওই রকম একটি খুঁটা দরকার। ‘কোথায় পাব তারে?’

আমার আপত্তি হল , ভারতকে আমরা বুঝাব , বড় ভাই আপনারা আমাদের বন্ধু তাই আমাদের গুলি করবেন না ? ভারত আমাদের মানুষ মারবে দোষ আমাদের ? ছাগল নাচে খুঁটার জোরে । আমরা বাঙ্গালীরা কি আপনার চোখে ছাগল হয়ে গেলাম যে আমাদের খুঁটা খুজতে হবে ?

সবশেষে বললেন , পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে জেনারেল এরশাদের হুংকারকে স্ট্যান্টবাজি বললেন । একথা বলার সাহস কোথায় পেল সে ? আর বললেন আমাদের কূটনৈতিক ভাষা শিখতে হবে, কূটনৈতিক সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই । ভারতের সাথে এত গুলো আলাপ আলোচনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পর ও মানুষ মারা , আমাদের কূটনৈতিক সক্ষমতার দোষে নাকি ভারতের আগ্রাসী মনোভাব ?

মহিউদ্দিন কার স্বার্থে এই লেখা লিখেছে? যেখানে আমাদের কে ছাগল হতে বলে। কী কূটনৈতিক সক্ষমতা অর্জন করতে বলে? প্রচুর টক শো, মানববন্ধন আর শোভাযাত্রা করে আমাদের অবস্থান পাল্টাতে পারব না, তাহলে কি আমার প্রতিবাদ করাও ঠিক হবে না?