ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

কিছুদিন আগে লং ড্রাইভে গিয়ে মরু ঝড়ের ভিতর পড়ে গেলাম । খুব সাবধানে গাড়ি চালাইতেছি , লেনে আশপাশে সব গাড়ির সাথে তাল মিলাতে গিয়ে গাড়িটা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি গতিতে চালাতে হচ্ছে । ঝড়ের কারণে রাস্তার ৩টি লেনেই গাড়ির আনাগোনা । তাই ইচ্ছা থাকলেও গাড়িটি বেশি ধীরে চালাতে পারছিনা । এর মাঝে দেখি রাস্তার উপর একটা বড় লোহার টুকরা পড়ে আছে । আমি অনেক চেষ্টা করেও গাড়িটা থামাতে না পেরে লোহার উপর তুলে দিলাম । সাথে সাথে সমানের ১ খানা চাকা পাঞ্চার । আমার গাড়িতে অতিরিক্ত চাকা থাকলেও জগটা ছিল না । কি আর করব পুলিশকে ফোন করলাম , থানা থেকে বলল আমাদের টহল টিম ১০ মিনিটের মধ্যে আসিতেছে । কিছুক্ষণ পরে দেখি পুলিশের গাড়ি এসে হাজির । এতদ্রুত আসছে দেখে যতটুকু না অবাক হয়েছি তার চেয়ে বেশি অবাক হলাম থানার ওসিকে দেখে । তিনি দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন আমি ঠিক আছি কিনা । আমি আই এম অল রাইট বলার পরে , তিনি গাড়ির কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার গাড়িতে চাকা আছে ? আমি হা, সূচক জবাব দেবার পর দেখি আমার গাড়িতে চাকা পুনস্থাপন শুরু করে দিলেন । ধন্যবাদ দিয়ে বললাম , আমি চাকা লাগাতে পারব । তাঁর জবাব, তুমি ক্লান্ত – চাকা আমরা লাগবো। হাসি মুখে বললেন আমাদের কাজে বাঁধা দিও না । অন্য এক পুলিশ গাড়ি থেকে এক বোতল পানি নিয়ে এসে বলল এইটা তোমার জন্য। তখন আমি অবাক হয়ে শুধু ভাবছি ২০১০ এ দেশের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা ।

২০১০ এ সিরাজগঞ্জ থেকে ফেনী যাওয়ার পথে রাত ২.৫০ মিনিটে কুমিল্লা মিয়া বাজারের কিছুদুর আগে আমাদের গাডির স্টাট বন্ধ হয়ে যায় । ড্রাইভার অনবরত ভিন্ন, ভিন্ন উপায়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন গাড়ি স্টাট করতে । এর মাঝে পুলিশের গাড়ি এসে হাজির । পুলিশ দেখে খুব খুশি হয়ে তাদের কাছে গেলাম ধন্যবাদ জানাতে । ওরা গাড়ি থেকে না নেমে আমাদের ড্রাইভারকে ধ্মকের স্বরে ডেকে পাঠালেন । একটু পরে ড্রাইভার এসে বলল, ভাই মামুরা টাকা চাইতেছে এবং টাকা না দিলে ওদের গাড়িতে রাখা ২০০ বোতল ফেন্সিডিলের মামলা আমাদের নামে ঠুকে দিবে । আর সকাল বেলায় মিডিয়ার লোক ডেকে আমাদের ইজ্জত উদ্দার করবে । আমি আর দেরী না করে , ভিক্ষুকের ভিক্ষা আদায় করে দুনিয়াবি জামেলা থেকে নিজেকে উদ্ধার করলাম ।

আজকে এইখানে , পানির বোতলের মুখ খুলছি আর ভাবছি আমার দেশের পুলিশ আমার বিপদে এসে মাথা ব্যাথার কারণ হয়েছিল । অথচ কাতারের পুলিশ আমার গাড়ির চাকা লাগিয়ে দিতেছে । সে সময়ে বিদেশী পুলিশের সেবায় আমার হৃদয়ের একপাশে আনন্দের বন্যায় ভাসিলে ও অন্য পাশ ভাসিতেছে জলন্ত আগ্নেয়গিরির লাভায় । বারেবারে শুধু এক প্রশ্নে নিজেকে প্রশ্নবিদ্ধ করিলাম , কেন আমি আমার দেশের পুলিশকে নিয়ে গর্ব করিতে পারি না ?