ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

প্রকৃত পক্ষে বামপন্থি বলতে সাম্যবাদি, বাস্তববাদি মুক্তমনা ও প্রগতিশীলদের রাজনৈতিক দ্বারাকে বুঝায়। বামপন্থি দ্বারার রাজনীতিতে সম্পৃক্তরা মূলত কর্মে বিশ্বাস করে। তাদের মতে যেমন কর্ম তেমন ফল। তাদের উদ্দেশ্য হল সমাজতন্ত্র প্রিতষ্ঠা করা। তাদের লড়াই সংরাম পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে। বামপন্থিরা কাল মার্কস ও লেনিনদের আদর্শ লালন করে। অপর দিকে জামাতিদের লক্ষ হল এক আল্লাহকে বিশ্বাস করা। কোরআনের আলোকে শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা। জামাতিরা ইসলাম রক্ষার নামে জাহাদ করতে পিচ পা হয় না।

এটাই হল এই দুই পন্থির মূল আদর্শ। কিন্তু বাস্তবে কোন পন্থিই মূল আদর্শে নেই। যেমন বামপন্থি নাম ধারন কারিরা তাদের রাজনৈতিক দ্বারার আদি পিতাদের নামের মুখোশ পরিধান করে। বর্তমান বামপন্থিরা মুখে বড় বড় কথা বলে, মিছিলে সুন্দর সুন্দর শ্লোগান দেয়। যেমন– ‍‍”দুনিয়ার মজদুর এক হও লড়াই কর, কেউ খাবে তো কেই খাবে না-তা হবে না তা হবে না, বাচাও গরীব বাচাও দেশ” আরো কত কি। মূলত এটা তাদের মুখের কথা।

আসলে তারা মনে মনে অন্তর থেকে বলে “দুনিয়ার সব পুঁজিবাদ এক হও এগিয়ে চল, ভাগের উপর ভাগ বসাবে এমন সুযোগ কেইবা দিবে, পুঁজিবাদি বাঁচিলে কামের কাম হইবে, দেশ বাঁচানোর দরকার নাই পুঁজিবাদিরা এগিয়ে যাই” ইত্যাদি-ইত্যাদি।

এর কারন হল বর্তমানে যে কোন একজন বামপন্থি দ্বারার রাজনৈতিক ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে, উনি আস্তো একটা মুখোশ পড়া ভালো মানুষ। মুখোশের আরালে চলছে অনৈতিক-পুজিবাদি কার্যকলাপ। সাধারান মানুষের পাশে দাঁড়ানো দূরের কথা সুযোগ পেলে গরিবের পেটে লাথি মারে। মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমস্যা গুলোতে উস্কানি দিতে তাদের ভালো লাগে। স্বভাবের ভাব খানা এই ছন্দে বলা যায়–” চোর কে বলে চুরি কর, মালিককে বলে জাগিয়া থাক”। লোক দেখানো কাজের কোন শেষ নাই। জনসম্মুখে বসে কত সুন্দর করে ফেরেস্তার মত কথা বলে। অথচ নিজের ঘরের সমস্যা সমাধান করতে পারে না। যারা চায় গোটা রাষ্ট্রে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে তাদের নিজেদের ঘরেই তা অনুপস্থিত। ঘরের কাজের মেয়ে হয় তার কুতশিত লালশার শিকার। পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে করে অশালীন আচরণ ও অসভ্য ভাষার ব্যবহার। ধরে নিতে পারেন সেই রাজা বাদশাদের আমলের অত্যাচারি রাজা বৈকি। নিজের মেয়েকে বিদ্যালয়ে পাঠায় না ছেলের পড়ালেখার খরচ দেয় না। বাহিরে আবার দান-খয়রাতও করে, নারীর অধিকার নিয়ে কথাও বলে। ঘরে এসে নিজের বউয়ের উপর অত্যাচার করে। সামান্য উদ্দেশ্য খুজে হাত তুলে লাতিও মারে। লোক দেখানোর জন্য নামাজ পড়ে, কিন্তু রোজা রাখে না। কোন মুসলমান ধর্ম নিয়ে কথা বললেই জামাতি বলে গালি দেয়। দুনিয়ার মজা দুনিয়াতেই নিতে চায়, আখিরাতের প্রয়োজনিয়তা আছে বলে মনে করে না। এই হল আমাদের সমাজের বামপন্থিদের বাস্তবতা। এরাই অনেক সময় সমাজে বিচারকের ভূমিকা পালন করে। অনেক সুন্দর করে কথা বলে। এদের কথা শোনলে বুজা যায় আহারে এর মত ভালো মানুষ আর হতেই পারে না।

এবার আমরা একটু নজর দেই জামাতিদের দিকে। বাংলাদেশে ইসলামের ব্যাখ্যা একমাত্র জামাতই দিতে পারে। প্রয়োজনে তারা নিজেদের মত ফতোয়া নাজিল করে কোরআনের ব্যাখ্যা দিবে। আসলে তারা ইসলামকে পুঁজি করে ধর্ম ব্যবসায় লিপ্ত হয়েছে। ইসলামের লিজ শুধু মাত্র তারাই আনতে পেরেছে। আমার মতে ইসলাম মানে তারা জিহাদই মনে করে। কিন্তু ইসলাম যে শান্তির ধর্ম ওরা বোধহয় জানে না। জানলে কি আর মানুষের রগ কাটতো! আতংক সৃষ্টি করতো বোমা মারতো! বোমা তৈরী করতো! চলন্ত গাড়ীতে আগুন দিত! মানুষ পুড়িয়ে মারতো! দেশি-বিদেশি অস্ত্রের ব্যবহার ও জঙ্গি প্রশিক্ষণ দিত! আন্তর্জাতিক জামাতের বাংলাদেশি শাখা জামাতের জন্য এটা নতুন কিছু নয়। ওরা নারীদের গৃহবন্দি করে রাখতে চায়। তাদের মতে নারীরা স্বামীর ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে থাকবে এবং সংসারিক কাজকর্ম করবে। নারীদের পড়ালেখার কী দরকার! নারীদের স্কুল কলেজে যাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। আসলে বাস্তবতা হল ওরা দেখে কিন্তু বুঝতে যেমন চায় না, তেমনি প্রয়োজনে ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্যা দিতেও ভুল করে না।

আমি মনে করি বাংলাদেশে বাংলাদেশে বামপন্থি ও জামাতি যারা আছে সবাই এক আদর্শের অনুসারি। বামপন্থিদের ভাবনা মতে ইসলাম নিয়ে একটু বেশি কথা বললেই সে জামাতি। জামাতিদের ভাবনা  মতে একটু আধুনিক হলেই হেতে তো পুরাটাই নাস্তিক। আসল কথা হল এদের বেশি বাড়াবাড়ির বহিঃপ্রকাশ। আমরা এর প্রতিকার চাই।