ক্যাটেগরিঃ শিল্প-সংস্কৃতি

বাংলা বছরের প্রথম মাস হলো বৈশাখ। পয়লা বৈশাখের প্রথম দিন মানে বাংলা নববর্ষ বাঙালির জন্য খুবই আনন্দের ও উৎসব মুখোর একটি দিন। এই দিন বাঙালিরা চায় নিজেদের ঐতিহ্যপূর্ন বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে। ব্যবসায়ীরা ঐ দিন হালখাতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। হালখাতা মানে পুরাতন বছরের হিসাব শেষ করে নতুন বছরের হিসাব শুরু করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ঐ দিন খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এর সাথে যুক্ত থাকে পান্তা ইলিশ খাওয়া। কথায় আছে মাছে ভাতে বাঙালি। আর আমাদের জাতীয় মাছ ইলিশ, তাই আমরা বাঙালিদের প্রধান ঐতিহ্য হলো পান্তা ইলিশ খাওয়া। তাছাড়াও বাঙালিরা আরো অনেক আচার অনুষ্ঠান ও খেলাধুলার আয়োজন করে। যেমন- কাবাডি, ডাংগুলি, ডাউসবুড়ি, ডাংগুট্টি, গুল্লাছুট, চাকা উড়ানো, বর্শি ছোঁড়া ও ফুটবল খেলা ইত্যাদি খেলাধুলা এবং রথযাত্রা, বৈশাখি র‌্যালি, ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি।

১লা বৈশাখের আকর্ষণীয় যে বিষয়টা হলো বাঙালি ছেলেমেয়ে বা রমণ-রমণীদের বাহারি ডিজাইনের সাজগোজ করা। মেয়েরা পড়ে বৈশাখি শাড়ি, পায়ে দেয় নূপুর, নাকে দেয় দুল, হাতে রেশমি চুড়ি এক কথায় বলে বাঙালি সাজ। ছেলেরা পড়ে ধুতি, ফতুয়া লুঙ্গী, পাঞ্জাবি, গলায় ঝুলায় গামছা আরো কত কি! সুতরাং সবাই চায় এই দিনটিকে সব বাধা পেড়িয়ে সব সীমা ছাড়িয়ে বাঙ্গালি ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তুলতে। এটাই হলো নিজস্ব ঐতিহ্যের বহি:প্রকাশ।

এখন কথা হল বাংলাদেশে বসবাসরত সবাই কি বাঙালি? আমি মনে করি না! কারন বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলমান, খৃষ্টান, গাড়ো, সাঁওতাল সবাই বসবাস করে এবং বাঙ্গালি হচ্ছে সবার জাতীয় পরিচয়। এটা কেউই অস্বীকার করার কিছু নেই। কিন্তু যারা ১লা বৈশাখ পালন করা হিন্দুয়ানি সংস্কৃতি বলে তাদের আমরা কিভাবে বাঙালি হিসেবে মেনে নেই? আমার মনে হয় এভাবে যারা বলে তাদের বাংলাদেশে থাকার কোন অধিকার নেই। তাদের জন্য আমার পরামর্শ হলো তারা যেন অন্য কোন দেশে চলে যায়। আর এই দেশে থাকলে আমার ঐতিহ্য বাঙালিত্ব নিয়ে যেন কোন কটুক্তি না করে।

সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা, শুভ নববর্ষ।