ক্যাটেগরিঃ শিল্প-সংস্কৃতি

পয়লা বৈশাখ বাঙালির একটি জাতীয় উৎসব। এই দিন বাঙালি ঐতিহ্যের সাথে জড়িত খেলাধূলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র‌্যালি ইত্যাদির মাধ্যমে আনন্দ করা, মজা করা, দোষের কিছু নয়। তবে ঐ দিন যারা ১লা বৈশাখকে কেন্দ্র করে অশালীন আচরন করে, নেশা করে, সংস্কৃতির অপব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা নেয়া হোক। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের অপরাধমূলক আচরণ না করে সেই জন্য কঠিন শাস্তি দেয়া হোক। অপসংস্কৃতি ভালো নয়। অপসংস্কৃতির প্রভাব সমস্ত জাতির উপর পরে। তাই সবাই সচেতন ভাবেই তা প্রতিরোধ করতে হবে। অপরাধিরা কিন্তু সংখ্যায় বেশি নয়। আমরা সবাই এক হয়ে চাইলেই তাদের বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা নিতে পারি। তাদের অপরাধ প্রবনতা বন্ধ করতে যা করা প্রয়োজন তাই করতে পাড়ি। কিন্তু করা হচ্ছে না।

 

আমাদের সমাজে এই ধরনের অপরাধ প্রবনতা নতুন কিছু নয়। প্রতিনিয়ত অপরাধিরা অপরাধ করছে। অপরাধ অনুযায়ী কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলেই আজ অপরাধিদের অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নানা ধরনের অপরাধ জর্জরিত আমাদের সমাজ। ঘুষ, দুর্নিতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, আইনের অপব্যবহার, সংস্কৃতির অপব্যবহার, খুন, ধর্ষণ, চাদাবাজি, বোমাবাজি, যৌতুক, বাল্যবিবাহ আরো কত অপরাধ বলে শেষ করা যাবে না। আমাদের সমাজ থেকে সব ধরনের অপরাধ দূর করতে হবে। অপরাধ মুক্ত সমাজ গড়তে হবে। অপরাধ মুক্ত সমাজ গড়ার দায়ভার শুধু সরকারের পক্ষে সম্বব নয়। আমাদের কেও সচেতন হতে হবে। যার যার অবস্থান থেকে সপথ নিতে হবে———–

“আমি বাঙালি, আমি কোন অপরাধমূলক কাজ করব না। আমার চোখের সামনে অন্য কাউকে অপরাধমূলক কোন কাজ করতে দেব না, বাংলাদেশকে দুর্নীতি মুক্ত করব, আদর্শ বাংলাদেশ গড়ে তুলব, বাঙালি জাতীয়তা ও বাঙালি চেতনা লালন করব, দেশকে ভালোবাসবো। আমিন”

 

সরকারকেও অপরাধ প্রবনতা দূরিকরণে উন্নয়নমুখি পদক্ষেপ নিতে হবে। যেমন —— •

১. বেকারত্ব দুর করা

২. আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠা করা

৩. শাসন বিভাগ রাজনীতি মুক্ত রাখা

৪. সচেতনতা মুলক বিজ্ঞাপন প্রচার করা

৫. উন্নয়ন মুখি বিভিন্ন প্রশিক্ষনের আয়োজন করা

৬. দারিদ্র্য দুরি করন করা

৭. অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রদান করা

৮. কর্মসংস্থান তৈরি করা

৯. অপরাধি দের আইন অনুযাই শাস্তি দেয়া

সর্বপরি দেশ ও জাতির উন্নয়নের জন্য নিজেস্ব সংস্কৃতি ও জাতীয় চেতনা লালন করেত হবে। মনে রাখতে হবে আমরা গর্বিত বাঙ্গালি। আমরা ভাষার জন্য প্রান দিয়েছি। যার ফলে বিশ্ব আজ ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করছে।

 

বাংলার অনেক খেলা প্রায় বিলুপ্ত হতে যাচ্ছ। যেমন সাতচার, তেলিবাস, ডাংগুটি, ইটিমিটি, কুতকুত ইত্যাদি। আমাদেরকে তা তুলে ধরেত হবে বিশ্ব দরবারে। এর যে কোন একটি খেলা যদি আন্তর্জাতিক মর্যাদা পায়, সেটাইতো আমাদের সফলতা। তো আসুন সবাই বাঙালি হই, বাঙালি চেতনা লালন করি।