ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

 

সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় অবস্থিত রবিরবাজার। এই বাজারটি মৌলভী রবি খাঁর নামের অনুসরনে এর নামকরণ করা হয় রবিরবাজার। রবিরবাজারের ইতিহাস ও ঐতিহ্য অনেক পুরানো। খোজ নিয়ে এর সঠিক কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে রবিরবাজারের আয়তন উত্তর-দক্ষিণে প্রায় তিন কিলোমিটারেরও বেশি, পূর্বে প্রায় এক কিলোমিটার ও পশ্চিমে বিজলি পর্যন্ত বেড়েই চলছে। রবিরবাজারে প্রায় ১৫ শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। রয়েছে ব্যাংক, বিমা, এনজিও প্রতিষ্ঠান সহ নানা অফিস। আরো রয়েছে একটি অনলাইন পত্রিকা ও একটি পত্রিকা অফিস।

রবিরবাজার কুলাউড়া উপজেলার অন্যতম বৃহৎ বাজার পৃথিমপাশা ইউনিয়নে অবস্থিত। রবিরবাজার কে লংলা অঞ্চলের রাজধানী বলা হয়। রবিরবাজারের সাথে রক্ত মাংসে জরিত ৬টি ইউনিয়ন হলো—পৃথিমপাশা, কর্মধা, রাউৎগাঁও, টিলাগাঁও, হাজিপুর ও শরীফপুর। এই এলাকার বাসিন্ধা ছাড়াও এই বাজারে প্রতি দিন বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতা বিক্রেতারা আসেন। এই বাজারে সব ধরনের মালামাল পাওয়া যায়। এমন কোন জিনিস নেই যে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে কাঁচা বাজার, কুটির শিল্প ও ফার্নিচারের জন্য বিখ্যাত রবিরবাজার।

রবিরবাজারের ভিতরে প্রবেশ করার পর দিন নাকি রাত বুঝা যায় না। এখানে ২৪ ঘন্টা লোকজন থাকে। বর্তমানে গভীর রাতের ব্যবসার চাহিদা অনেকটা কমে এসেছে। এলাকাবাসির কাছ থেকে জানা যায় ৭১এর কারফিউ উপেক্ষা করে দিনরাত ব্যবসায়ীরা ব্যবসা চালু রাখতো। গত সেনা শাসনামলেও অনেক টহল দিয়ে রবিরবাজারের রাত্রের হাট বন্ধ করতে পারেনি।

ঐতিহ্যবাহি এই রবিরবাজারে ঐতিহ্যবাহি একটি মসজিদ রয়েছে। রবিরবাজার জামে মসজিদ সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের কাছে প্রিয়। মসজিদটি আয়ের দিক দিয়ে বিশ্বের মধ্যে সেরা। প্রতি সপ্তাহে মসজিদের পিলারের বাক্স হতে পাওয়া যায় সোনা, রোপা, বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও টাকা মিলিয়ে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা। বাজারের বিশাল আয়তন দখল করে আছে এই মসজিদ। বর্তমানে মসজিদের নতুন ভবন নির্মান কাজ চলছে। প্রায় ১০ হাজার মুসল্লি/সাহাবি এক সাথে নামাজ আদায় করার লক্ষে নির্মিত হচ্ছে নতুন ভবন। তাছাড়াও মসজিদের রয়েছে অনেক সম্পদ। জমিজমাসহ এই বাজারে রয়েছে একটি বিশাল মার্কেট। রবিরবাজার জামে মসজিদের জমানো টাকার মুনাফা দিয়ে এলাকার উন্নয়নশীল মসজিদ গুলোর বার্থরোম নির্মানের জন্য আর্থিক প্রায় ৭০ হাজার টাকা করে অনোদান দেয়া হয়।

রবিরবাজারে রয়েছে অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩টি একাডেমিক স্কুল, একটি জুনিয়র বালিকা স্কুল, একটি স্কুল এন্ড কলেজ( আলী আমজদ স্কুল এন্ড কলেজ) ও একটি ডিগ্রি কলেজ( লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজ)।